হরমুজে আটকে থাকা ‘বাংলার জয়যাত্রা’ জাহাজে নাবিকদের ঈদ
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বুধবার, ২৭ মে ২০২৬
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালিতে প্রায় তিন মাস ধরে আটকে রয়েছে বাংলাদেশের পতাকাবাহী রাষ্ট্রায়ত্ত জাহাজ ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’। বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) মালিকানাধীন এই জাহাজে থাকা ৩১ জন নাবিক সবাই বাংলাদেশি নাগরিক।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, জাহাজটি নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকির কারণে এখন পর্যন্ত তিনবার হরমুজ প্রণালি অতিক্রমের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। ফলে নির্ধারিত রুটে অগ্রসর হতে না পেরে এটি বর্তমানে ওই অঞ্চলে অবস্থান করছে।
এ অবস্থার মধ্যেই নাবিকদের ঈদ উদযাপন করতে হয়েছে সমুদ্রেই। গত ঈদুল ফিতর জাহাজেই কাটানোর পর এবার পবিত্র ঈদুল আজহাও তাদের জাহাজে অবস্থানকালে পালন করতে হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে টানা দুই ঈদের উৎসবই তারা পরিবার থেকে দূরে সমুদ্রপথে অবস্থানরত জাহাজে পালন করলেন।
বিএসসি এবং জাহাজে থাকা নাবিকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বর্তমানে জাহাজে পর্যাপ্ত খাদ্য ও পানির সরবরাহ রয়েছে এবং নাবিকরা শারীরিকভাবে সুস্থ আছেন। তবে দীর্ঘ সময় সমুদ্রে অবস্থান, স্বাভাবিক চলাচল ও তীরে নামার সুযোগ না থাকা এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় তারা মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন বলে জানা গেছে।
বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির মতো কৌশলগত ও স্পর্শকাতর নৌপথে চলমান উত্তেজনার কারণে সম্ভাব্য হামলা বা অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির শঙ্কা নিয়ে তারা দায়িত্ব পালন করছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে। জাহাজটি দীর্ঘ সময় ধরে একই অঞ্চলে অবস্থান করায় নাবিকদের দৈনন্দিন জীবনও সীমিত পরিসরে পরিচালিত হচ্ছে।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের (বিএসসি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক কমোডর এম মাহমুদুল মালেক এ বিষয়ে বলেন, সমুদ্রে দীর্ঘ সময় অবস্থান নাবিকদের জন্য নতুন অভিজ্ঞতা নয়। তিনি জানান, জাহাজে থাকা সব নাবিকই সুস্থ আছেন এবং তাদের প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, জাহাজটিকে নিরাপদভাবে দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।
হরমুজ প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্য পথ হিসেবে পরিচিত, যেখানে জ্বালানি পরিবহনসহ আন্তর্জাতিক নৌচলাচলের বড় অংশ নিয়ন্ত্রণ হয়। ফলে এই অঞ্চলে যেকোনো নিরাপত্তা পরিস্থিতির পরিবর্তন বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলে সরাসরি প্রভাব ফেলে।
বর্তমানে ‘এমভি বাংলার জয়যাত্রা’ ওই অঞ্চলেই অবস্থান করছে এবং পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে জাহাজটির পরবর্তী গন্তব্য নির্ধারণ ও চলাচল পুনরায় শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।