চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রোগীর সংখ্যা সাম্প্রতিক সময়ে উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। রোগীর চাপ বাড়ার ফলে হাসপাতালের শয্যা সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে অধিকাংশ শয্যায় একটির পরিবর্তে দুটি করে শিশুকে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। কোথাও আবার শয্যার অভাবে মায়ের কোলে রেখেই স্যালাইন দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত এক মাসে শিশু ওয়ার্ডে হামের উপসর্গ নিয়ে রোগী ভর্তি হওয়ার হার কয়েক গুণ বেড়েছে। ফলে চিকিৎসা সেবার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার সরেজমিনে শিশু ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, পুরো ওয়ার্ডজুড়ে শিশুদের কান্না, স্বজনদের উদ্বেগ এবং দীর্ঘশ্বাসে ভারী এক পরিবেশ বিরাজ করছে।
চিকিৎসক ও হাসপাতাল সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, শিশু ওয়ার্ডে শয্যার সংখ্যা রোগীর তুলনায় অনেক কম হওয়ায় একই শয্যায় একাধিক শিশুকে রাখতে বাধ্য হতে হচ্ছে। এতে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ ও সেবাদান উভয় ক্ষেত্রেই জটিলতা তৈরি হয়েছে।
হাসপাতাল সূত্র আরও জানায়, এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে এখানে ৫১টি শিশুর মৃত্যু হয়ে… (প্রাপ্ত তথ্য অসম্পূর্ণ)। এই তথ্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাথমিক হিসাবের অংশ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
হাসপাতালের বর্তমান পরিস্থিতি আরও স্পষ্টভাবে বোঝাতে নিচের টেবিলে প্রধান দিকগুলো তুলে ধরা হলো—
| বিষয় |
বর্তমান অবস্থা |
| রোগীর চাপ |
গত এক মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে |
| শয্যা ব্যবহার |
একাধিক ওয়ার্ডে একটি শয্যায় ২ জন শিশু |
| চিকিৎসা ব্যবস্থা |
শয্যা সংকটের কারণে কোলে স্যালাইন প্রদান করা হচ্ছে |
| ওয়ার্ড পরিস্থিতি |
শিশুদের কান্না ও স্বজনদের উদ্বেগপূর্ণ পরিবেশ |
| মৃত্যুর তথ্য |
হামের উপসর্গ নিয়ে ৫১টি শিশুর মৃত্যু হওয়ার তথ্য (অসম্পূর্ণ) |
হাম একটি সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ, যা সাধারণত শিশুদের মধ্যে বেশি দেখা যায়। রোগটির বিস্তার দ্রুত হওয়ায় হাসপাতালে ভিড় বাড়লে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ওয়ার্ডে ঘনবসতিপূর্ণ পরিস্থিতি থাকলে ঝুঁকি আরও বৃদ্ধি পায়।
চিকিৎসা ব্যবস্থার এমন পরিস্থিতিতে রোগীর চাপ সামাল দিতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অতিরিক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হচ্ছে। তবে শয্যা সংকট ও রোগীর দ্রুত বৃদ্ধির কারণে স্বাভাবিক সেবা বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়ছে।
বর্তমান পরিস্থিতি অনুযায়ী শিশু ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা ও চিকিৎসা ব্যবস্থার সক্ষমতার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে, যা স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করছে।