এবিএম জাকিরুল হক টিটন
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ এপ্রিল ২০২৬
বাঙালির স্বাধীনতা ও সংগ্রামের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় নাম—বিপ্লবী রবি নিয়োগী।
১৯০৯ সালের ২৯ এপ্রিল, বৃহত্তর ময়মনসিংহের শেরপুর জেলার গৃদানারায়ণপুর গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত জমিদার পরিবারে তাঁর জন্ম। পিতা রমেশ চন্দ্র নিয়োগী ও মাতা সুরবালা নিয়োগী—উভয়েই তৎকালীন কংগ্রেস রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন, যা তাঁর রাজনৈতিক চেতনার বীজ বপন করে শৈশবেই।
১৯২৬ সালে শেরপুর গোবিন্দ কুমার পিস মেমোরিয়াল হাইস্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাস করার পর তিনি আনন্দ মোহন কলেজে ভর্তি হন। কিন্তু রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে বহিষ্কৃত হয়ে কলকাতার বিদ্যাসাগর কলেজে ভর্তি হন। সেখানেই তাঁর পরিচয় ঘটে বিপ্লবী যুগান্তর দলের সঙ্গে—যা তাঁর জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেয়।
১৯৩০ সালে কংগ্রেসের সত্যাগ্রহ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকার জন্য তিনি প্রথমবার গ্রেপ্তার হন। একই বছর চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর ময়মনসিংহে যুগান্তর দলের নেতৃত্বে থাকার কারণে আবারও বন্দি হন।
১৯৩১ সালে সালদা জমিদার বাড়িতে যুগান্তর দলের অভিযানের ঘটনায় তাঁকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। প্রথমে রাজশাহী কারাগারে এবং পরে ‘বিপজ্জনক বন্দি’ হিসেবে তাঁকে পাঠানো হয় আন্দামানের সেলুলার জেলে—যেখানে তিনি অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেও আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি।
১৯৩৭ সালে মুক্তি লাভের পর তিনি ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেন এবং কৃষক-শ্রমিকের অধিকার আদায়ে নিজেকে সম্পূর্ণভাবে নিবেদিত করেন। ১৯৪৩ সালে নলিতাবাড়ীর প্রাদেশিক কৃষক সম্মেলন এবং ১৯৪৫ সালে নেত্রকোনার সর্বভারতীয় কৃষক সম্মেলনের অন্যতম প্রধান উদ্যোক্তা ছিলেন তিনি।
দেশভাগের পর পূর্ব পাকিস্তান কমিউনিস্ট পার্টি এবং স্বাধীনতার পর বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন সংগ্রাম চালিয়ে যান।
দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনের অবসান ঘটে ২০০২ সালের ১০ মে, শেরপুরেই।
তাঁর জীবন আমাদের শিখিয়ে যায়—আদর্শ, সাহস ও আত্মত্যাগ কখনো বৃথা যায় না।
বিপ্লবী রবি নিয়োগীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও বিনম্র প্রণাম।
লেখকঃ সম্পাদক ও প্রকাশক,খবরওয়ালা