খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 10শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৩ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জাতীয় সংসদে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বিদ্যুৎ পরিস্থিতি ও জ্বালানি সংকট নিরসনে সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে ৩০০ বিধিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিবৃতি প্রদান করেছেন। বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল ২০২৬), স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমেদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে তিনি এই তথ্য জানান। প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে দেশের বর্তমান জ্বালানি পরিস্থিতির চিত্র এবং শহর ও গ্রামের মধ্যে বিদ্যমান বিদ্যুৎ বণ্টনের বৈষম্য দূর করার পরিকল্পনার বিষয়টি উঠে আসে।
প্রতিমন্ত্রী তার বিবৃতিতে উল্লেখ করেন যে, বর্তমানে দেশে ফসল কাটার মৌসুম চলায় কৃষকদের নির্বিঘ্নে সেচ কাজ পরিচালনা করা জরুরি। কৃষি উৎপাদন সচল রাখতে প্রধানমন্ত্রী কৃষকদের জন্য নিরবচ্ছিন্ন ডিজেল ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার কঠোর নির্দেশনা প্রদান করেছেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, জুলাই অভ্যুত্থানের ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ’ গড়ার চেতনাকে ধারণ করে সরকার শহর ও গ্রামের বিদ্যুৎ বণ্টনে সমতা আনতে চায়।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, শহরের মানুষ আরামদায়ক জীবনযাপন করবে আর গ্রামের মানুষ লোডশেডিংয়ের ভোগান্তি পোহাবে—এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি কোনোভাবেই কাম্য নয়। এই বৈষম্য কমিয়ে আনতে এবং কৃষি খাতে বাড়তি বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শে ও বিরোধীদলীয় নেতার সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে রাজধানীতেও পরীক্ষামূলকভাবে লোডশেডিং করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ঢাকা শহরে ১১০ মেগাওয়াট লোডশেডিং করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
দেশে চলমান বিদ্যুৎ বিভ্রাটের মূল কারণ হিসেবে প্রতিমন্ত্রী পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহের ঘাটতিকে দায়ী করেন। তিনি জানান, দেশের বর্তমান বিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা কাগজে-কলমে পর্যাপ্ত দেখালেও বাস্তব প্রেক্ষাপটে জ্বালানি স্বল্পতার কারণে পূর্ণ সক্ষমতায় উৎপাদন সম্ভব হচ্ছে না। বিশেষ করে প্রাকৃতিক গ্যাসের বিশাল ঘাটতি বিদ্যুৎ উৎপাদনে প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, দেশে গ্যাসের চাহিদা ও সরবরাহের বর্তমান চিত্র নিচের সারণিতে তুলে ধরা হলো:
| বিষয় | পরিমাণ (মিলিয়ন ঘনফুট) |
| প্রতিদিনের মোট গ্যাসের চাহিদা | ৩,৮০০ |
| নিজস্ব উৎপাদন ও আমদানি মিলিয়ে মোট সরবরাহ | ২,৬৩৬ |
| প্রতিদিনের নীট ঘাটতি | ১,১৬৪ |
প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত আরও জানান যে, বর্তমানে সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় গ্যাস আমদানির জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকলেও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে দ্রুত সরবরাহ বাড়ানো সম্ভব হচ্ছে না। এলএনজি (LNG) খালাস ও সরবরাহের জন্য প্রয়োজনীয় টার্মিনাল বা পাইপলাইনসহ অন্যান্য টেকনিক্যাল ইনফ্রাস্ট্রাকচারের অভাব রয়েছে।
তবে সংকট নিরসনে সরকার বসে নেই। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ১৮০ দিনের অগ্রাধিকারমূলক উন্নয়ন তালিকায় জ্বালানি খাতের অবকাঠামো সংস্কার ও উন্নয়নের বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। প্রতিমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে এই অবকাঠামো উন্নয়নের কাজ দৃশ্যমান হবে এবং জ্বালানি সরবরাহের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
তিনি অভিযোগ করেন যে, বর্তমান বিদ্যুৎ সমস্যার মূলে রয়েছে বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘমেয়াদী অব্যবস্থাপনা। সেই পুঞ্জীভূত অব্যবস্থাপনার দায় বর্তমান সরকারকে বহন করতে হচ্ছে। তবে বর্তমান সরকার শপথের মর্যাদা রক্ষা করে এবং সংসদের স্বচ্ছতা বজায় রেখে এই সংকট কাটিয়ে উঠতে বদ্ধপরিকর। রাজধানীর এই পরীক্ষামূলক লোডশেডিং সেই বৃহৎ পরিকল্পনারই একটি অংশ, যা মূলত প্রান্তিক পর্যায়ে কৃষকদের বিদ্যুৎ সুবিধা নিশ্চিত করার জন্য গ্রহণ করা হয়েছে।