খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
কক্সবাজার-ঢাকা রুটে চলাচলকারী জনপ্রিয় আন্তনগর ট্রেন ‘কক্সবাজার এক্সপ্রেস’-এ পাথর নিক্ষেপের ঘটনায় দুজন যাত্রী গুরুতর আহত হয়েছেন। সোমবার দুপুরে চকরিয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় এই হামলার ঘটনা ঘটে। এতে মোহাম্মদ হিমেল আহমেদ (২৫) নামে এক তরুণ পর্যটকের চারটি দাঁত ভেঙে গেছে এবং মোহাম্মদ আবু সাঈদ (৪০) নামের অপর এক যাত্রী ঘাড় ও পিঠে প্রচণ্ড আঘাত পেয়েছেন। বারবার এ ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে পর্যটন নগরীর রেল যোগাযোগে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে কক্সবাজার আইকনিক স্টেশন থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে ট্রেনটি। ট্রেনের ‘ঢ’ বগির নন-এসি কোচের ৩৫ ও ৩৬ নম্বর আসনে বসেছিলেন দিনাজপুরের বিরামপুর থেকে আসা একদল পর্যটক। দুপুর ১টার দিকে ট্রেনটি চকরিয়া এলাকা অতিক্রম করার সময় হঠাৎ বাইরে থেকে দুর্বৃত্তরা বড় আকারের একটি পাথর ছুড়ে মারে।
পাথরটি জানালার কাচ ভেদ করে সরাসরি যাত্রী হিমেলের মুখে আঘাত করে, যার ফলে ঘটনাস্থলেই তাঁর নিচের মাড়ির চারটি দাঁত ভেঙে যায় এবং ঠোঁটের ভেতরের অংশ গুরুতর জখম হয়। সহযাত্রী আবু সাঈদও একই সময় পাথরের আঘাতে ঘাড়ে প্রচণ্ড আঘাত পান। ট্রেনটি বিকেল ৪টার দিকে চট্টগ্রাম রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে সেখানে তাঁদের প্রাথমিক চিকিৎসা প্রদান করা হয়।
ভুক্তভোগী যাত্রী ও সহযাত্রীদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর রেলের দায়িত্বরত কর্মীদের কাছ থেকে আশানুরূপ সহযোগিতা পাওয়া যায়নি। প্রত্যক্ষদর্শী সাইদুল ইসলাম জানান, পাথর নিক্ষেপের সময় ট্রেনের অ্যাটেনডেন্ট বা গার্ড উপস্থিত ছিলেন না। খবর দেওয়ার দীর্ঘক্ষণ পর তাঁরা ঘটনাস্থলে আসেন। রেলওয়ে পুলিশের একজন সদস্য কিছুটা সহায়তা করলেও সার্বিক ব্যবস্থাপনায় চরম অবহেলা লক্ষ করা গেছে। এছাড়া স্থানীয় থানায় বিষয়টি জানানো হলে, পুলিশ উল্টো জানালা খোলা রাখার জন্য যাত্রীদের দায়ী করে প্রশ্ন তোলে, যা পর্যটকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছে।
রেলওয়ের পূর্বাঞ্চলীয় জোনের তথ্য অনুযায়ী, গত এক বছরে পাথর নিক্ষেপ একটি নিয়মিত সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে কক্সবাজার রুটে এ ধরনের ঘটনার হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের পাথর নিক্ষেপ সংক্রান্ত বার্ষিক চিত্র:
| বিষয়ের বিবরণ | সামগ্রিক পরিসংখ্যান (পূর্বাঞ্চল) | কক্সবাজার রুট (সুনির্দিষ্ট) |
| পাথর নিক্ষেপের মোট ঘটনা | ১৪৫টি | ৩৮টি |
| আহত যাত্রীর সংখ্যা | ৩৯ জন | ১৪ জন |
| ক্ষতিগ্রস্ত অংশ | দরজা ও জানালা | দরজা, জানালা ও সিট |
| বর্তমান ট্রেনের সংখ্যা | ৪ জোড়া | ৪ জোড়া (ঢাকা ও চট্টগ্রাম থেকে) |
বর্তমানে কক্সবাজার রুটে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মধ্যে নিয়মিত চার জোড়া ট্রেন চলাচল করছে। জনপ্রিয় এই রুটে নিরাপত্তার অভাব পর্যটন শিল্পের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ রেলওয়ের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মো. আনিসুর রহমান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, চকরিয়া ও হারবাং এলাকাটি পাথর নিক্ষেপের জন্য বর্তমানে সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ওই এলাকায় রেলওয়ে পুলিশের নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে স্থানীয় ইমাম ও জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে কাজ করার পরিকল্পনা করছে রেলওয়ে প্রশাসন। অপরাধীদের শনাক্ত করতে বিশেষ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে। তবে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া পর্যন্ত এই রুটের যাত্রীদের মাঝে আতঙ্ক বিরাজ করছে।