খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই রাজধানীর আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) এবং র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র্যাব) ব্যাপক প্রস্তুতি নিয়েছে। শহরে প্রায় ১৬ হাজার পুলিশ ও র্যাব সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন যাতে ঈদ উপলক্ষে ফাঁকা হয়ে যাওয়া রাজধানীতে অপরাধ ঠেকানো যায়।
সরকারি ছুটি ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত। এ সময়ে রাজধানী ছেড়ে অনেক মানুষ গ্রামে বা বিদেশে চলে যাচ্ছেন। ফলে ফাঁকা শহরে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি ও সোনার মার্কেটে ডাকাতির ঘটনা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এজন্য ডিএমপি ও র্যাব নিরাপত্তা জোরদার করে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও রাস্তায় তল্লাশি চৌকি বসিয়েছে।
ডিএমপি ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার বলেন, “ঈদের আগে ও পরে শহরের আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে রাখতে ১৫ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য কাজ করছেন। জরুরি প্রয়োজন ছাড়া পুলিশ সদস্যদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে। ঘরমুখী মানুষের ঢাকা ছাড়ার পরও বিপণিবিতান, আবাসিক এলাকা ও টার্মিনালগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।”
নিরাপত্তা জোরদারের জন্য স্পর্শকাতর এলাকা, সড়ক, বাসস্ট্যান্ড, রেলস্টেশন ও লঞ্চ টার্মিনালে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। ট্রাফিক পুলিশও অস্ত্রসহ দায়িত্ব পালন করছেন এবং হাতেনাতে ছিনতাইকারী ধরছেন।
ডিএমপি রাতের সময়ে আটটি অপরাধ বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ তিন পালায় মোট ৪,৫০০ সদস্য ৩০০টি পিকআপ ভ্যানে টহল দিচ্ছেন। এছাড়া হেঁটে তল্লাশি করছে ১,৫০০ পুলিশ সদস্য এবং মোটরসাইকেল টহল অব্যাহত রয়েছে।
অতিরিক্ত কমিশনার এস. এন. নজরুল ইসলাম বলেন, “পুলিশের মনোযোগ এখন দুটি জায়গায়—টার্মিনাল থেকে মানুষ যাতে নির্দ্বিধায় বাড়ি ফিরতে পারে এবং ফাঁকা আবাসিক এলাকায় চুরি ও সিঁধ কেটে প্রবেশ প্রতিরোধ করা। বড় মার্কেট ও সোনার মার্কেটে ডাকাতি ঠেকাতে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে।”
র্যাবও রাজধানীতে নিরাপত্তা দায়িত্বে রয়েছে। র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম. জেড. এম. ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, “রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত চুরি ও ছিনতাই বেড়ে যায়। তাই প্রতিদিন ৩০টির বেশি তল্লাশি চৌকি এবং ৫০টির বেশি টহল দল কাজ করছে। গুজব রোধে সাইবার মনিটরিং, টিকিট কালোবাজারি রোধে ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং মহাসড়কে ডাকাতি ঠেকাতে বিশেষ টহল দল সক্রিয়। প্রয়োজন হলে ডগ স্কোয়াড ও হেলিকপ্টারও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।”
নিচের টেবিলে রাজধানীর নিরাপত্তা পরিকল্পনার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| এলাকা | মোতায়েনকৃত পুলিশ/র্যাব | টহল/চৌকি সংখ্যা | বিশেষ ব্যবস্থা |
|---|---|---|---|
| বিপণিবিতান | ১,০০০+ | ৩০+ | রাতের টহল, সাদা পোশাকে নজরদারি |
| সোনার মার্কেট | ৫০০+ | ২০+ | বিশেষ নজরদারি, নিরাপত্তা গ্যাপ বন্ধ |
| আবাসিক এলাকা | ১,৫০০+ | ২৫+ | হেঁটে টহল, ফুট প্যাট্রল |
| রেলস্টেশন ও বাসস্ট্যান্ড | ৫০০+ | ১৫+ | অতিরিক্ত চৌকি, সাইবার মনিটরিং |
| লঞ্চ টার্মিনাল | ৫০০+ | ১০+ | ডাকাতি প্রতিরোধ, ভ্রাম্যমাণ আদালত |
ঈদের সাত দিনের ছুটিতে ঢাকা শহরের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা করতে ডিএমপি ও র্যাবের এই প্রস্তুতি নগরবাসীর শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।