খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 14শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৭ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
জার্মান ফুটবলের শীর্ষ স্তর বুন্দেসলিগায় এক নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন আমেরিকান তরুণ উইঙ্গার ম্যাথিস আলবার্ট। বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের জার্সি গায়ে মাঠে নেমেই তিনি লিগের ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেছেন। ফ্রাইবুর্গের বিপক্ষে ডর্টমুন্ডের ৪-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচটিতে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামার মাধ্যমে তিনি এই মাইলফলক স্পর্শ করেন।
শনিবারের ম্যাচে যখন ম্যাথিস আলবার্ট মাঠে প্রবেশ করেন, তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৬ বছর ৩৪০ দিন। এর মাধ্যমে তিনি ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক এবং জিও রেইনার মতো প্রতিষ্ঠিত তারকাদের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। এর আগে বুন্দেসলিগায় সর্বকনিষ্ঠ আমেরিকান হিসেবে খেলার রেকর্ডটি ছিল জিও রেইনার দখলে। পুলিসিক এবং রেইনা উভয়ই ১৭ বছর বয়সে তাদের অভিষেক ম্যাচ খেলেছিলেন। আলবার্ট ১৬ বছর বয়সেই সেই উচ্চতা স্পর্শ করে আমেরিকান ফুটবলের উদীয়মান নক্ষত্র হিসেবে নিজের জানান দিয়েছেন।
ম্যাচটির ৮৮তম মিনিটে আলবার্টকে মাঠে নামানো হয়। যদিও তিনি খুব অল্প সময়ের জন্য খেলার সুযোগ পেয়েছেন, তবে এই সংক্ষিপ্ত উপস্থিতিতেই তিনি ডর্টমুন্ডের দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। নিচে বুন্দেসলিগায় অভিষেক হওয়া শীর্ষ কয়েকজন আমেরিকান খেলোয়াড়ের বয়সের তুলনা তুলে ধরা হলো:
| খেলোয়াড়ের নাম | ক্লাব | অভিষেকের বয়স |
| ম্যাথিস আলবার্ট | বরুসিয়া ডর্টমুন্ড | ১৬ বছর ৩৪০ দিন |
| জিও রেইনা | বরুসিয়া ডর্টমুন্ড | ১৭ বছর ৬৬ দিন |
| ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিক | বরুসিয়া ডর্টমুন্ড | ১৭ বছর ১৯৩ দিন |
| রিকার্ডো পেপি | অগসবার্গ | ১৯ বছর ১ দিন |
ম্যাথিস আলবার্ট আমেরিকার সাউথ ক্যারোলিনার গ্রিনভিলের বাসিন্দা। তবে তার পারিবারিক প্রেক্ষাপট বেশ বৈচিত্র্যময়। বাবা-মায়ের সূত্রে তিনি ফরাসি এবং জার্মান নাগরিকত্বেরও অধিকারী। এই বহুমুখী নাগরিকত্ব তাকে ইউরোপীয় ফুটবলে একজন স্থানীয় খেলোয়াড় হিসেবে বাড়তি সুবিধা প্রদান করে।
২০২৪ সালের জুলাই মাসে তিনি বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সাথে তার প্রথম পেশাদার চুক্তি স্বাক্ষর করেন। ক্লাবের যুব একাডেমি বা ‘ইয়ুথ সেটআপ’-এ তিনি ইতোমধ্যেই তার দক্ষতার প্রমাণ দিয়েছেন। মূলত লেফট উইঙ্গার হিসেবে খেললেও, মাঠে তার ড্রিবলিং ক্ষমতা এবং গতি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করে। ডর্টমুন্ডের স্কাউট এবং কোচিং স্টাফরা তার খেলার ধরনে মুগ্ধ হয়েই তাকে মূল দলে দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্ত নেন।
বর্তমানে লেফট উইংয়ে খেললেও বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শারীরিক গঠন ও কৌশলী পরিবর্তনের মাধ্যমে ভবিষ্যতে তিনি মাঠের আরও ওপরের পজিশনে বা স্ট্রাইকার হিসেবেও ভূমিকা রাখতে পারেন। তবে তার মূল শক্তি হলো ওয়ান-অন-ওয়ান ড্রিবলিং এবং বল নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা।
বরুসিয়া ডর্টমুন্ড ঐতিহাসিকভাবেই তরুণ প্রতিভাদের বিকাশের জন্য পরিচিত। পুলিসিক, রেইনা কিংবা জ্যাডন সানচোদের উত্তরসূরি হিসেবে ম্যাথিস আলবার্ট এখন ক্লাব এবং যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় দলের বড় প্রত্যাশার কেন্দ্রবিন্দু। বুন্দেসলিগার মতো কঠিন প্রতিযোগিতামূলক লিগে এত কম বয়সে সুযোগ পাওয়া তার প্রতিভারই প্রতিফলন। ১৬ বছর বয়সেই পেশাদার ফুটবলের সর্বোচ্চ স্তরে পা রাখা এই উইঙ্গার আগামী দিনগুলোতে জার্মান ফুটবল ও আমেরিকান সকারকে কতটুকু সমৃদ্ধ করতে পারেন, সেটিই এখন দেখার বিষয়।