খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৩০ মার্চ ২০২৬
রাজবাড়ীর দৌলতদিয়া ও মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া নৌপথে ঘন কুয়াশার কারণে প্রায় তিন ঘণ্টা ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল। রোববার ভোর চারটার দিকে দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া দুটি ফেরি মাঝনদীতে ঘন কুয়াশায় আটকা পড়ে। পদ্মা নদী অববাহিকায় হঠাৎ নেমে আসা কুয়াশার কারণে নৌযান চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় কর্তৃপক্ষ সব ধরনের নৌযান চলাচল স্থগিত করে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আরিচা কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যরাতের পর থেকে পদ্মা নদীতে কুয়াশা পড়া শুরু করে এবং ভোর চারটার দিকে নদী অববাহিকায় দৃশ্যমানতা প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে আসে। এই পরিস্থিতিতে ‘এনায়েতপুরী’ নামের রো রো ফেরি ও ‘বাইগার’ নামের কে–টাইপ ফেরি মাঝনদীতে নোঙর করতে বাধ্য হয়।
দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌপথে ঘাটে নোঙর করা ফেরিগুলোর অবস্থান নিচের টেবিলে তুলে ধরা হলো:
| ঘাট নাম | ফেরি নাম | ধরন | অবস্থান/বিবরণ |
|---|---|---|---|
| পাটুরিয়া ৩ নম্বর | খানজাহান আলী | রো রো (বড়) | নোঙর |
| পাটুরিয়া ৩ নম্বর | কেরামত আলী | রো রো (বড়) | নোঙর |
| পাটুরিয়া ৩ নম্বর | বনলতা | ইউটিলিটি (ছোট) | নোঙর |
| পাটুরিয়া ৪ নম্বর | ভাষাসৈনিক ডা. গোলাম মাওলা | রো রো | নোঙর |
| পাটুরিয়া ৪ নম্বর | শাহ পরান | রো রো | নোঙর |
| পাটুরিয়া ৫ নম্বর | শাহ মখদুম | রো রো | নোঙর |
| পাটুরিয়া ৫ নম্বর | হাসনা হেনা | ইউটিলিটি | নোঙর |
| দৌলতদিয়া ৪ নম্বর | ঢাকা | কে–টাইপ (মাঝারি) | নোঙর |
| দৌলতদিয়া ৭ নম্বর | বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান | রো রো | নোঙর |
কুয়াশার কারণে নদীপথের পাশাপাশি সড়ক ও মহাসড়কেও যান চলাচল প্রভাবিত হয়। যানবাহনগুলো হেডলাইট জ্বালিয়ে ধীরগতিতে চলাচল করতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও দৃশ্যমানতার কমে যাওয়ায় গাড়ি থামিয়ে থাকতে হয়।
বিআইডব্লিউটিসি আরিচা কার্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপমহাব্যবস্থাপক আবদুস সালাম জানান, “অকস্মিক ঘন কুয়াশায় নদীপথ অন্ধকার হয়ে আসায় নৌযান চলাচল বিপজ্জনক হয়ে ওঠে। ভোর চারটার দিকে দুটি ফেরি মাঝনদীতে আটকা পড়লে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে সাড়ে চারটার দিকে সব নৌযান চলাচল বন্ধ রাখা হয়।”
প্রায় তিন ঘণ্টা চলাচল বন্ধ থাকার পর সকাল পৌনে সাতটার দিকে কুয়াশা কমে গেলে মাঝনদীতে আটকা পড়া ফেরিগুলো ঘাটে ফিরে আসে এবং নোঙরে থাকা সব ফেরি একে একে তাদের রুটে ফেরার মাধ্যমে স্বাভাবিক চলাচল শুরু করে। এই নৈমিত্তিক সমস্যার কারণে যাত্রী ও যানবাহনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।