খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 15শে বৈশাখ ১৪৩৩ | ২৮ই এপ্রিল ২০২৬ | 1150 Dhu al-Hijjah 5
স্প্যানিশ ফুটবলের কিংবদন্তি মিডফিল্ডার এবং বার্সেলোনার সাবেক কোচ জাভি হার্নান্দেজ সম্প্রতি ফুটবল বিশ্বের সমসাময়িক বিভিন্ন ইস্যু, নেইমারের শ্রেষ্ঠত্ব এবং আসন্ন ২০২৬ বিশ্বকাপ নিয়ে তাঁর গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন। বার্সেলোনায় একসময়কার সতীর্থ নেইমার জুনিয়রকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করার পাশাপাশি তিনি আগামী বিশ্বকাপের সম্ভাব্য বিজয়ী এবং নিজের ভবিষ্যৎ কোচিং ক্যারিয়ার নিয়েও খোলামেলা আলোচনা করেছেন। ব্রাজিলের কিংবদন্তি ফুটবলার রোমারিও’র ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে জাভি এই অভিমত ব্যক্ত করেন।
জাভি হার্নান্দেজ ও নেইমার জুনিয়র বার্সেলোনায় ২০১৩ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত মাত্র দুই মৌসুম একসাথে খেললেও তাঁদের মধ্যকার পেশাদার রসায়ন ছিল অত্যন্ত কার্যকর। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে তাঁরা উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগ, স্প্যানিশ লা লিগা, কোপা ডেল রে এবং স্প্যানিশ সুপার কাপসহ প্রধান শিরোপাগুলো জয় করেছিলেন। জাভির মতে, লিওনেল মেসির পর নেইমারই এমন একজন ফুটবলার, যাঁর প্রতিভা অনন্য উচ্চতায়।
সাক্ষাৎকারে জাভি বলেন, “বার্সেলোনায় যোগ দেওয়ার প্রথম সপ্তাহেই নেইমারকে দেখে আমার মনে হয়েছিল, লিওনেল মেসির সবচেয়ে কাছাকাছি যাওয়ার সক্ষমতা যদি কারো থাকে, তবে সেটি নেইমারের। মাত্র ২১ বছর বয়সে তিনি যখন আমাদের সঙ্গে যোগ দেন, তখন তাঁর ড্রিবলিং এবং ফুটবলীয় মেধা দেখে আমি বিস্মিত হয়েছিলাম।” জাভি আরও ব্যাখ্যা করেন যে, মাঠে তাঁর ভূমিকা ছিল খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করা, আর নেইমারের কাজ ছিল প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ ভেঙে আক্রমণ সফলভাবে সমাপ্ত করা। উল্লেখ্য যে, মেসি, নেইমার ও সুয়ারেজকে নিয়ে গঠিত সেই আক্রমণভাগ ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম ভয়ংকর ‘ত্রয়ী’ হিসেবে স্বীকৃত।
বার্সেলোনার কোচ হিসেবে দায়িত্ব পালনকালীন জাভি নেইমারকে পুনরায় ন্যু ক্যাম্পে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা করেছিলেন। তিনি জানান, নেইমারের দক্ষতা নিয়ে তাঁর মনে কোনো সংশয় ছিল না, কিন্তু ক্লাবের তৎকালীন আর্থিক সীমাবদ্ধতা এবং ‘ফিন্যান্সিয়াল ফেয়ার প্লে’ নীতির কড়াকড়ির কারণে সেই দলবদল সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি। বর্তমানে নেইমার ব্রাজিলের ক্লাব সান্তোসে খেলছেন এবং জাতীয় দলে নিজের হারানো জায়গা ফিরে পেতে নিরন্তর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
২০২৬ বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নেইমারের জন্য একটি বড় লক্ষ্য হলেও ইনজুরি বা চোট তাঁর প্রধান অন্তরায় হয়ে দাঁড়িয়েছে। চোটের কারণে তিনি মার্চ মাসে ক্রোয়েশিয়া ও ফ্রান্সের বিপক্ষে ব্রাজিলের প্রীতি ম্যাচে অংশ নিতে পারেননি। দ্রুত সুস্থতার লক্ষ্যে তিনি ‘প্লাটিলেট-রিচ প্লাজমা’ থেরাপি গ্রহণ করেছেন। আগামী ২৮ এপ্রিল আর্জেন্টিনার ক্লাব সান লোরেঞ্জোর বিপক্ষে কোপা সুদামেরিকানা ম্যাচে তাঁর মাঠে ফেরার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে ১৮ মে ঘোষিত হতে যাওয়া ব্রাজিলের বিশ্বকাপ স্কোয়াডে তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে ফুটবল মহলে জল্পনা চলছে।
২০২৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপ আগামী ১১ জুন থেকে ১৯ জুলাই পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডায় অনুষ্ঠিত হবে। এই বিশ্ব আসর নিয়ে জাভির বাজি মূলত ব্রাজিলের ওপর। এর পেছনে তিনি দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন: ১. কার্লো আনচেলত্তির নেতৃত্ব: জাভির মতে, আনচেলত্তি এমন একজন অভিজ্ঞ কোচ, যিনি ফুটবলারদের ব্যক্তিগত দক্ষতা এবং দলের সম্মিলিত শক্তিকে সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে দক্ষ। ২. ঐতিহ্যগত শক্তি: বিশ্বকাপের ইতিহাসে ব্রাজিল সব সময়ই অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে অবতীর্ণ হয়।
ব্রাজিল ছাড়াও জাভির ফেভারিট তালিকায় রয়েছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা, স্পেন, ফ্রান্স এবং পর্তুগাল। ইংল্যান্ডকে তিনি এবারের আসরে ‘ডার্ক হর্স’ বা সম্ভাব্য চমক হিসেবে দেখছেন। তবে জার্মানিকে তিনি আগের মতো অপ্রতিরোধ্য মনে করছেন না। নিজের দেশ স্পেন সম্পর্কে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “স্পেন এমন একটি দেশ যেখানে ফুটবল মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের মতো। আমাদের জার্সিতে দ্বিতীয় বিশ্বজয়ের তারকা যুক্ত হওয়াটা হবে অত্যন্ত গর্বের বিষয়।”
সাক্ষাৎকারে জাভি হার্নান্দেজকে ব্রাজিল জাতীয় দলের কোচ হওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি ইতিবাচক সাড়া দেন। তিনি জানান, যেকোনো বড় এবং চ্যালেঞ্জিং প্রজেক্টের জন্য তিনি মানসিকভাবে প্রস্তুত। জাভির মতে, ব্রাজিল হলো ফুটবলের আঁতুড়ঘর এবং সেখানে কাজ করার সুযোগ পেলে বড় কোনো অর্জন বা শিরোপা জয়ের সম্ভাবনা থাকে। তাই ভবিষ্যতে সুযোগ এলে তিনি ব্রাজিলের ডাগআউটে দাঁড়ানোর সম্ভাবনা উডিয়ে দেননি।
সার্বিকভাবে, জাভি হার্নান্দেজের এই সাক্ষাৎকারটি নেইমারের ফিটনেস, ব্রাজিলের ফুটবলীয় সম্ভাবনা এবং আগামী বিশ্বকাপের কৌশলগত দিকগুলো নিয়ে একটি স্বচ্ছ ধারণা প্রদান করে। এখন ফুটবল বিশ্বের চোখ ১৮ মে’র দিকে, যেদিন জানা যাবে নেইমার ২০২৬ বিশ্বকাপের চূড়ান্ত মিশনে জায়গা পাচ্ছেন কি না।