খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
ফুটবল ইতিহাসে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করলেন আর্জেন্টাইন সুপারস্টার লিওনেল মেসি। বৃহস্পতিবার কনকাকাফ চ্যাম্পিয়নস কাপের একটি ম্যাচ চলাকালীন তিনি নিজের ক্যারিয়ারের ৯০০তম অফিসিয়াল গোল করে ইতিহাস গড়েন। এই মুহূর্তটি মেসির জন্য ব্যক্তিগতভাবে অসাধারণ হলেও, দলীয় দিক থেকে রাতটি তেমন সুখকর হয়নি। ইন্টার মায়ামি ১-১ গোলে নাশভিল এসসি-র সঙ্গে ড্র করে, এবং দুই লেগের সমতায় অ্যাওয়ে গোল নিয়মে বিদায় নিতে হয় মায়ামিকে।
ম্যাচের শুরুতেই মেসি মাঠে ঝড় তোলেন। প্রথম ১০ মিনিটের মধ্যে বক্সের ভেতর বল পেয়ে বাম পায়ে নিখুঁত শটে জাল খুঁজে দিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে ক্রিস্টিয়ান এসপিনোজা দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান। এর পর আর জয়লক্ষ্য গোল করতে পারেনি ইন্টার মায়ামি, ফলে দল কোয়ার্টার ফাইনাল থেকে বিদায় নেয়।
৯০০ গোলের মাইলফলক স্পর্শ করে মেসি এক বিশেষ তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। এই কীর্তি আগে গড়েছেন কেবল ক্রিস্তিয়ানো রোনালদো, যাঁর বর্তমান গোল সংখ্যা ৯৬৫ এবং যিনি ১০০০ গোলের লক্ষ্য নিয়েই খেলছেন।
মেসি এই মাইলফলক স্পর্শ করতে খেলার সংখ্যা ১১৪২, যেখানে রোনালদো খেলেছেন ১২৩৬ ম্যাচ। সর্বকালের তালিকায় তৃতীয় স্থানে রয়েছেন পেলে, যাঁর গোল সংখ্যা ৭৬৫। বর্তমানে খেলছেন এমন ফুটবলারদের মধ্যে রবার্ট লেভানদোস্কি ৬৯০ গোল করে অনেকটা পিছনে।
মেসির ক্লাব ক্যারিয়ারে গোলের বিস্তারিত বিবরণ নিম্নরূপ:
| ক্লাব/দল | গোল সংখ্যা | ম্যাচ সংখ্যা |
|---|---|---|
| বার্সেলোনা | ৬৭২ | ৭৯৫ |
| পিএসজি | ৩২ | ৭৮ |
| ইন্টার মায়ামি | ৮১ | ৬৯ |
| আর্জেন্টিনা | ১১৫ | ১৭০ |
মোট গোল: ৯০০
মোট ম্যাচ: ১১৪২
এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে যে মেসির দীর্ঘ ক্যারিয়ারের প্রতিটি ম্যাচে তিনি কতটা ধারাবাহিক ও ফলপ্রসূ ছিলেন। বার্সেলোনায় দীর্ঘ সময় কাটানোর পর, পিএসজি এবং ইন্টার মায়ামিতে খেললেও মেসির গোলের ধারাবাহিকতা কমেনি। জাতীয় দলের জার্সিতে ১১৫ গোল করে তিনি আর্জেন্টিনার ফুটবল ইতিহাসে অনন্য অবস্থান নিয়েছেন।
মেসির এই অর্জন শুধুই ব্যক্তিগত কীর্তি নয়; এটি ফুটবলপ্রেমীদের জন্যও উৎসবের মতো। বিশ্বের অন্যতম সেরা খেলোয়াড়দের সঙ্গে তিনি এখন কেবল রোনালদোর পাশে নয়, বরং ফুটবল ইতিহাসের অমর খেলোয়াড়দের শীর্ষ তালিকায়ও স্থায়ী স্থান করে নিয়েছেন। ৯০০ গোলের এই মাইলফলক তাকে নতুন লক্ষ্যগুলোর দিকে আরও অনুপ্রাণিত করবে, যা নিশ্চিতভাবে ভবিষ্যতের ফুটবল ইতিহাসে আলোড়ন সৃষ্টি করবে।