খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ১০ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রাম-৬ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীের জামিন নিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে (আইসিটি) এক গুরুতর বিতর্ক উন্মোচিত হয়েছে। এ ঘটনায় প্রকাশিত হোয়াটসঅ্যাপ রেকর্ডিং অনুযায়ী, ট্রাইব্যুনালের একজন প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার তাঁর পরিবারের কাছে জামিনের বিনিময়ে এক কোটি টাকা চেয়েছিলেন।
ফজলে করিম চৌধুরীর বিরুদ্ধে জুলাই ২০২৪ সালে চট্টগ্রামে শিক্ষার্থীদের বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময়ে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা দায়ের করা হয়। ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি কারাগারে রয়েছেন। অভিযোগ অনুসারে, ওই ঘটনায় তিনজন নিহত হন, এবং পরবর্তী দুই দিনে আরও দুই জন নিহত হওয়ার ঘটনার সঙ্গে তাঁর সংশ্লিষ্টতা আনা হয়।
ফজলে করিম চৌধুরীর পরিবারের দাবি অনুযায়ী, সাবেক প্রসিকিউটর সাইমুম রেজা তালুকদার ২০২৫ সালের এপ্রিল থেকে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। রেকর্ডিংয়ে তিনি বলেন, “আমি ওয়ান ক্রোরের কথা বলেছিলাম” এবং অগ্রিম ১০ লাখ টাকার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করেন।
পরিবারের কথায়, তাঁরা কোনো টাকা দেননি, বরং প্রসিকিউটরের অসদাচরণ প্রমাণের জন্য কথোপকথন রেকর্ড করেন। এরপর আইসিটির তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম অভিযোগ সম্পর্কে অবগত হন এবং প্রসিকিউটরকে মামলাটি থেকে সরানো হয়।
সাইমুম রেজা তালুকদার একজন শিক্ষাবিদ হিসেবে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্যেষ্ঠ প্রভাষক ছিলেন এবং ইন্টারনেট গভর্ন্যান্স ও সিকিউরিটি বিষয়েও পরিচিত। আইসিটিতে নিয়োগ পাওয়ার আগে তাঁর মামলা পরিচালনার অভিজ্ঞতা সীমিত ছিল।
২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচনের পর নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে এবং চিফ প্রসিকিউটরের পরিবর্তন ঘটে। নতুন চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান আমিনুল ইসলাম। সাইমুম রেজা তালুকদার পুনরায় ফজলে করিমের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন এবং জামিনে সহায়তা করার চেষ্টা ও টাকা সংক্রান্ত বিষয় উত্থাপন করেন।
পরিবার রেকর্ড করেছে যে, মোট ২৬ বার সাইমুম রেজা তালুকদার তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন এবং অন্তত ১৪ বার ঘুষের বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তিনি বিভিন্ন সময় কিস্তিতে অর্থ গ্রহণের কথাও উল্লেখ করেছেন।
নিচের টেবিলে সংক্ষেপে আলোচিত বিষয়গুলো উপস্থাপন করা হলো:
| বিষয় | বিস্তারিত তথ্য |
|---|---|
| অভিযুক্ত | এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী |
| মামলার ধরন | মানবতাবিরোধী অপরাধ, জুলাই ২০২৪ হত্যাকাণ্ড |
| গ্রেপ্তার তারিখ | ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৪ |
| দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রসিকিউটর | সাইমুম রেজা তালুকদার |
| অভিযোগকৃত অর্থ | এক কোটি টাকা, অগ্রিম ১০ লাখ টাকা |
| যোগাযোগের সংখ্যা | মোট ২৬ বার, সরাসরি ও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে |
| আইসিটি প্রধান প্রসিকিউটর | ২০২৫: তাজুল ইসলাম, ২০২৬: আমিনুল ইসলাম |
| পরিবার কর্তৃক নেওয়া পদক্ষেপ | কথোপকথন রেকর্ড করা, আইনমন্ত্রীর কাছে রিপোর্ট করা |
পরিবার ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, প্রসিকিউটরের এই কর্মকাণ্ড এবং অর্থ দাবি আন্তর্জাতিক আদালতের স্বচ্ছতা ও নৈতিকতা বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে। প্রসিকিউটরের পদত্যাগের বিষয়টি ২০২৬ সালের মার্চে নিশ্চিত হয়েছে।
এ ঘটনা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ায় অনৈতিক প্রভাব ও সম্ভাব্য দুর্নীতির উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।