খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 9শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২২ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রথম দফার ভোটগ্রহণকে কেন্দ্র করে সর্বাত্মক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে ভারতের নির্বাচন কমিশন। নির্ধারিত বিধি অনুযায়ী, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টায় আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়েছে প্রথম দফার নির্বাচনী প্রচারণা। আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৭টা থেকে বিরতিহীনভাবে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত রাজ্যের ১৬টি জেলার মোট ১৫২টি আসনে এই ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
প্রচারণার শেষ দিনে রাজনৈতিক দলগুলোর তৎপরতা ছিল তুঙ্গে। বিজেপি প্রার্থী অগ্নিমিত্রা পালের সমর্থনে আসানসোল দক্ষিণে রোড শো করেন দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ কুলটি আসনে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে জনসভা করেন। অন্যদিকে, নন্দীগ্রামে শুভেন্দু অধিকারী নিজে জনসংযোগ চালান এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পৃথক চারটি নির্বাচনী কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে ভোটারদের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।
তবে শেষ মুহূর্তের এই প্রচারণাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের বেশ কিছু স্থানে সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। পশ্চিম মেদিনীপুরের দাঁতনে বিজেপি প্রার্থী অজিত কুমার জানার ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে মেদিনীপুর মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ছাড়া মুর্শিদাবাদের নওদায় পুলিশি বাধার অভিযোগে আম জনতা উন্নয়ন পার্টির প্রার্থী হুমায়ুন কবীরের সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর বাগবিতণ্ডা হয়। নন্দীগ্রামে ভোটারদের প্রভাবিত করার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়েছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা হাবিবুল রহমান ওরফে নান্টুকে।
প্রথম দফার এই নির্বাচনে প্রায় ৩ কোটি ৬০ লাখ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। নির্বাচনের স্বচ্ছতা ও অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কমিশন লিঙ্গভিত্তিক ভোটার বিন্যাস প্রকাশ করেছে। নিচে এর একটি সংক্ষিপ্ত সারণি দেওয়া হলো:
| ভোটারের শ্রেণি | সংখ্যা (প্রায়) |
| মোট ভোটার | ৩,৬০,০০,০০০ |
| পুরুষ ভোটার | ১,৮৪,০০,০০০ |
| নারী ভোটার | ১,৭৫,০০,০০০ |
| তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার | ৪৬৫ জন |
| মোট আসন সংখ্যা | ১৫২টি |
| মোট প্রার্থীর সংখ্যা | ১,৪৭৮ জন |
নির্বাচনী ময়দানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মধ্যে প্রধান লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেলেও কংগ্রেস, সিপিআই(এম), আইএসএফ এবং আম জনতা উন্নয়ন পার্টিও বেশ কিছু আসনে শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে। প্রথম দফার উল্লেখযোগ্য প্রার্থীদের তালিকা নিম্নরূপ:
তৃণমূল কংগ্রেস: উদায়ন গুহ (দিনহাটা), মানস ভূঁইয়া (সবং), মলয় ঘটক (আসানসোল উত্তর), স্বপ্না বর্মন (রাজগঞ্জ) এবং গৌতম দেব (শিলিগুড়ি)।
বিজেপি: শুভেন্দু অধিকারী (নন্দীগ্রাম), দিলীপ ঘোষ (খড়গপুর সদর), নিশীথ প্রামাণিক (মাথাভাঙ্গা), অশোক দিন্দা (ময়না) এবং অগ্নিমিত্রা পাল (আসানসোল দক্ষিণ)।
কংগ্রেস ও অন্যান্য: অধীর রঞ্জন চৌধুরী (বহরমপুর), মৌসম বেনজির নুর (মালতিপুর) এবং হুমায়ুন কবীর (রেজিনগর ও নওদা)।
নির্বাচন অবাধ ও সুষ্ঠু করতে কমিশন নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। রাজ্যের নির্বাচনী ইতিহাসে সর্বোচ্চ প্রায় ২,৪০০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী (২ লাখ ৪০ হাজার সদস্য) মোতায়েন করা হয়েছে। মোট ৪৪,৩৭৮টি ভোটকেন্দ্রে ওয়েবকাস্টিং এবং প্রতিটি বুথে অন্তত দুটি করে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে।
নিরাপত্তা ব্যবস্থা তদারকিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির ব্যবহার করা হচ্ছে। কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা দেখা দিলে তাৎক্ষণিক সতর্কবার্তা পাঠানোর ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এ ছাড়া মুর্শিদাবাদসহ বিভিন্ন স্পর্শকাতর এলাকায় মোট ২,১৯৩টি কুইক রেসপন্স টিম (QRT) সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব বা ভুয়া ভিডিও প্রতিরোধেও বিশেষ এআই মনিটরিং সেল কাজ করছে।
আগামীকাল প্রথম দফার এই ভোটগ্রহণ শেষে ২৯ এপ্রিল দ্বিতীয় দফার ভোট অনুষ্ঠিত হবে এবং ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণা করা হবে।