খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলায় ইটভাটা ব্যবসাকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে নানা অভিযোগ ও আলোচনা ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ইটভাটা মালিকরা অভিযোগ করেছেন, সাবেক উপজেলা উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ও তার পিতা বিল্লাল মাস্টার ঘনিষ্ঠ কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির মাধ্যমে এলাকার ব্রিকফিল্ড ব্যবসা এবং সরবরাহ চেইনে প্রভাব বিস্তার করছে জামায়াত নেতা জালাল হাজী।
স্থানীয় সূত্র জানায়, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ ক্ষমতা গ্রহণের কয়েক দিনের মধ্যে জালাল হাজী নিজের বাড়িতে একটি প্রীতি ভোজের আয়োজন করেন। ওই অনুষ্ঠানে সাবেক উপদেষ্টার বাবা বিল্লাল মাস্টার সহ স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, সেই সময়ের পরপরই জালাল হাজী মুরাদনগর উপজেলা ব্রিকফিল্ড মালিক সমিতির সভাপতি মনোনীত হন।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, জালাল হাজীর মাধ্যমে মুরাদনগরের বিভিন্ন ইটভাটা থেকে অবৈধভাবে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। একাধিক ব্যবসায়ী উল্লেখ করেছেন, ব্রিকফিল্ডের লেনদেনের সময় প্রায় অর্ধ কোটি থেকে কোটি টাকার চাঁদা দিতে হয়। এছাড়া গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ ও ফসলি জমির মাটি ব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
স্থানীয়দের মতে, জালাল হাজীর এই কর্মকাণ্ডে স্থানীয় প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক ব্যক্তিরা যুক্ত। তিনি স্থানীয় জামায়াত রাজনীতিতে সক্রিয় এবং সম্প্রতি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে নবীপুর এলাকার দুটি ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন ও নির্বাচনী তহবিলে অর্থ সহায়তা করেছেন।
অতি সম্প্রতি গোমতী নদীর বেড়িবাঁধ সংলগ্ন ব্রিকফিল্ড নিয়ে চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, নদীর বেড়িবাঁধের ভেতর থেকে মাটি কেটে এবং বালু উত্তোলন করে ইটভাটায় ব্যবহার করা হচ্ছে, যা বাঁধের স্থায়িত্ব ও নদী শাসনের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জালাল হাজীর নিজস্ব প্রতিষ্ঠান মদিনা ব্রিকফিল্ডের জন্য ফসলি জমির মাটি এবং নদীর তীরবর্তী বাঁধের মাটিও অবৈধভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। এই কর্মকাণ্ডে নজরুল, সালাউদ্দিন ও অন্যান্য প্রভাবশালী স্থানীয় নেতা ও রাজনৈতিক কর্মীদের অংশীদারিত্ব রয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ ও ঘটনাগুলোর সংক্ষিপ্ত চিত্র:
| বিষয় | অভিযোগ / ঘটনা | প্রভাব / ঝুঁকি |
|---|---|---|
| ইটভাটা লেনদেন | প্রতি লেনদেনে ৫০ লাখ থেকে ১ কোটি টাকা চাঁদা আদায় | ব্যবসায়ীদের আর্থিক চাপ ও অনৈতিক প্রভাব |
| ফসলি জমি ব্যবহার | মাটি সংগ্রহ ও ইটভাটায় ব্যবহার | কৃষি জমির উর্বরতা ক্ষয় ও স্থানীয় কৃষকের ক্ষতি |
| নদীর বেড়িবাঁধে মাটি কাটা | গোমতী নদীর বাঁধের ভিতর থেকে মাটি উত্তোলন | বাঁধের স্থায়িত্বহানি ও নদী শাসনের ঝুঁকি |
| রাজনৈতিক প্রভাব | নির্বাচনী তহবিল ও স্থানীয় রাজনৈতিক সংযোগ | স্থানীয় ক্ষমতার অপব্যবহার ও প্রভাব বিস্তার |
এ বিষয়ে অভিযুক্ত জালাল হাজীর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য নেই। তবে সচেতন মহল তদন্ত করে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে।
ফলে, মুরাদনগরের ইটভাটা ব্যবসা ও ফসলি জমি নিয়ে জালাল হাজীর কার্যক্রম স্থানীয় পরিবেশ, কৃষি ও অর্থনৈতিক ভারসাম্যের জন্য উদ্বেগজনক, যা প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ছাড়া নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন বলে মনে করা হচ্ছে।