ভারতের মধ্যপ্রদেশের শিবপুরি জেলায় এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নবদম্পতিসহ একই পরিবারের চার সদস্যের প্রাণহানির ঘটনা গভীর শোকের ছায়া ফেলেছে। বিয়ের আনন্দঘন মুহূর্তের পরদিনই এমন বিপর্যয় নেমে আসায় পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছে শোকের আবহ।
জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী বিরেন্দ্র শাক্য গত শনিবার পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে একটি মন্দিরে রাজেশ্বরী শাক্যকে বিয়ে করেন। বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে রোববার সকালে নববধূকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। তাদের সঙ্গে অটোরিকশায় ছিলেন বিরেন্দ্রের মা অনভেশ শাক্য (৫০) ও ভাবি রাজো শাক্য (২২)।
পথিমধ্যে একটি পোলট্রি খাদ্যবোঝাই ট্রাক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে উল্টে যায় এবং রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে থাকা অটোরিকশার ওপর সরাসরি পড়ে। এতে অটোরিকশায় থাকা চারজনই ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয়দের তাৎক্ষণিক চেষ্টায় কাউকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার একটি সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, দ্রুতগতিতে আসা ট্রাকটি হঠাৎ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের দিকে কাত হয়ে পড়ে যায় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই অটোরিকশাটিকে চাপা দেয়। দুর্ঘটনার আকস্মিকতা ও ভয়াবহতা প্রত্যক্ষদর্শীদেরও স্তব্ধ করে দেয়।
দুর্ঘটনায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বিরেন্দ্রের বোন ভুরিয়া শাক্য (১৯) এবং অটোরিকশাচালক। তবে তারা মানসিকভাবে গভীর আঘাতপ্রাপ্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে। স্থানীয়রা দ্রুত উদ্ধারকাজ শুরু করলেও ট্রাকটি অত্যন্ত ভারী হওয়ায় তা সরানো কঠিন হয়ে পড়ে। পরে একটি বুলডোজার এনে প্রায় আধা ঘণ্টা চেষ্টার পর ট্রাক সরিয়ে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
এই দুর্ঘটনার আরেকটি হৃদয়বিদারক দিক হলো, ভুরিয়া শাক্যের বাগদান হওয়ার কথা ছিল দুর্ঘটনার পরদিনই। কিন্তু আনন্দের সেই প্রস্তুতি মুহূর্তেই পরিণত হয়েছে শোকের আয়োজনের মধ্যে। এখন পরিবারের সদস্যরা একদিকে চারজনের দাফন বা শেষকৃত্যের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, অন্যদিকে হঠাৎ এই বিপর্যয়ে ভেঙে পড়েছেন।
নিম্নে দুর্ঘটনায় নিহতদের সংক্ষিপ্ত তথ্য তুলে ধরা হলো:
| নাম |
বয়স |
সম্পর্ক |
| বিরেন্দ্র শাক্য |
২৫ |
নববিবাহিত স্বামী |
| রাজেশ্বরী শাক্য |
— |
নববধূ |
| অনভেশ শাক্য |
৫০ |
মা |
| রাজো শাক্য |
২২ |
ভাবি |
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, ট্রাকটির অতিরিক্ত গতি ও নিয়ন্ত্রণহীনতার কারণেই এই দুর্ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনা আবারও সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি সামনে নিয়ে এসেছে। বিশেষ করে ভারী যানবাহনের ক্ষেত্রে গতি নিয়ন্ত্রণ, নিয়ম মেনে চলা এবং নিয়মিত যানবাহন পরীক্ষা—এসব বিষয় যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলে এমন দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা কঠিন হয়ে পড়ে।