যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন বলে নিশ্চিত করেছেন এক মার্কিন কর্মকর্তা। এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ দুই মাস ধরে চলমান সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক প্রচেষ্টা আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
ইরান যে প্রস্তাব দিয়েছিল, তাতে বলা হয়েছিল—প্রথম ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখে যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছানো এবং পারস্য উপসাগরে নৌচলাচল সংক্রান্ত বিরোধ সমাধান করা। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান ছিল, পারমাণবিক বিরোধ নিষ্পত্তি ছাড়া কোনো ধরনের চূড়ান্ত চুক্তি সম্ভব নয়। এই মৌলিক মতপার্থক্যের কারণেই আলোচনায় অগ্রগতি হয়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মার্কিন কর্মকর্তার তথ্য অনুযায়ী, সোমবার ট্রাম্প তাঁর উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠকে ইরানের প্রস্তাব নাকচ করেন। এর ফলে ইতিমধ্যেই জটিল হয়ে ওঠা কূটনৈতিক প্রক্রিয়া আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এদিকে চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি গত দুই দিনে দুইবার পাকিস্তান সফর করেন। এরপর তিনি রাশিয়ায় গিয়ে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং সমর্থন লাভ করেন বলে জানা যায়।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের পাকিস্তান সফর হঠাৎ বাতিল হওয়ায় আলোচনার অগ্রগতি বড় ধাক্কা খায়।
জ্বালানি পরিবহন ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি
সংঘাত অব্যাহত থাকায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। নিচের সারণিতে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
সংঘাতের আগে |
সাম্প্রতিক অবস্থা |
| দৈনিক জাহাজ চলাচল |
১২৫–১৪০টি জাহাজ |
মাত্র ৭টি জাহাজ |
| তেলবাহী জাহাজ |
নিয়মিত প্রবাহ ছিল |
কোনো তেলবাহী জাহাজ নেই |
| মার্কিন অবরোধে ফেরত ট্যাংকার |
উল্লেখ নেই |
অন্তত ৬টি ট্যাংকার |
বিশ্লেষকদের মতে, এই পথ দিয়ে তেল পরিবহন কমে যাওয়ায় বৈশ্বিক বাজারে মূল্যস্ফীতি বাড়ার চাপ তৈরি হয়েছে। এক বাজার বিশ্লেষক বলেন, বাণিজ্যিক পরিবেশে এখন কথার চেয়ে বাস্তব জ্বালানি প্রবাহ বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, সাম্প্রতিক ঘটনায় তাদের তেলবাহী জাহাজগুলোকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যাকে তারা সমুদ্রপথে বাধা ও অনিয়ম বলে উল্লেখ করেছে।
রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রস্তাব
ইরানের প্রস্তাবে ধাপে ধাপে সমাধানের রূপরেখা দেওয়া হয়েছিল। প্রথম ধাপে যুদ্ধবিরতি ও পুনরায় হামলা না করার নিশ্চয়তা, দ্বিতীয় ধাপে নৌঅবরোধ প্রত্যাহার এবং হরমুজ প্রণালির স্বাভাবিক চলাচল, এবং তৃতীয় ধাপে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা।
তবে যুক্তরাষ্ট্র এই ধাপভিত্তিক কাঠামো গ্রহণ করেনি এবং সরাসরি পারমাণবিক ইস্যু সমাধানের ওপর জোর দিয়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে উভয় পক্ষের অবস্থান অপরিবর্তিত থাকায় শান্তি আলোচনা অনিশ্চিত অবস্থায় রয়েছে এবং সংঘাত নিরসনের কোনো তাৎক্ষণিক সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।