খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: রবিবার, ১৭ মে ২০২৬
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার গাড়াদহ ইউনিয়নের টেকুয়াপাড়া গ্রামে রক্তমাখা চিঠি দিয়ে ডাকাতির হুমকির ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনার প্রেক্ষিতে শনিবার (১৬ মে) গভীর রাতে সিরাজগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু ঘটনাস্থল সরেজমিন পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শনের সময় তিনি স্থানীয় বাসিন্দাদের সাথে কথা বলেন এবং তাদের আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দেন। একই সাথে তিনি গ্রামের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহায়তার আশ্বাস প্রদান করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েক দিন ধরে টেকুয়াপাড়া গ্রামে অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা চেতনানাশক স্প্রে প্রয়োগ করে ধারাবাহিকভাবে চুরি ও ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়ে আসছে। এই ধারাবাহিকতার মধ্যেই গত ৪-৫ দিনে গ্রামের অন্তত ১৫টি বাড়িতে ‘রঘু ডাকাত’ পরিচয়ে হুমকি সংবলিত চিঠি পাঠানো হয়। এর মধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা আবু সাঈদের বাড়িতে প্রেরিত চিঠিটিতে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে, যা জনমনে তীব্র আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
চিঠির বিষয়বস্তুতে অত্যন্ত স্পষ্টভাবে হুমকি দিয়ে বলা হয়েছে:
“কালকে আপনাদের বাড়িতে ডাকাতি করতে আসব, তাই দরজা খোলা রাখবেন। না খুলে রাখলে জিন্দা খালাস…? ইতি রঘু ডাকাত।”
গ্রামবাসী সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ইতিপূর্বেই এই চক্রটি একাধিক বাড়িতে চেতনানাশক স্প্রে করে এবং গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করেছে। তারা লকার ও আলমারি ভেঙে নগদ টাকা, স্বর্ণালংকার, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করেছে। এছাড়া একটি বাড়ি থেকে আনুমানিক দুই লাখ টাকা মূল্যের একটি ষাঁড় গরু চুরির ঘটনাও ঘটেছে।
আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহাকে (কোরবানির ঈদ) কেন্দ্র করে এই অঞ্চলের খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা তাদের গবাদিপশু নিয়ে চরম উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন। চুরির ভয়ে অনেকেই রাত জেগে নিজ নিজ বাড়ি ও গোয়ালঘর পাহারা দিচ্ছেন এবং নির্ঘুম রাত কাটাচ্ছেন।
টেকুয়াপাড়া গ্রামে এ পর্যন্ত সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড ও ক্ষয়ক্ষতির একটি বিবরণ নিচে টেবিল আকারে উপস্থাপন করা হলো:
| অপরাধের ধরন | আক্রান্ত স্থান/ব্যক্তি | লুণ্ঠিত বা ক্ষতিগ্রস্ত সম্পদের বিবরণ | বর্তমান পরিস্থিতি ও প্রভাব |
| রক্তমাখা চিঠিতে হুমকি | আবু সাঈদের বাড়ি | রক্তের দাগ সংবলিত লিখিত হুমকি | পরিবার ও প্রতিবেশীদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক |
| সাধারণ চিঠিতে হুমকি | অন্তত ১৪টি বাড়ি | ‘রঘু ডাকাত’ পরিচয়ে ডাকাতির হুমকি | গ্রামজুড়ে রাত্রিকালীন উদ্বেগ |
| চেতনানাশক স্প্রে ও লুটপাট | একাধিক বসতবাড়ি | নগদ টাকা এবং স্বর্ণালংকার | আর্থিক ক্ষতি ও নিরাপত্তা হীনতা |
| গ্রিল কেটে চুরি | একাধিক বসতবাড়ি | মোবাইল ফোন ও মূল্যবান জিনিসপত্র | গৃহস্থালি নিরাপত্তার অভাব |
| গবাদিপশু চুরি | স্থানীয় খামারি | আনুমানিক ২ লক্ষ টাকা মূল্যের ১টি ষাঁড় গরু | কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে খামারিদের নির্ঘুম রাত যাপন |
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং গ্রামবাসীদের মাঝে আস্থা ফিরিয়ে আনতে জেলা পুলিশ প্রশাসন দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে পুলিশ সুপার মো. সাইফুল ইসলাম সানতু জানান, এলাকায় পুলিশের নিয়মিত টহল জোরদার করা হয়েছে এবং অপরাধীদের শনাক্ত করতে একাধিক পুলিশ টিম মাঠে কাজ করছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয় জনসাধারণের সমন্বিত প্রচেষ্টায় গ্রামকে নিরাপদ রাখার পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে গ্রামবাসীর আত্মরক্ষা ও পাহারার সুবিধার্থে পুলিশের পক্ষ থেকে লাঠি, টর্চলাইট ও বাঁশি সরবরাহ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পুলিশ সুপার দৃঢ়তার সাথে ব্যক্ত করেন যে, এই দুষ্কৃতকারীদের দ্রুততম সময়ের মধ্যে আইনের আওতায় আনতে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।