খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬
ঢাকার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকায় কলেজ শিক্ষার্থী রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে হত্যার ঘটনায় দুটি আসামি আদালতে দোষ স্বীকার করেছেন। ঘটনার সঙ্গে যুক্ত অপর দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের চার আসামি—গোলাম রসুল শিহাব, সাগর কবির, রাফিন শেখ এবং শাহরিয়ার নাজিম জয়—এর গ্রেপ্তার ও জবানবন্দি সংক্রান্ত কার্যক্রম চলছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কামাল উদ্দীন তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালতে আসামিদের জবানবন্দি রেকর্ড ও রিমান্ডের আদেশ দেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই মো. মিঠু সরকার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, ঘটনার চার আসামির মধ্যে শিহাবকে শহীদ মিনার, সাগরকে পটুয়াখালী থেকে, এবং রাফিন ও জয়কে খুলনা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আদালতে হাজির হওয়ার পর শিহাব ও সাগর স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর দুই আসামির জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর হয়েছে।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, রিমান্ডের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র—পিস্তল ও চাইনিজ চাকু—উদ্ধার, ঘটনার মূল রহস্য উদঘাটন এবং পলাতক আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে। তারা আরও জানিয়েছেন, শিহাব ও সাগর প্রাথমিকভাবে স্বীকার করেছেন যে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী সালাউদ্দিনের নির্দেশে হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।
ঘটনার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
| তারিখ ও সময় | ঘটনা | স্থান | প্রাথমিক তথ্য |
|---|---|---|---|
| ১৭ মার্চ, রাত ৮:৩০ | মোটরসাইকেল পার্কিং করার পর রাকিবকে লক্ষ্য করে গুলি ও ছুরি দিয়ে আঘাত | শহীদ মিনার, ঢাকা | রাকিবকে রক্তাক্ত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে যায়; ৫–৬ জন হামলাকারী |
| ১৮ মার্চ | আসামিদের আদালতে হাজির ও জবানবন্দি রেকর্ড | ঢাকা | শিহাব ও সাগর দোষ স্বীকার; রাফিন ও জয় পাঁচ দিনের রিমান্ডে |
| ১৮ মার্চ | তদন্তের জন্য রিমান্ড আবেদন | ঢাকা | হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার ও পলাতক আসামি শনাক্তকরণ |
প্রসঙ্গত, নিহত রাকিব ২৫ বছর বয়সী এবং শেখ বোরহানুদ্দীন কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের স্নাতক শিক্ষার্থী ছিলেন। হত্যাকাণ্ডের পর তার বাবা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মচারী তরিকুল ইসলাম খোকন, শাহবাগ থানায় মামলা দায়ের করেন। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে, রাকিবকে আগে গুলি করা হয়, পরে ৫–৬ জন তাকে ছুরিকাঘাত করে। স্থানীয় পথচারীরা আহত রাকিবকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান, কিন্তু চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পলাতক অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং হত্যাকাণ্ডের পুরো প্রেক্ষাপট উদঘাটনের জন্য আইনানুগ প্রক্রিয়া অব্যাহত রাখা হবে।