খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
চট্টগ্রাম মহানগরীতে এক শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানে এসএমজি (সাব-মেশিনগান), পিস্তল ও রিভলবারসহ দুর্ধর্ষ তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন যে, ধৃত ব্যক্তিরা দীর্ঘদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যে আত্মগোপনে থাকা চট্টগ্রামের ত্রাস সাজ্জাদ আলী ওরফে ‘বড় সাজ্জাদ’-এর ঘনিষ্ঠ সহযোগী। উদ্ধারকৃত এসব আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেই সম্প্রতি এক বিশিষ্ট ব্যবসায়ীর বাসভবনে গুলিবর্ষণ করে কোটি টাকা চাঁদা দাবি করা হয়েছিল। চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, উদ্ধার করা অস্ত্রের মধ্যে পিস্তল ও রিভলবারটি ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানের সময় থানা থেকে লুট করা হয়েছিল।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ, ২০২৬) চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালিয়ে পুলিশ এই তিন সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করে। গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন:
১. আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী ওরফে ইমন: চাঞ্চল্যকর বহদ্দারহাট আট হত্যা মামলার যাবজ্জীবন সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।
২. মোহাম্মদ মনির: খুন ও চাঁদাবাজিসহ ১০টি মামলার আসামি।
৩. মোহাম্মদ সায়েম: অস্ত্র ও ডাকাতিসহ ১০টি মামলার আসামি।
মঙ্গলবার রাতে নগর পুলিশ কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি নগরের চন্দনপুরা এলাকায় স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরীর বাসভবনে এক কোটি টাকা চাঁদা চেয়ে সন্ত্রাসীরা গুলি চালায়। তদন্তে জানা যায়, এই হামলায় বড় সাজ্জাদের নির্দেশে গ্রেপ্তারকৃত ইমন, মনির ও সায়েম সরাসরি অংশ নিয়েছিলেন।
তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, সন্ত্রাসীদের কাছে থাকা আগ্নেয়াস্ত্রগুলোর উৎস ভিন্ন ভিন্ন। নিচে উদ্ধারকৃত অস্ত্রের বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:
| অস্ত্রের ধরণ | সংখ্যা | প্রাপ্তিস্থান/উৎস | সংশ্লিষ্টতা |
| বিদেশি থ্রি-টু বোর রিভলবার | ০১টি (৯টি গুলিসহ) | পাহাড়তলী থানা (লুট হওয়া) | ব্যবসায়ী মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় হামলায় ব্যবহৃত |
| ব্রাজিলিয়ান টরাস নাইন এমএম পিস্তল | ০১টি | ডবলমুরিং থানা (লুট হওয়া) | ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থানা থেকে সংগৃহীত |
| সাব-মেশিনগান (SMG) | ০১টি (৫০টি গুলিসহ) | খাগড়াছড়ির পাহাড়ি সন্ত্রাসী গোষ্ঠী | অবৈধ পথে ক্রয়কৃত, খুলশী এলাকা থেকে উদ্ধার |
পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে আব্দুল কাইয়ুম ওরফে ইমন স্বীকার করেছেন যে, তারা বড় সাজ্জাদের নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে নগরীর বালুমহাল নিয়ন্ত্রণ, জমি দখল এবং বড় ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করে আসছিলেন। ইমনের মোবাইল ফোন থেকে একটি বিশেষ ভিডিও ক্লিপ উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে সাজ্জাদ গ্রুপের নতুন সদস্যদের একটি গোপন স্থানে আনুগত্যের শপথ নিতে দেখা যায়। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, বিদেশে বসেও সাজ্জাদ চট্টগ্রামে তার সশস্ত্র বাহিনীর বিস্তার ঘটাচ্ছেন।
অভিযানের ধারা বর্ণনা করতে গিয়ে পুলিশ জানায়, প্রথমে চকবাজার এলাকা থেকে ইমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পাঁচলাইশ ও বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে মনির ও সায়েমকে ধরা হয়। সবশেষে খুলশী এলাকা থেকে ৫০ রাউন্ড গুলিসহ শক্তিশালী এসএমজিটি উদ্ধার করা হয়, যা খাগড়াছড়ির একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী থেকে সংগ্রহ করা হয়েছিল বলে আসামিরা জানিয়েছেন।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র উদ্ধার এবং বিদেশে পলাতক অপরাধীদের নেটওয়ার্ক ধ্বংস করতে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে নতুন করে অস্ত্র ও চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তাদের রিমান্ডে নিয়ে আরও তথ্য সংগ্রহের প্রক্রিয়া চলছে। একই সাথে সাজ্জাদ আলীকে ইন্টারপোলের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনার আইনি প্রক্রিয়াও জোরদার করা হবে বলে তিনি জানান।