খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল ২০২৬
শ্রীলঙ্কার জাতীয় দলের পেসার নুয়ান তুষারা ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগে (আইপিএল) খেলার জন্য অনাপত্তিপত্র (এনওসি) না পাওয়ায় শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের (এসএলসি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন। চলতি মৌসুমে তার আইপিএল দল রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলার কথা থাকলেও বোর্ডের সিদ্ধান্তে তা অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
তুষারা অভিযোগ করেছেন, ফিটনেস পরীক্ষায় তিনি প্রত্যাশিত মান অর্জন করতে ব্যর্থ হওয়ার কারণ দেখিয়ে বোর্ড তাকে এনওসি প্রদান করেনি। তবে তার দাবি, এই সিদ্ধান্ত অযৌক্তিক এবং পূর্ববর্তী সময়গুলোতে একই ধরনের ফিটনেস অবস্থায় থেকেও তিনি কোনো বাধার সম্মুখীন হননি। তার মতে, বোর্ডের বর্তমান অবস্থান তার পেশাগত ভবিষ্যৎ ও আর্থিক স্বার্থের জন্য ক্ষতিকর।
তিনি আরও দাবি করেন, শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের সঙ্গে তার কেন্দ্রীয় চুক্তির মেয়াদ ৩১ মার্চ শেষ হওয়ার কথা ছিল এবং তিনি ইতোমধ্যে চুক্তি নবায়ন না করার ইচ্ছা ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে সরে যাওয়ার পরিকল্পনার বিষয়টি বোর্ডকে জানিয়েছেন। এই অবস্থায় এনওসি না দেওয়ার সিদ্ধান্তকে তিনি চুক্তিগত ও নীতিগতভাবে প্রশ্নবিদ্ধ মনে করছেন।
কলম্বো জেলা আদালতে দাখিল করা মামলায় তুষারা বোর্ডের প্রেসিডেন্ট, সচিব, কোষাধ্যক্ষ এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিবাদী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। আদালত বিষয়টি গ্রহণ করে আগামী ৯ এপ্রিল শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেছে।
তুষারার আইনজীবীরা জানিয়েছেন, এনওসি না পেলে তিনি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবেন। কারণ সর্বশেষ আইপিএল নিলামে তাকে ১ কোটি ৬০ লাখ ভারতীয় রুপিতে দলে ভেড়ায় রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু। পাশাপাশি আন্তর্জাতিকভাবে উচ্চমানের লিগে খেলার সুযোগ হারানো তার ক্যারিয়ার অগ্রগতির ক্ষেত্রেও বড় ধাক্কা হতে পারে।
২০২৫ আইপিএল মৌসুমে তিনি বেঙ্গালুরুর হয়ে একটি ম্যাচে অংশ নেওয়ার সুযোগ পেয়েছিলেন। তবে চলমান পরিস্থিতিতে তার অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| খেলোয়াড় | নুয়ান তুষারা |
| দল | রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু |
| বিতর্কের বিষয় | এনওসি না পাওয়া |
| অভিযোগকারী পক্ষ | নুয়ান তুষারা |
| বিবাদী | শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের শীর্ষ কর্মকর্তারা |
| আদালত | কলম্বো জেলা আদালত |
| শুনানির তারিখ | ৯ এপ্রিল |
| চুক্তির অবস্থা | ৩১ মার্চে মেয়াদ শেষ (তুষারার দাবি অনুযায়ী) |
| আর্থিক মূল্য | ১ কোটি ৬০ লাখ ভারতীয় রুপি (আইপিএল নিলাম মূল্য) |
এই মামলাটি শ্রীলঙ্কা ক্রিকেটের অভ্যন্তরীণ নীতিমালা, খেলোয়াড়দের পেশাগত স্বাধীনতা এবং আন্তর্জাতিক ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগে অংশগ্রহণ সংক্রান্ত অনুমোদন প্রক্রিয়া নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের ঘটনা ভবিষ্যতে দক্ষিণ এশিয়ার ক্রিকেট প্রশাসনে খেলোয়াড়-কেন্দ্রিক নীতিমালা পুনর্বিবেচনার চাপ বাড়াতে পারে।