খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৫ মে ২০২৬
টাঙ্গাইলের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে মহান মুক্তিযুদ্ধের সাত বীরশ্রেষ্ঠের আবক্ষ ভাস্কর্যকে ঘিরে নির্মিত মেলার স্টলের দড়ি ভাস্কর্যের গলায় বাঁধা অবস্থায় দেখা যাওয়াকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনা ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশনের উদ্যোগে আয়োজিত একটি মেলায় স্টল নির্মাণের অংশ হিসেবে এই ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রীর উপস্থিতিতে মেলার উদ্বোধন করা হয়। শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানজুড়ে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য বিভিন্ন স্টল নির্মাণ করা হয়। তবে উদ্যানের ভেতরে স্থাপিত বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্যের সামনে ও আশপাশে স্টল বসানো হয় এবং স্টলগুলোর কাঠামো ধরে রাখার জন্য টানা দড়ি ব্যবহার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, এসব দড়ির একটি অংশ সরাসরি ভাস্কর্যের গলায় বেঁধে দেওয়া হয়, যা পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনাটির ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ার পরই ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। অনেকে এটিকে মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি চরম অবমাননা হিসেবে উল্লেখ করেন। কেউ কেউ বলেন, এটি কেবল অব্যবস্থাপনা নয়, বরং ইতিহাস ও জাতির গৌরবময় অধ্যায়ের প্রতি অসচেতনতার প্রকাশ।
ঘটনাটি নিয়ে বিভিন্ন পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সামাজিক সংগঠনের নেতারা ক্ষোভ প্রকাশ করেন। সামাজিক মাধ্যমে অনেকে তীব্র ভাষায় নিন্দা জানান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তোলেন। স্থানীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলোর নেতারাও বিষয়টিকে দুঃখজনক বলে উল্লেখ করেন।
নিচে সামাজিক মাধ্যমে আসা কিছু প্রতিক্রিয়ার সারসংক্ষেপ দেওয়া হলো—
| ব্যক্তি/গোষ্ঠী | প্রতিক্রিয়ার সারসংক্ষেপ |
|---|---|
| স্থানীয় নাগরিক | ঘটনাটিকে বীরশ্রেষ্ঠদের প্রতি অবমাননা বলে উল্লেখ |
| সাংস্কৃতিক সংগঠন | ইতিহাস বিকৃতির শামিল বলে মন্তব্য |
| ছাত্র আন্দোলনের নেতা | প্রশাসনের অবহেলা ও অদক্ষতার অভিযোগ |
| শিক্ষাবিদ | ভবিষ্যতে এমন কাজ এড়াতে কঠোর নজরদারির দাবি |
মেলা আয়োজনের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মেলার ৯ দিনের মাথায় এই ধরনের ঘটনা ঘটেছে। তবে কীভাবে বা কার নির্দেশনায় দড়ি ভাস্কর্যের গলায় যুক্ত হলো, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার বিষয়টি নজরে আসার পর দ্রুত দড়ি খুলে ফেলা হয় বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়।
স্থানীয় শিক্ষাবিদ ও অবসরপ্রাপ্ত কলেজ অধ্যক্ষরা বলেন, বীরশ্রেষ্ঠদের ভাস্কর্য জাতীয় সম্মানের প্রতীক। এর আশপাশে যেকোনো ধরনের নির্মাণ বা বাণিজ্যিক আয়োজন করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল। তাদের মতে, এমন ঘটনায় প্রশাসনিক সমন্বয়ের ঘাটতি ও পরিকল্পনার দুর্বলতা স্পষ্ট হয়েছে।
ঘটনাটি ঘিরে টাঙ্গাইলজুড়ে আলোচনা ও সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। অনেকেই মনে করছেন, ভবিষ্যতে জাতীয় ইতিহাস ও বীরত্বগাথা স্মৃতিসৌধকে কেন্দ্র করে যেকোনো আয়োজন করার আগে আরও সুস্পষ্ট নীতিমালা ও কঠোর তদারকি প্রয়োজন, যাতে এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি আর না ঘটে।