খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 7শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২০ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
ভারতের তামিলনাড়ু রাজ্যের বিরুধুনগর জেলায় একটি আতশবাজি তৈরির কারখানায় ভয়াবহ বিস্ফোরণে অন্তত ২০ জন শ্রমিক নিহত হয়েছেন। রোববার সংঘটিত এই দুর্ঘটনায় আরও বেশ কয়েকজন গুরুতর আহত হন। স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ জানিয়েছে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে, কারণ ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো কয়েকজন আটকে থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে জেলার কাট্টানাপট্টি এলাকায় অবস্থিত একটি লাইসেন্সপ্রাপ্ত আতশবাজি উৎপাদন কারখানায়। প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, কারখানাটিতে প্রতিদিনের মতোই প্রায় ৩০ জন শ্রমিক কাজ করছিলেন। উৎপাদন প্রক্রিয়ার এক পর্যায়ে হঠাৎ করে বিকট বিস্ফোরণ ঘটে, যা মুহূর্তের মধ্যেই আগুনে রূপ নেয়। বিস্ফোরণের তীব্রতা এতটাই বেশি ছিল যে কারখানার অন্তত চারটি কক্ষ সম্পূর্ণ ধসে পড়ে এবং আশপাশের এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, বিস্ফোরণের শব্দ প্রায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকেও শোনা যায়।
প্রশাসনের ধারণা, বিভিন্ন দাহ্য রাসায়নিক পদার্থ একসঙ্গে মেশানোর সময় অসতর্কতা বা নিরাপত্তা বিধি লঙ্ঘনের কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটে থাকতে পারে। যদিও সুনির্দিষ্ট কারণ জানতে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ।
বিস্ফোরণের পরপরই শিবকাশী, সাতুর ও বিরুধুনগরসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকা থেকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে। প্রায় এক ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। এরপর ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে পড়াদের উদ্ধারের কাজ অব্যাহত রাখা হয়। আহতদের দ্রুত নিকটবর্তী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যেখানে অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই ঘটনাকে গভীরভাবে মর্মান্তিক উল্লেখ করে শোক প্রকাশ করেছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে আহতদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন। একই সঙ্গে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিনও শোক প্রকাশ করে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে থাকার আশ্বাস দেন। তিনি সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীদের ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার তৎপরতা তদারকির নির্দেশ দেন এবং জেলা প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহায়তা নিশ্চিত করতে বলেন।
ঘটনার পর পুলিশ একটি মামলা দায়ের করেছে এবং কারখানাটির নিরাপত্তা মানদণ্ড যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আতশবাজি কারখানাগুলোতে নিয়মিত নিরাপত্তা পর্যবেক্ষণ ও শ্রমিকদের প্রশিক্ষণের ঘাটতি থাকলে এ ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়।
নিচে ঘটনাটির সারসংক্ষেপ তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| স্থান | তামিলনাড়ু, বিরুধুনগর জেলা |
| এলাকা | কাট্টানাপট্টি |
| ঘটনা | আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ |
| নিহত | অন্তত ২০ জন |
| আহত | একাধিক (সংখ্যা নির্ধারণাধীন) |
| সম্ভাব্য কারণ | রাসায়নিক মিশ্রণে ত্রুটি/নিরাপত্তা লঙ্ঘন |
| ক্ষয়ক্ষতি | কারখানার অন্তত ৪টি কক্ষ ধ্বংস |
| উদ্ধার অভিযান | ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট, আগুন নিয়ন্ত্রণে ~১ ঘণ্টা |
এই দুর্ঘটনা আবারও শিল্প কারখানায় নিরাপত্তা ব্যবস্থার কঠোর বাস্তবায়নের প্রয়োজনীয়তা সামনে এনে দিয়েছে।