ঢাকা থেকে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে পেট্রোল পাম্পে তেলের ঘাটতি তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে পেট্রোল ও অকটেনের চাহিদা মেটানো কঠিন হয়ে উঠেছে, যদিও ডিজেল এখনও সরবরাহ করা হচ্ছে। পরিস্থিতি এমন যে মোটরসাইকেল চালকরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে তেল নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
ঢাকা থেকে ভৈরবের উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেলে রওনা দিয়েছিলেন মোশাররফ হোসেন। তিনি জানান, তিনি ৩০টির বেশি পাম্পে ঘুরেও তেল পাননি। শেষ পর্যন্ত নরসিংদীর একটি পাম্প থেকে মাত্র ৩০০ টাকার তেল নিতে সক্ষম হন। ঢাকার অধিকাংশ পাম্পে সোমবার সকাল থেকে তেল পাওয়া যায়নি, যা রোববারও প্রায় একই ছিল।
পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নাজমুল হক বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছেন, “ব্যাংক বন্ধ থাকায় মালিকরা পে অর্ডার করতে পারেননি, ফলে তেল তোলা সম্ভব হয়নি। মঙ্গলবার ব্যাংক খোলার পর আশা করা যায়, বুধবার থেকে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে।”
বৈশাখী পরিবহনের বাস মালিক ইমরান হোসেন বলেন, “সংকট মূলত পেট্রোল ও অকটেনে। ডিজেল পাওয়া যাচ্ছে এবং রাস্তাতেও কোনো সমস্যা হয়নি।” ঠাকুরগাঁও মোটর মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরীও জানান, “ডিজেলে কোনো সংকট নেই। তবে কয়েকদিন ধরে পেট্রোল ও অকটেন পাম্পে পাওয়া যাচ্ছে না, যা মোটরসাইকেল চালকদের জন্য সমস্যার কারণ হচ্ছে।”
রোববার রাতে পেট্রোল পাম্প ওনার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশনের ফেসবুক পেজে সতর্কবার্তা প্রকাশ করা হয়। সেখানে বলা হয়, “দেশের কোটি কোটি মোটরসাইকেল ব্যবহারকারী তেল নিতে এসে দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লান্ত ও বিরক্ত হয়ে পড়ছেন। পাম্প কর্মীরাও এই চাপ সামলাতে পারছেন না।”
সর্বশেষ সোমবার দুপুর থেকে ঢাকার ট্রাস্ট পাম্প, আসাদ গেটের সোনার বাংলা, রমনা পেট্রোল পাম্পসহ কিছু পাম্পে তেল সরবরাহ শুরু হয়েছে। এদিকে, গত ৬ মার্চ থেকে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং ক্রেতাদের অতিরিক্ত চাহিদার কারণে সরকার পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের বিক্রয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছিল। পরে ১৪ মার্চ ঈদের আগে এই রেশনিং ব্যবস্থা তুলে নেওয়া হয়।
দেশজুড়ে পাম্পে তেলের পরিস্থিতি (সারণি)
| জেলা/এলাকা |
পেট্রোল সমস্যা |
অকটেন সমস্যা |
ডিজেল সমস্যা |
মন্তব্য |
| ঢাকা |
তীব্র |
তীব্র |
নেই |
সোমবার থেকে কিছু পাম্প খোলা |
| নরসিংদী |
মাঝারি |
মাঝারি |
নেই |
সীমিত সরবরাহ |
| ঠাকুরগাঁও |
সীমিত |
সীমিত |
নেই |
মূলত মোটরসাইকেল চালক প্রভাবিত |
| অন্যান্য জেলা |
ভিন্নভাবে |
ভিন্নভাবে |
নেই |
কিছু পাম্পে সরবরাহ শুরু হয়েছে |
অতিমাত্রায় ক্রেতাদের চাপ এবং ব্যাংক বন্ধ থাকার কারণে এই তেল সংকটের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক খোলার পর আশা করা হচ্ছে দেশে তেলের সরবরাহ আবার স্বাভাবিক হবে।