খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
ঈদ উপলক্ষে মুক্তি পাওয়া চলচ্চিত্র ‘প্রেশার কুকার’-এ ব্যবহৃত গানটি নিয়ে সংগীতশিল্পী অংকন কুমার আবারও আলোচনায় এসেছেন। গানটি তার কণ্ঠে, তারই লেখা ও সুরে তৈরি হলেও শুরুতে এটি তার জন্য পরিকল্পিত ছিল না। পরবর্তীতে বিভিন্ন সিদ্ধান্ত ও পরিবর্তনের মাধ্যমে গানটি তার কণ্ঠেই প্রকাশিত হয় এবং ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করে।
গানটি মূলত সংগীত প্রযোজক জাহিদ নিরবের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। সুর ও গানের কাঠামো তৈরির সময়ও তাকে মাথায় রেখে কাজ করা হয়। তবে পরবর্তীতে জাহিদ নিরব নিজে গানটি না গেয়ে অংকন কুমারকে গাওয়ার অনুরোধ জানান। তার মতে, অংকনের কণ্ঠ ও আবেগ প্রকাশের ধরন গানটির সঙ্গে বেশি মানানসই হবে। সেই অনুরোধ গ্রহণ করে অংকন গানটি পরিবেশন করেন।
পরে চলচ্চিত্র নির্মাতার টিমের সঙ্গে গানটি নিয়ে আলোচনা হয়। সেই সময় চলচ্চিত্রটির শুটিং চলছিল। আলোচনার পর গানটি চলচ্চিত্রে যুক্ত করা হয়, যা গানটির প্রচার ও জনপ্রিয়তায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
গত একুশ মার্চ একটি জনপ্রিয় অনলাইন ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে গানটির চিত্র প্রকাশিত হয়। প্রকাশের পর থেকেই গানটি দ্রুত দর্শক ও শ্রোতাদের মনোযোগ আকর্ষণ করে। দেড় মাসের মধ্যে গানটির ভিডিও প্রায় দশ লাখ বার দেখা হয়েছে। গানটি প্রেমিক ও প্রেমিকার আবেগ, আকুতি এবং অনুভূতিকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়ায় অনেকেই নিজেদের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে এর মিল খুঁজে পান।
| বিষয় | বিবরণ |
|---|---|
| গানটির নাম | বড়াই করে |
| শিল্পী | অংকন কুমার |
| কথা ও সুর | অংকন কুমার |
| ব্যবহৃত চলচ্চিত্র | প্রেশার কুকার |
| প্রথম প্রকাশ মাধ্যম | অনলাইন ভিডিও প্রকাশ প্ল্যাটফর্ম |
| প্রকাশের তারিখ | একুশ মার্চ |
| দর্শক সংখ্যা (প্রায়) | দশ লাখ বার |
অংকন কুমার প্রথম পরিচিতি পান ‘উপ’ নামের একটি মৌলিক গান দিয়ে। ২০২২ সালে একটি সংগীত আয়োজনে গানটি প্রকাশের পর তিনি সংগীত অঙ্গনে আলোচনায় আসেন। এরপর তার একাধিক গান শ্রোতাদের মধ্যে গ্রহণযোগ্যতা পায়। তিনি অল্প সংখ্যক হলেও মানসম্মত মৌলিক গান প্রকাশের জন্য পরিচিত।
গত কয়েক বছরে তিনি পাঁচ থেকে ছয়টি মৌলিক গান প্রকাশ করেছেন। তার গানের প্রধান বিষয়বস্তু প্রেম, সম্পর্ক এবং আবেগের জটিল দিকগুলো। তিনি মনে করেন, প্রেমের সম্পর্কের মধ্যে অনেক অপ্রকাশিত অনুভূতি থাকে—যেমন দূরত্ব, না পাওয়ার কষ্ট এবং একতরফা ভালোবাসা—যা সংগীতের মাধ্যমে প্রকাশ করা জরুরি।
গানের সংখ্যা কম হওয়া প্রসঙ্গে অংকন কুমার জানান, তিনি পরিমাণের চেয়ে মানের ওপর গুরুত্ব দেন। তার লক্ষ্য এমন সংগীত তৈরি করা, যা দীর্ঘ সময় শ্রোতাদের মনে থাকবে এবং শব্দ ও সুরের মান আন্তর্জাতিক পর্যায়ের কাছাকাছি হবে।
সংগীতের পাশাপাশি অংকন কুমার খেলাধুলার সঙ্গেও যুক্ত। তিনি নিয়মিত ফুটবল খেলেন এবং মিডফিল্ডার ও স্ট্রাইকার হিসেবে খেলায় অংশ নেন। অবসরে তিনি সাহিত্যচর্চা করেন, বিশেষ করে উপন্যাস, কবিতা এবং চিত্রকাহিনি পড়তে পছন্দ করেন। এছাড়া তিনি অবসর সময়ে বিভিন্ন ধরনের কৌশলভিত্তিক খেলা এবং অ্যানিমেশন চলচ্চিত্র দেখেন।
ঢাকায় জন্ম ও বেড়ে ওঠা অংকন কুমারের। তার পরিবার সংগীতের সঙ্গে যুক্ত থাকায় ছোটবেলা থেকেই তিনি সংগীতচর্চার পরিবেশে বড় হয়েছেন। বর্তমানে তিনি তার প্রথম একক অ্যালবামের কাজ করছেন, যেখানে চার থেকে পাঁচটি মৌলিক গান থাকবে। পাশাপাশি একটি যৌথ অ্যালবামের কাজও চলছে, যেখানে আধুনিক ধারার সংগীতকে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া আরও কয়েকটি সংগীত প্রকল্প তার পরিকল্পনায় রয়েছে, যা তিনি ভবিষ্যতে প্রকাশ করবেন।