খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ৫ এপ্রিল ২০২৬
চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালির সাম্প্রতিক ব্যর্থতা দেশটির ফুটবল অঙ্গনে বড় ধরনের আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। টানা তৃতীয়বারের মতো বিশ্বকাপে জায়গা করে নিতে ব্যর্থ হওয়ায় ইতালির ফুটবল কাঠামোয় ব্যাপক পরিবর্তনের দাবি উঠেছিল, এবং প্রত্যাশামতো সেই পরিবর্তন শুরু হয়েছে। ইতালিয়ান ফুটবল ফেডারেশনের শীর্ষ পর্যায় থেকে শুরু করে জাতীয় দলের কোচিং স্টাফ—সবখানেই নতুন করে পুনর্গঠনের প্রক্রিয়া চলছে।
প্রথম ধাক্কা আসে ফেডারেশনের নেতৃত্বে, যেখানে প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল গ্রাভিনা পদত্যাগ করেন। এরপর জাতীয় দলের প্রশাসনিক দায়িত্বে থাকা কিংবদন্তি গোলরক্ষক জিয়ানলুইজি বুফনও সরে দাঁড়ান। সবশেষে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে কোচ জেনারো গাত্তুসো দায়িত্ব ছাড়লে ইতালির নতুন কোচ নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়।
ইউরোপীয় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম ইতালির সম্ভাব্য নতুন কোচ হিসেবে কয়েকজন অভিজ্ঞ ও সফল কোচের নাম সামনে এনেছে। উল্লেখযোগ্যভাবে, [সংবাদপত্রের নাম শনাক্ত: লা গাজেত্তা দেলো] চারজন কোচকে শর্টলিস্ট করেছে—রবার্তো মানচিনি, আন্তোনিও কন্তে, মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি এবং পেপ গার্দিওলা। অন্যদিকে [সংবাদমাধ্যমের নাম শনাক্ত: বিবিসি] তাদের তালিকায় গার্দিওলাকে না রাখলেও ফাবিও কানাভারো ও স্তেফানো পিওলির নাম যুক্ত করেছে।
মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি ইতালিয়ান ফুটবলে অন্যতম সফল কোচ হিসেবে বিবেচিত। এসি মিলান ও জুভেন্টাস—দুই ক্লাবেই তিনি সিরি আ জয়ের স্বাদ পেয়েছেন। বিশেষ করে জুভেন্টাসের হয়ে টানা পাঁচটি লিগ শিরোপা তাঁর দক্ষতার প্রমাণ দেয়। বর্তমানে ক্লাব পর্যায়ে যুক্ত থাকায় তাঁকে জাতীয় দলে আনা কিছুটা কঠিন হতে পারে।
রবার্তো মানচিনি ইতালির সাম্প্রতিক ইতিহাসে সবচেয়ে সফল কোচদের একজন। তাঁর অধীনেই ইতালি ২০২০ ইউরো চ্যাম্পিয়ন হয় এবং টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকার বিশ্বরেকর্ড গড়ে। তবে ২০২২ বিশ্বকাপে ব্যর্থতার পর তিনি পদত্যাগ করেন। বর্তমানে ক্লাব ফুটবলে সক্রিয় থাকলেও জাতীয় দলে ফেরার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
আন্তোনিও কন্তে ক্লাব ফুটবলে অসাধারণ সফলতা অর্জন করেছেন। জুভেন্টাস, চেলসি, ইন্টার মিলান ও নাপোলির মতো ক্লাবে লিগ শিরোপা জয়ের অভিজ্ঞতা তাঁর রয়েছে। ইতালির সাবেক কোচ হিসেবে জাতীয় দলে তাঁর প্রত্যাবর্তনও একটি বাস্তবসম্মত সম্ভাবনা।
ফাবিও কানাভারো, ২০০৬ বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক, ইতালির ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম বড় নাম। যদিও কোচ হিসেবে তাঁর সাফল্য এখনো সীমিত, তবুও তাঁর নেতৃত্বগুণ ও অভিজ্ঞতা জাতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
অন্যদিকে স্তেফানো পিওলি বর্তমানে কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নন। এসি মিলানকে ২০২২ সালে সিরি আ জেতানোর কৃতিত্ব তাঁর রয়েছে। যদিও তাঁর ক্যারিয়ারে বড় সাফল্য তুলনামূলক কম, তবুও তিনি সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় আছেন।
নিচে সম্ভাব্য কোচদের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
| কোচের নাম | বয়স (প্রায়) | উল্লেখযোগ্য সাফল্য | বর্তমান অবস্থা |
|---|---|---|---|
| মাসিমিলিয়ানো আলেগ্রি | ৫৭ | জুভেন্টাসে ৫টি সিরি আ | ক্লাব কোচ |
| রবার্তো মানচিনি | ৬১ | ইউরো ২০২০ জয় | ক্লাব দায়িত্বে |
| আন্তোনিও কন্তে | ৫৬ | একাধিক লিগ শিরোপা | নাপোলির কোচ |
| ফাবিও কানাভারো | ৫১ | ২০০৬ বিশ্বকাপ জয় (খেলোয়াড়) | আন্তর্জাতিক দায়িত্বে |
| স্তেফানো পিওলি | ৬০ | ২০২২ সিরি আ | বর্তমানে ফ্রি |
ইতালির সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ—একজন এমন কোচ নির্বাচন করা, যিনি দলটিকে পুনর্গঠন করে আবারও বিশ্বমঞ্চে প্রতিদ্বন্দ্বিতার উপযোগী করে তুলতে পারবেন। নতুন কোচের কাঁধেই নির্ভর করছে ইতালির ফুটবলের ভবিষ্যৎ পথচলা।