খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২৫ মে ২০২৬
লেবাননের ঐতিহাসিক ‘প্রতিরোধ ও মুক্তি দিবস’ উপলক্ষে দেশটির সরকার, জনগণ এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর প্রতি পৃথক বার্তা পাঠিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। লেবানন পার্লামেন্টের স্পিকার নাবিহ বেরি এবং হিজবুল্লাহর মহাসচিব নাঈম কাসেমের উদ্দেশে পাঠানো এসব বার্তায় তিনি হিজবুল্লাহ ও লেবাননের প্রতি ইরানের অবিচল সমর্থন পুনর্ব্যক্ত করেন। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার বরাতে এসব তথ্য জানা গেছে।
বার্তায় আব্বাস আরাগচি ২০০০ সালে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ঘটনাকে ঐতিহাসিক অর্জন হিসেবে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিরুদ্ধে লেবাননের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় ইরান ভবিষ্যতেও লেবাননের পাশে থাকবে।
এই কূটনৈতিক বার্তা এমন এক সময়ে এসেছে, যখন আঞ্চলিক পরিস্থিতি নতুন করে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও হিজবুল্লাহকে কেন্দ্র করে লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যকার শান্তি আলোচনা প্রত্যাখ্যানের জন্য সংগঠনটির সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে তিনি লেবাননের জনগণকে হিজবুল্লাহর রাজনৈতিক ও সামরিক অবস্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানান বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে জানানো হয়।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২ মার্চ থেকে লেবাননে ইসরায়েলের বিমান ও স্থল হামলা বৃদ্ধি পাওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। এই মানবিক সংকট পরিস্থিতি লেবাননের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে।
আঞ্চলিক এ সংকটকে ঘিরে আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক তৎপরতাও বাড়ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সম্ভাব্য আলোচনায় লেবানন যুদ্ধ পরিস্থিতি অন্তর্ভুক্ত হবে কি না, তা নিয়ে এখনো স্পষ্টতা নেই। ফলে সংঘাত নিরসনের কূটনৈতিক পথ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।
অন্যদিকে, ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের পক্ষ থেকে লেবাননের ওপর রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক চাপ অব্যাহত রয়েছে। ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইসরায়েলের আত্মরক্ষার অধিকারের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করেছেন এবং বিভিন্ন ফ্রন্ট থেকে আসা হুমকির বিরুদ্ধে ইসরায়েলকে সমর্থন দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
এই অবস্থানের প্রেক্ষাপটে ইরানও নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে। তেহরান জানিয়েছে, তারা লেবাননকে কোনো পরিস্থিতিতেই একা ছেড়ে দেবে না এবং হিজবুল্লাহসহ লেবাননের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখে যেকোনো সম্ভাব্য চুক্তি বা যুদ্ধবিরতির আলোচনায় সমর্থন অব্যাহত রাখবে।
লেবাননের রাজনৈতিক বাস্তবতা, আঞ্চলিক সংঘাত এবং আন্তর্জাতিক শক্তিগুলোর অবস্থান মিলিয়ে পরিস্থিতি বর্তমানে জটিল রূপ নিয়েছে। প্রতিরোধ ও মুক্তি দিবসকে কেন্দ্র করে ইরানের এই বার্তা সেই বৃহত্তর ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেরই অংশ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যেখানে লেবানন ইস্যু মধ্যপ্রাচ্যের চলমান কূটনৈতিক সমীকরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।