খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৬ মে ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বৈধ নথিবিহীন চীনা নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে বেইজিংয়ের ধারাবাহিক অসহযোগিতার প্রেক্ষাপটে দেশটির ওপর কঠোর ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপের প্রস্তুতি নিচ্ছে মার্কিন প্রশাসন। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন বর্তমান প্রশাসন এই পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলে আন্তর্জাতিক বার্তাসংস্থা রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন একজন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, চীন যদি দ্রুততম সময়ের মধ্যে তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অগ্রসর হবে।
প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার অন্যতম প্রধান প্রতিশ্রুতি ছিল যুক্তরাষ্ট্রকে ‘অবৈধ অভিবাসীমুক্ত’ করা। সরকারি পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে প্রায় ১ লাখেরও বেশি নথিবিহীন চীনা নাগরিক অবস্থান করছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৩০ হাজার নাগরিককে নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য মার্কিন আদালত ইতোমধ্যেই নির্দেশ প্রদান করেছেন।
পূর্ববর্তী জো বাইডেন প্রশাসনের সময়কালে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চলীয় সীমান্ত দিয়ে বিপুল সংখ্যক চীনা নাগরিক অবৈধভাবে প্রবেশ করেন। এই প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে বর্তমান প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিয়েছে। যদিও ২০২৫ সালের শুরুতে চীন কয়েক দফায় প্রায় ৩ হাজার নাগরিককে ফেরত নিয়েছিল, কিন্তু গত ছয় মাস ধরে এই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্থবির হয়ে আছে। এই দীর্ঘ সময়ে চীন একজন নাগরিককেও ফেরত নেয়নি, যা দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে নতুন টানাপড়েন সৃষ্টি করেছে।
মার্কিন প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, বেইজিংয়ের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে তারা ধাপে ধাপে পদক্ষেপ গ্রহণের পরিকল্পনা করছেন। সরাসরি পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার আগে কিছু প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য পদক্ষেপগুলো নিচে তুলে ধরা হলো:
| পদক্ষেপের পর্যায় | প্রস্তাবিত কার্যক্রমের বিবরণ |
| প্রথম পর্যায় | চীনা দর্শনার্থীদের জন্য ভিসা ফি বা আবেদন ফি ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা। |
| দ্বিতীয় পর্যায় | ভিসা বাতিলের হার বা রিজেকশন রেট উল্লেখযোগ্য হারে বাড়িয়ে দেওয়া। |
| তৃতীয় পর্যায় | নির্দিষ্ট শ্রেণির কর্মকর্তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা। |
| চতুর্থ পর্যায় | স্থায়ীভাবে বা সাময়িকভাবে সাধারণ চীনা নাগরিকদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা জারি। |
এমন এক সময়ে এই নিষেধাজ্ঞার হুঁশিয়ারি এল যখন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগামী ১৪ ও ১৫ মে বেইজিং সফরের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে এই সফরটি ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আগামী নভেম্বর মাসে অনুষ্ঠিতব্য যুক্তরাষ্ট্রের পার্লামেন্ট নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির অবস্থান শক্ত করতে চীনের কাছ থেকে কিছু বাণিজ্যিক সুবিধা ও ছাড় আদায় করা এই সফরের অন্যতম লক্ষ্য।
যুক্তরাষ্ট্রের দাবি, বেইজিংয়ের সঙ্গে এ বিষয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তারা কোনো কার্যকর সাড়া দেয়নি। বরং বেইজিং পরোক্ষভাবে ইঙ্গিত দিয়েছে যে, এই নির্দিষ্ট ইস্যুতে তারা পূর্ণমাত্রায় সহযোগিতা করতে আগ্রহী নয়। ওয়াশিংটনের মতে, চীনের এই অসহযোগিতামূলক মনোভাব ভবিষ্যতে দেশটির বৈধ দর্শনার্থীদের যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের পথকেও সংকুচিত করে তুলবে।
এই বিষয়ে মন্তব্য জানতে রয়টার্সের পক্ষ থেকে ওয়াশিংটনে অবস্থিত চীনা দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছিল। তবে দূতাবাসের কোনো কর্মকর্তা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করতে বা প্রতিক্রিয়া জানাতে রাজি হননি। ফলে বিষয়টি নিয়ে বেইজিংয়ের আনুষ্ঠানিক অবস্থান এখনো অস্পষ্ট।
যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করছে। ট্রাম্প প্রশাসনের ওই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তারা বেইজিংয়ের ইতিবাচক সাড়ার জন্য আরও কিছুদিন ধৈর্য ধরবেন। তবে পরিস্থিতির উন্নতি না হলে উল্লিখিত ভিসা সংক্রান্ত কঠোর বিধিনিষেধ কার্যকর করা ছাড়া ওয়াশিংটনের কাছে অন্য কোনো বিকল্প থাকবে না। অভিবাসন নীতি বাস্তবায়নে ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।