খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬
ইউরোপীয় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসর চ্যাম্পিয়নস লিগে নতুন এক ইতিহাস লিখল গানাররা। এমিরেটস স্টেডিয়ামে স্পোর্তিং লিসবনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেও সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে মিকেল আরতেতার দল। প্রথম লেগের ১-০ ব্যবধানের জয়টিই শেষ পর্যন্ত গানারদের ইতিহাসের পাতায় জায়গা করে দিয়েছে। ক্লাবের ইতিহাসে এই প্রথমবারের মতো টানা দুইবার ইউরোপসেরার লড়াইয়ের সেমিফাইনালে নাম লেখাল লন্ডনভিত্তিক এই ক্লাবটি।
আর্সেনালের জন্য এবারের চ্যাম্পিয়নস লিগ যাত্রাটি ছিল দাপুটে। গ্রুপ পর্বে আটটি ম্যাচের সবকটিতে জয় লাভ করে তারা দাপটের সাথে নক-আউট পর্বে পা রাখে। শেষ ষোলোর লড়াইয়ে বায়ার লেভারকুসেনকে প্রথম লেগে ড্র এবং দ্বিতীয় লেগে ২-০ ব্যবধানে পরাজিত করে তারা কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। কোয়ার্টার ফাইনালে স্পোর্তিংয়ের বিপক্ষে রক্ষণাত্মক দৃঢ়তা এবং কৌশলী ফুটবল তাদের সেমিফাইনাল পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে। নিচে চ্যাম্পিয়নস লিগের চলতি আসরে সেমিফাইনালিস্টদের পারফরম্যান্সের একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
চ্যাম্পিয়নস লিগ সেমিফাইনালিস্টদের তুলনামূলক পরিসংখ্যান:
| দল | লিগ | ফলাফল (কোয়ার্টার ফাইনাল) | আসরে বর্তমান অবস্থা |
| আর্সেনাল | ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ | ১-০ (অ্যাগ্রিগেট) | অপরাজিত |
| বায়ার্ন মিউনিখ | বুন্দেসলিগা | জয়ী | অন্তত এক ম্যাচ পরাজিত |
| পিএসজি | লিগ আঁ | জয়ী | অন্তত এক ম্যাচ পরাজিত |
| আতলেতিকো মাদ্রিদ | লা লিগা | জয়ী | অন্তত এক ম্যাচ পরাজিত |
ঘরের মাঠে ফিরতি লেগে গোল না পেলেও কোচ মিকেল আরতেতা খেলোয়াড়দের লড়াকু মানসিকতার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। দলের মূল চালিকাশক্তি বুকায়ো সাকা, মার্টিন ওডেগার্ড এবং জুরিয়েন টিম্বারের মতো গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলারদের চোটের কারণে স্কোয়াডের বাইরে থাকতে হয়েছে। এমনকি ডেক্লান রাইস পর্যাপ্ত অনুশীলন না থাকা সত্ত্বেও দলের প্রয়োজনে মাঠে নামার যে সাহসিকতা দেখিয়েছেন, তাকে আরতেতা “স্যালুট” জানিয়েছেন।
ক্লাবের ১৪০ বছরের ইতিহাসে যা কখনও ঘটেনি, সেই টানা দুইবার সেমিফাইনালে ওঠার কৃতিত্বকে বড় করে দেখছেন কোচ। তিনি মনে করেন, এই অর্জন খেলোয়াড়দের সীমাহীন পরিশ্রম এবং নিবেদনের ফসল। প্রিমিয়ার লিগেও আর্সেনালের অবস্থান অত্যন্ত সুসংহত; ৩২ ম্যাচে ৭০ পয়েন্ট নিয়ে তারা টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। তাদের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ম্যানচেস্টার সিটি এক ম্যাচ কম খেলে ৬ পয়েন্টে পিছিয়ে রয়েছে।
সব ধরনের প্রতিযোগিতা মিলিয়ে সর্বশেষ পাঁচ ম্যাচের তিনটিতে হারলেও, আরতেতা বাইরের সমালোচনাকে পাত্তা দিতে নারাজ। সমালোচকদের মতে, শেষ মুহূর্তে খেই হারিয়ে ফেলা আর্সেনালের পুরোনো অভ্যাস, যা তাদের ছয় বছরের শিরোপা খরা কাটাতে বাধা হতে পারে। তবে আরতেতা সমর্থকদের প্রতি স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন:
“আমরা নিখুঁত নই, তবে এই মুহূর্তে দল যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেটি উপভোগ করুন। খেলোয়াড়রা যা করছে তার বিশাল মূল্য আছে। বাইরের সমালোচনা শুনলে মনে হতে পারে আমরা বুঝি অবনমন এড়ানোর লড়াই করছি, অথচ আমরা এখন ইউরোপের সেরা চারের একটি।”
ইউরোপের শীর্ষ পাঁচ লিগের মধ্যে এবার ইতালিয়ান সিরি-এ থেকে কোনো দল সেমিফাইনালে উঠতে পারেনি। বাকি চার লিগের যে চারটি দল সেমিতে উঠেছে, তার মধ্যে একমাত্র আর্সেনালই এখন পর্যন্ত আসরে কোনো ম্যাচ হারেনি। ২২ বছর পর প্রিমিয়ার লিগ জয় এবং প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগ শিরোপা জয়ের যে সুবর্ণ সুযোগ তৈরি হয়েছে, কোচ আরতেতা সেই মুহূর্তটিকেই ভক্তদের উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন। লড়াই করার মানসিকতা এবং নিবেদনই মৌসুমের শেষ প্রান্তে আর্সেনালের প্রধান হাতিয়ার বলে তিনি বিশ্বাস করেন।