ইংল্যান্ডে আগামী ১২ জুন শুরু হতে যাওয়া নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে আম্পায়ার হিসেবে অভিষেক হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের সাথিরা জাকির জেসির। আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) ঘোষিত ম্যাচ অফিসিয়ালদের তালিকায় জায়গা পাওয়া এই বাংলাদেশি নারী আম্পায়ার প্রথমবারের মতো টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পাচ্ছেন। একইসঙ্গে প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে আম্পায়ার হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন ক্যান্ডিস লা বোর্ডে, গায়ত্রী ভেণুগোপালন এবং কেরিন ক্লাস্টেও।
বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দলের সাবেক ক্রিকেটার সাথিরা জাকির জেসি দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এর আগে তিনি নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপেও ম্যাচ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করেছিলেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ধারাবাহিক পারফরম্যান্সের পর এবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপেও দায়িত্ব পাওয়াকে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট ও আম্পায়ারিংয়ের জন্য গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখা হচ্ছে।
আইসিসি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে যে, এবারের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের জন্য মোট ১৪ জন আম্পায়ার এবং চারজন ম্যাচ রেফারিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে টানা তৃতীয়বারের মতো শুধুমাত্র নারী ম্যাচ অফিসিয়ালদের নিয়েই বিশ্বকাপ পরিচালনার সিদ্ধান্ত বহাল রাখল আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। নারী ক্রিকেটে নারীদের অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব বাড়ানোর ধারাবাহিক প্রচেষ্টার অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগকে দেখা হচ্ছে।
আইসিসির ঘোষিত তালিকায় থাকা ১৪ আম্পায়ারের মধ্যে নয়জন ২০২৪ সালের আসরেও দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ফলে অভিজ্ঞতা ও নতুন মুখের সমন্বয়ে এবারের প্যানেল গঠন করা হয়েছে। এই তালিকায় সবচেয়ে অভিজ্ঞ আম্পায়ার হিসেবে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার ক্লেয়ার পোলোসাক। তিনি ইতোমধ্যে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ছয়টি আসরে মোট ২২টি ম্যাচ পরিচালনা করেছেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নারী আম্পায়ারদের মধ্যে তিনি অন্যতম পরিচিত নাম।
সাথিরা জাকির জেসির অন্তর্ভুক্তি বাংলাদেশের জন্যও তাৎপর্যপূর্ণ। নারী ক্রিকেটে বাংলাদেশ সাম্প্রতিক বছরগুলোতে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নিয়মিত অংশগ্রহণ করছে এবং প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিগত ক্ষেত্রেও নিজেদের উপস্থিতি বাড়াচ্ছে। সেই ধারাবাহিকতায় একজন বাংলাদেশি নারী আম্পায়ারের বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে দায়িত্ব পাওয়া দেশের ক্রিকেট অঙ্গনের জন্য ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
এছাড়া এমিরেটস আইসিসি আন্তর্জাতিক ম্যাচ রেফারি প্যানেলে রাখা হয়েছে ট্রুডি অ্যান্ডারসন, শান্দ্রে ফ্রিটজ, জিএস লক্ষ্মী এবং মিশেল পেরেরাকে। এই কর্মকর্তারা টুর্নামেন্টজুড়ে ম্যাচ পরিচালনা, আচরণবিধি তদারকি এবং অন্যান্য প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করবেন।
নারী ক্রিকেটে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ম্যাচ অফিসিয়ালদের অংশগ্রহণ বাড়ানোর বিষয়ে আইসিসি গত কয়েক বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কাজ করছে। বিশেষ করে নারী আম্পায়ার ও ম্যাচ রেফারিদের জন্য আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুযোগ বৃদ্ধি, প্রশিক্ষণ এবং উচ্চপর্যায়ের প্রতিযোগিতায় অন্তর্ভুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তারই অংশ হিসেবে নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টে শুধুমাত্র নারী ম্যাচ অফিসিয়ালদের দায়িত্ব দেওয়া অব্যাহত রাখা হয়েছে।
আগামী ১২ জুন ইংল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে বিশ্বের শীর্ষ নারী ক্রিকেট দলগুলো অংশ নেবে। বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে দলগুলো প্রস্তুতি শুরু করেছে। এর মধ্যেই ম্যাচ অফিসিয়ালদের তালিকায় বাংলাদেশি সাথিরা জাকির জেসির নাম অন্তর্ভুক্ত হওয়ায় দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।