খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
বাংলাদেশের পপ এবং লোকসংগীতের ফিউশন বা মিশ্র ধারায় ২০০৩ সালে এক যুগান্তকারী পরিবর্তনের সূচনা করেছিল ‘কৃষ্ণ’ নামক অ্যালবামটি। লোকগানের আধুনিক এই প্রকাশনায় বিশিষ্ট সংগীতশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ এবং প্রবীণ লোকশিল্পী কায়ার অনন্য কণ্ঠশৈলী তৎকালীন দেশের আপামর শ্রোতা, বিশেষ করে তরুণদের মন জয় করতে সক্ষম হয়েছিল। এর পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৪ সালে, কায়া ও হেলালকে সঙ্গে নিয়ে হাবিব প্রকাশ করেন ‘মায়া’ শিরোনামের আরেকটি জনপ্রিয় ফিউশন অ্যালবাম। সেই ঐতিহাসিক সূচনার পর সুদীর্ঘ বাইশ বছরের এক বিশাল বিরতি পেরিয়ে আবারও ফিরছে হাবিব-কায়া জুটি। আগামী ২৭ মে ২০২৬ তারিখে হাবিব ওয়াহিদের নিজস্ব অফিশিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পেতে যাচ্ছে তাঁদের নতুন গান ‘কই রইলা রে’। এবারের নতুন সৃষ্টিতে এই দুই প্রথিতযশা সংগীতশিল্পীর সঙ্গে তৃতীয় প্রজন্ম হিসেবে যুক্ত হয়েছেন বর্তমান সময়ের শ্রোতাপ্রিয় তরুণ সংগীতশিল্পী মুজা।
দীর্ঘ ২২ বছর পর কায়ার সঙ্গে নতুন কোনো গানের কাজ সম্পন্ন করতে পেরে অত্যন্ত আনন্দিত ও আশাবাদী সংগীত পরিচালক ও কণ্ঠশিল্পী হাবিব ওয়াহিদ। নতুন এই গানটির নেপথ্য কথা ও নিজের কাজের অভিজ্ঞতা নিয়ে হাবিব ওয়াহিদ বলেন, ‘এই গানটি নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক বেশি রোমাঞ্চিত। কারণ, প্রায় বাইশ বছর পর কায়া ভাইয়ের সঙ্গে আমার নতুন কোনো কাজ শ্রোতাদের মাঝে মুক্তি পাচ্ছে। গানটির প্রাথমিক রেকর্ডিং বা কণ্ঠ ধারণের কাজ অনেক আগে করা হলেও, বর্তমান যুগের আধুনিক সংগীতের শৈলী, স্টাইল এবং উপস্থাপন পদ্ধতি বা অ্যাপ্রোচকে প্রাধান্য দিয়ে এর নতুন মিউজিক বা সংগীতায়োজন সম্পন্ন করা হয়েছে।’
কায়া, হাবিব এবং মুজা—বাংলা গানের এই তিন ভিন্ন প্রজন্মের মেলবন্ধনকে হাবিব ওয়াহিদ ভবিষ্যতের জন্য একটি অত্যন্ত দারুণ এবং ঐতিহাসিক স্মৃতি হিসেবে গণ্য করেছেন। এই জুটির পেছনের সংযোগ ও আঞ্চলিক প্রেক্ষাপট নিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘কায়া ভাইয়ের সুর ও কণ্ঠে খাঁটি সিলেটি লোকগানের আধুনিকায়নের মধ্য দিয়েই মূলত আমার পেশাদার সংগীত ক্যারিয়ারের শুভ সূচনা হয়েছিল। কাকতালীয়ভাবে আমাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া তরুণ সংগীতশিল্পী মুজাও একজন সিলেটি এবং সে ছোটবেলা থেকেই কায়া ভাইয়ের কৃষ্ণ ও মায়ার মতো সফল অ্যালবামগুলোর গান শুনে সংগীতে আসার অনুপ্রেরণা পেয়েছে। সুতরাং, আমরা তিনজন প্রথমবারের মতো একই প্ল্যাটফর্মে বা গানে একত্রিত হয়েছি, আশা করি শ্রোতারা চমৎকার কিছু পাবেন।’
নিচে নতুন এই গানের সামগ্রিক তথ্যাদি ও কারিগরি বিবরণ ছকের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হলো:
| গানের মূল শিরোনাম | মূল কণ্ঠশিল্পী ও ধারক | নতুন সংস্করণ ও আধুনিকায়ন | আদি গীতিকার ও সুরকার | প্রকাশ মাধ্যম ও প্রকাশের তারিখ |
| কই রইলা রে | কায়া (সিলেটের লোকশিল্পী) | হাবিব ওয়াহিদ এবং মুজা | সৈয়দ দুলাল (সিলেটের ফোক শিল্পী) | হাবিব ওয়াহিদের ইউটিউব চ্যানেল (২৭ মে ২০২৬) |
সংগীত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন ‘কই রইলা রে’ গানটির মূল লেখক, রচয়িতা এবং সুরকার হলেন সিলেটের প্রখ্যাত লোক বা ফোক শিল্পী সৈয়দ দুলাল। এটি মূলত একটি পুরনো মৌলিক লোকগানের নতুন সংস্করণ বা রিমেক হলেও, সমকালীন ধারাকে ফুটিয়ে তুলতে গানটির মুজা এবং হাবিব ওয়াহিদের অংশে কিছু আধুনিক ও নতুন লিরিক বা কথা যুক্ত করা হয়েছে।
গানটির মূল বিষয়বস্তু ও অন্তর্নিহিত দর্শন সম্পর্কে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাবিব ওয়াহিদ জানান যে, এই সৃষ্টিটি মূলত একটি গভীর আধ্যাত্মিক ঘরানার গান। গানের বাণীর মাধ্যমে মানবজীবনের প্রাত্যহিক ও ছোট ছোট সুন্দর মুহূর্তগুলোর মাঝে পরম স্রষ্টার অস্তিত্ব কিংবা মনের অনাবিল আত্মিক প্রশান্তি খুঁজে পাওয়ার কথা অত্যন্ত চমৎকারভাবে বর্ণনা করা হয়েছে, যা শ্রোতাদের অন্তরে এক ভিন্ন স্বাদের আবহ তৈরি করবে।