খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: একুশের বইমেলার নবম দিন গতকাল রোববার লোকসমাগম ছিল কম। ফলে বই বিক্রিতেও ছিল ভাটা। সাধারণত মেলার প্রথম দিকে কর্ম দিবসগুলোতে বইপ্রেমিদের উপস্থিতি কম থাকে। তবে দিন যত গড়াবে লোকসংখ্যার ,নতুন বইয়ের প্রকাশনা ও বিক্রিও বাড়বে বলে প্রকাশকেরা আশা করছেন।
গতকাল ( ৯ ফেব্রুয়ারি) মেলায় নতু বই এসেছে ৯৭টি। উল্লেখযোগ্য বইগুলোর মধ্যে বিশিষ্ট অভিনেতা আবুল হায়াতের জীবনী ‘রবি পথ’ প্রকাশ করেছে সুবর্ণ প্রকাশনী। প্রথমা এনেছে শিবব্রত বর্মনের উপন্যাস শোধ, সাহিত্য কথা এনেছে ইতিহাস বিষয়ক ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে ঢাকা’,মূল লেখক নাঈম হক,অনুবাদ নাদিরা মজুমদার, অন্য প্রকাশ এনেছে আশরাফ কায়সারের কবিতা ‘গাছ নেই ছায়া পড়ে আছে’, অনন্যা এনেছে আনজীর লিটনের ‘নির্বাচিত কিশোর গল্প-উপন্যাস’, ঐতিহ্য এনেছে নাগিব মাহফুজের কায়রো ট্রলজি:প্যালেস ওয়াক, প্যালেস অব ডিজায়ার, সুগার স্ট্রিট,অনুবাদ আনোয়ারা হোসেইন মঞ্জু , কথা প্রকাশ এনেছে সুন্দরবন ও বনজীবী মানুষের জীবনালেখ্য নিয়ে সাদিয়া মাহ্জাবীন ইমামের ‘বনের মানুষ মানুষের বন’, পাঞ্জেরী এনেছে তপন বাগচীর উপন্যাস শেষ দৃশ্যের আগে’,আগামী এনেছে মুস্তফা মজিদ সম্পাদিত ‘আদিবাসী সংস্কৃতি’।
মেলা মঞ্চের অনুষ্ঠান
বিকেলে বইমেলার মূলমঞ্চে অনুষ্ঠিত হয় ‘মাকিদ হায়দারের কবিতা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন চঞ্চল আশরাফ। আলোচনায় অংশগ্রহণ করেন আসিফ হায়দার এবং শাওন্তী হায়দার। সভাপতিত্ব করেন আতাহার খান।
আলোচকরা বলেন, কবি হিসেবে মাকিদ হায়দারের আত্মপ্রকাশ গত শতাব্দীর ষাটের দশকে। তাঁর নিকট-অতীত ও সমকালীন কবিদের রচনায় রোমান্টিক আবেগ প্রকাশের যে ধারা গড়ে উঠেছিল, তার অনুগামী না-হয়ে নিজস্ব পৃথক একটি ধারা গড়ে তোলার চেষ্টায় তিনি ব্যাপৃত থেকেছেন। তিনি এমন এক বর্ণনারীতির চর্চা করেছেন যা ষাটের দশকের কবিতায় খুব কমই দেখা যায়। শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নিরাভরণ কিন্তু অর্থবোধক সারল্যের অনুশীলন করেছেন তিনি। তাঁর অধিকাংশ কবিতাই আখ্যানের প্রাথমিক উপাদান বা গল্পের প্রধান শর্তবৈশিষ্ট্য নিয়ে রচিত।
আলোচকদ্বয় বলেন, কবি মাকিদ হায়দারের কবিতায় গদ্যের যে ভূমিকা ছিল, তা আধুনিক কাব্যধারার ক্ষেত্রে খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয়। জটিল শব্দ ও বাক্য ব্যবহার না করে তিনি তাঁর কবিতায় সহজবোধ্য ভাষা ও বাক্যরীতির প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। ফলে তাঁর কবিতা সহজেই পাঠকের হৃদয় স্পর্শ করতে পারে। ব্যক্তি হিসেবে কবি মাকিদ হায়দার ছিলেন অত্যন্ত সংবেদনশীল ও মানবিক প্রকৃতির। তাঁর কাব্যরূপ, কাব্যভাষা অধিকতর গবেষণার দাবি রাখে।
সভাপতির বক্তব্যে আতাহার খান বলেন, পারিবারিকভাবে সাহিত্য-সংস্কৃতির আবহে বেড়ে ওঠা মাকিদ হায়দার তাঁর সমকালীন কবি সাহিত্যিকদের থেকে ভিন্নমাত্রায় নিজেকে উপস্থাপন করেছিলেন। আরোপিত রূপ বা আড়ালের আশ্রয় না নিয়ে স্পষ্ট এবং প্রচলিত ভাষাতেই তিনি কাব্য রচনা করেছেন। তাঁর কবিতা নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যজগৎকে সমৃদ্ধ করেছে।
লেখক বলছি মঞ্চে নিজেদের নতুন বই নিয়ে আলোচনা করেন আবু সাঈদ খান এবং পাভেল পার্থ
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে আবৃত্তি পরিবেশন করেন আবৃত্তিশিল্পী সাহেদ মন্তাজ, শাহ কামাল সবুজ এবং আফরোজা পারভীন। আজ ছিল ফয়জুল আলম পাপ্পুর পরিচালনায় আবৃত্তি সংগঠন ‘প্রকাশ সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংগঠন’ এবং ঢালী মোহাম্মদ দেলোয়ারের পরিচালনায় নৃত্যসংগঠন ‘বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা)’-এর পরিবেশনা। সংগীত পরিবেশন করেন শিল্পী সুমন মজুমদার, শারমিন সাথী ইসলাম, সুনীল সূত্রধর, ড. পরিতোষ মন্ডল, ফারহানা আক্তার শার্লি এবং শাহনাজ নাসরীন ইলা।
খবরওয়ালা/ এমএজেড