খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) ও বেলুচিস্তান প্রদেশে নিরাপত্তা বাহিনী এক ব্যাপক গোয়েন্দা–তথ্যভিত্তিক অভিযান চালিয়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিকভাবে উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর মিডিয়া শাখা আইএসপিআর বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এসব অভিযানে ভারতীয় প্রক্সি গোষ্ঠীর অন্তত ৩৪ সদস্য নিহত হয়েছেন।
আইএসপিআরের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মূলত পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরেই হামলা চালিয়ে আসছে তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এবং অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠী। পাকিস্তান অভিযোগ করে আসছে যে, এসব সন্ত্রাসী গোষ্ঠীকে ভারত সহায়তা ও সমর্থন দিয়ে থাকে। এই কারণে পাকিস্তান তাদের ‘ভারতীয় প্রক্সি বাহিনী’, ফিতনা আল-খাওয়ারিজ এবং ফিতনা আল-হিন্দুস্তান নামে আখ্যায়িত করেছে।
আইএসপিআর আরও জানিয়েছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারি কেপিতে চারটি পৃথক সংঘর্ষে ফিতনা আল-খাওয়ারিজের ২৬ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। একই সময়ে বেলুচিস্তানের সামবাজা এলাকায় পরিচালিত অভিযানে ফিতনা আল-হিন্দুস্তানের ৮ জন সন্ত্রাসী নিহত হয়েছে। অভিযান চলমান থাকায় নিরাপত্তা বাহিনী আরও কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
সেনা জানায়, পাকিস্তান-আফগানিস্তান সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করা একদল সন্ত্রাসী নজরে আসে। এরপর নির্ভুল ও দক্ষ অভিযানের মাধ্যমে একজন আফগান নাগরিককে হত্যা করা হয়, যিনি ভারতীয় প্রক্সি বাহিনীর সদস্য হিসেবে পরিচিত।
নিম্নের টেবিলটি সাম্প্রতিক অভিযানের বিবরণ তুলে ধরছে:
| জেলা / এলাকা | গোষ্ঠী | নিহত সংখ্যা | অভিযান বিবরণ |
|---|---|---|---|
| খাইবার পাখতুনখোয়া (কেপি) | ফিতনা আল-খাওয়ারিজ | ২৬ | চারটি পৃথক সংঘর্ষে নিরাপত্তা বাহিনী পরিচালিত অভিযান |
| বেলুচিস্তান (সামবাজা) | ফিতনা আল-হিন্দুস্তান | ৮ | তীব্র গোলাগুলির পর সন্ত্রাসীরা নির্মূল |
| লাক্কি মারওয়াত | খারিজি | ৩ | গোয়েন্দাভিত্তিক অভিযান (আইবিও) |
| বান্নু (নারমি খেল) | খারিজি | ১০ | দুটি পৃথক সংঘর্ষে নিহত |
| উত্তর ওয়াজিরিস্তান (মির আলি) | খারিজি | ১২ | নির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী অভিযান |
| ঝোব (সামবাজা) | ফিতনা আল-হিন্দুস্তান | ৮ | তীব্র গোলাগুলির পর নিহত |
আইএসপিআর জানায়, নিহত সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী জানিয়েছে, এই অভিযানগুলোর মাধ্যমে সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর নেটওয়ার্ক ধ্বংস ও সীমান্ত নিরাপত্তা শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
পাকিস্তানের এই অভিযান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করছে, যা দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও সীমান্ত স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার জন্য পরিকল্পিত।