খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 2শে চৈত্র ১৪৩২ | ১৬ই মার্চ ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
লক্ষ্মীপুরের রায়পুর উপজেলায় এক স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন শুকুন মিয়াজি। গ্রেফতারকৃত শুকুন মিয়াজি (৬০) ওই গ্রামের মৃত নুর ইসলাম মিয়াজির ছেলে এবং ৬ নাম্বার ওয়ার্ডের বিএনপি সভাপতি হিসেবে পরিচিত।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রোববার সকাল ১১টার দিকে ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী তার বাড়ীর সামনের দোকানে চাপাতি আনতে গেলে নির্জন স্থানে ওৎ পেতে থাকা শুকুন মিয়াজি তাকে ধর্ষণ চেষ্টা ও যৌন হয়রানি করেন। শিশুটি অবিলম্বে বিষয়টি তার পরিবারকে জানায়। পরে সন্ধ্যায় শিশুর খালা ভুক্তভোগীর পক্ষে এজাহার দায়ের করেন।
স্থানীয়রা রাত ১০টার দিকে শুকুন মিয়াজিকে আটক করেন এবং পুলিশকে খবর দেন। অভিযুক্ত শুকুন মিয়াজি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করে দাবি করেছেন, তিনি শুধুমাত্র ঈদ উপলক্ষে ছাত্রীকে ঈদের জামা দেওয়ার কথা বলেছিলেন। তিনি বলেন,
“শিশুর পরিবার গরিব। তার মা নেই। তাই আমি খোঁজখবর নিয়েছিলাম এবং মাথায় হাত বুলিয়ে বলেছি, তোমার জন্য ঈদের জামা রেখেছি। এতে আমি কোনো অপরাধ করিনি। উলটো এলাকার কিছু লোক ষড়যন্ত্র করে ওই পরিবারকে দিয়ে মিথ্যা মামলা করেছে।”
রায়পুর থানার ওসি শাহীন মিয়া জানান, ধর্ষণ চেষ্টার ঘটনায় ভুক্তভোগী শিশুর খালা বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযুক্তকে সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু হবে।
| বিষয় | বিস্তারিত |
|---|---|
| অভিযুক্ত | শুকুন মিয়াজি (৬০) |
| রাজনৈতিক পরিচিতি | ৬ নাম্বার ওয়ার্ড বিএনপি সভাপতি |
| ঘটনার স্থান | রায়পুর, লক্ষ্মীপুর |
| সময় | রোববার সকাল ১১টা |
| ভুক্তভোগী | স্কুলছাত্রী |
| মামলা দায়েরকারী | ভুক্তভোগীর খালা |
| পুলিশী পদক্ষেপ | স্থানীয়দের সহায়তায় রাত ১০টায় গ্রেফতার |
| আদালতের ব্যবস্থা | সোমবার সকালে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে প্রেরণ |
| অভিযুক্তের দাবি | অভিযোগ মিথ্যা, ঈদের জামা দেওয়ার উদ্দেশ্য ছিল |
এই ধরনের ঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ লক্ষ্য করা গেছে। শিশুদের নিরাপত্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংলগ্ন এলাকায় নজরদারির গুরুত্ব পুনরায়浮্প্রাণিত হয়েছে। স্থানীয়রা জানান, প্রাথমিক তদন্তে অভিযুক্তের রাজনৈতিক প্রভাব থাকায় এটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
শিশু অধিকার ও নারী নিরাপত্তা সংক্রান্ত আইন অনুযায়ী, ধর্ষণ চেষ্টা ও যৌন হয়রানির ঘটনায় দ্রুত আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। এই ঘটনায় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ সতর্কতা অবলম্বন করেছেন এবং আদালতের মাধ্যমে যথাযথ বিচার নিশ্চিত করতে উদ্যোগ নিয়েছেন।
রায়পুরে ঘটে যাওয়া এই ঘটনা শিশু ও নারী সুরক্ষার প্রয়োজনীয়তার প্রতি সতর্কবার্তা হিসেবে প্রতীয়মান হয়েছে। অভিযুক্ত রাজনৈতিক পরিচিতি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় জনগণ ও পুলিশ ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন, যা সমাজে ন্যায়বিচারের গুরুত্বকে পুনরায় জাগ্রত করেছে। শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি ও আইনি পদক্ষেপ অপরিহার্য।