খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ১ জুন ২০২৬
টেস্ট ক্রিকেটে প্রাকৃতিক আলোর স্বল্পতার কারণে খেলা বন্ধ হওয়া এবং ওভার নষ্ট হওয়া দীর্ঘদিনের একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এই সংকটের একটি বাস্তবমুখী ও দীর্ঘমেয়াদি সমাধান খুঁজতে এবার ঐতিহাসিক এক নিয়মের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন দিয়েছে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)। ভারতের আহমেদাবাদে অনুষ্ঠিত আইসিসির সাম্প্রতিক বোর্ড সভায় প্রধান নির্বাহীদের কমিটির (সিইসি) সুপারিশের ভিত্তিতে এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
আইসিসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে টেস্ট ম্যাচ চলাকালীন দিনের বেলাতেও যদি হঠাৎ আলোকস্বল্পতা বা প্রাকৃতিক আলোর ঘাটতি দেখা দেয়, তবে খেলা বন্ধ না করে দুই দলের পারস্পরিক সম্মতি সাপেক্ষে গোলাপি বল ব্যবহার করে খেলা চালিয়ে যাওয়া যাবে। টেস্ট ক্রিকেটে আলোকস্বল্পতার কারণে যেন মূল্যবান সময় এবং ওভার নষ্ট না হয়, সেজন্য গভীর গবেষণার সিদ্ধান্ত নিয়েছে আইসিসি। ফ্লাডলাইট, আলো পরিমাপের উন্নত প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা, সেন্সর এবং অন্যান্য আধুনিক আলোকসজ্জা প্রযুক্তি নিয়ে আইসিসি এবং মেরিলিবোন ক্রিকেট ক্লাব (এমসিসি) যৌথভাবে অর্থায়ন ও কাজ করবে।
আইসিসি তাদের প্রচলিত ক্রিকেটীয় নিয়মে আরও একটি বড় পরিবর্তন এনেছে, যা খেলা চলাকালীন দলের কৌশলগত পরিকল্পনায় বড় প্রভাব ফেলবে। এখন থেকে ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নির্ধারিত ড্রিংকস বিরতির (পানের বিরতি) সময় দলের প্রধান কোচ কিংবা মনোনীত স্টাফরা সরাসরি মাঠের ভেতরে প্রবেশ করতে পারবেন। মাঠে প্রবেশ করে তারা খেলোয়াড়দের সরাসরি কৌশলগত পরামর্শ ও নির্দেশনা দিতে পারবেন।
এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, কেবল দ্বাদশ ব্যক্তি বা অতিরিক্ত খেলোয়াড়রা পানি নিয়ে মাঠে যাওয়ার সময় চিরকুট বা মৌখিক বার্তা বয়ে নিয়ে যেতে পারতেন। বিভিন্ন দেশের ঘরোয়া ফ্র্যাঞ্চাইজি টি-টোয়েন্টি লিগের ‘স্ট্র্যাটেজিক টাইম-আউট’-এর আদলেই এখন থেকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে এই নতুন নিয়মটি চালু করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি, টি-টোয়েন্টি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দুই ইনিংসের মধ্যবর্তী বিরতির সময় সুনির্দিষ্টভাবে ১৫ মিনিট নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া এমসিসির নেওয়া সর্বশেষ সিদ্ধান্তগুলো, যেমন—দিনের শেষ ওভারে কোনো ব্যাটার আউট হলে খেলা সেখানেই থামিয়ে না দিয়ে ওই ওভারের বাকি অংশ শেষ করা এবং ‘বানি হপ ক্যাচ’ সংক্রান্ত নিয়মগুলো আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে কার্যকর করা হবে।
ব্যাটাররা যখন ক্রিজে পজিশন পরিবর্তন করেন বা শট খেলার জন্য নড়াচড়া করেন, তখন আম্পায়ারদের নিখুঁত ও নির্ভুলভাবে ওয়াইড বল ডাকার সুবিধার্থে বিশেষ ‘গাইড লাইন’-এর ব্যবহারকে স্থায়ী রূপ দিয়েছে আইসিসি। বিশেষ করে লেগ সাইডে বোলারদের কিছুটা ছাড় দেওয়ার লক্ষ্যে ২০২৫ সাল থেকে এই পরীক্ষামূলক ট্রায়াল শুরু হয়েছিল, যা এখন স্থায়ীকরণ করা হলো।
আইসিসির সর্বশেষ বোর্ড সভায় নারী ক্রিকেট নিয়েও কয়েকটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও দূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। ২০২৭ সালের নারী চ্যাম্পিয়নস ট্রফি পূর্বনির্ধারিত জুন-জুলাই মাসের পরিবর্তে এগিয়ে এনে ওই বছরেরই ১৪ থেকে ২৮ ফেব্রুয়ারি আয়োজনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়েছে।
এছাড়া, ২০Statuses৮ সালের নারী টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের অংশগ্রহণকারী দলের সংখ্যা ১০টি থেকে বাড়িয়ে ১২টি করা হচ্ছে। এই টুর্নামেন্টে আইসিসি র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ ৮টি দল এবং স্বাগতিক দেশ সরাসরি খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। যদি স্বাগতিক দেশ আগেই র্যাঙ্কিংয়ের ভিত্তিতে কোয়ালিফাই করে ফেলে, তবে র্যাঙ্কিংয়ের পরবর্তী শীর্ষ দলগুলো বিশ্বকাপে সরাসরি জায়গা পাবে। বাকি অবশিষ্ট দুটি দল মূল পর্বে আসবে ১০ দলের একটি আন্তর্জাতিক বাছাইপর্ব প্রতিযোগিতা খেলে।
বাংলাদেশ ও শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট বোর্ডের বর্তমান সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং নির্বাচন ইস্যুতে বিশেষ প্রতিনিধি পাঠানোর কথা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে আইসিসি। এই প্রতিনিধি দলের দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিরা হলেন ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকার ড. মোহাম্মদ মোসাজে এবং জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট বোর্ডের তেবাঙ্গা মুকুলআনি।
এই প্রতিনিধিরা বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন এবং বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে সরাসরি কথা বলবেন এবং সার্বিক অবস্থা মূল্যায়ন করবেন। এ ছাড়া শ্রীলঙ্কা ক্রিকেট বোর্ডের পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে আইসিসির পক্ষ থেকে প্রতিনিধি হিসেবে শ্রীলঙ্কায় যাবেন আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজা এবং দেবজিৎ সাইকিয়া।
বিশ্বজুড়ে ফ্র্যাঞ্চাইজি ক্রিকেটের ক্রমাগত বিস্তার, ব্যাপক জনপ্রিয়তা ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ওপর এর আধিপত্য নিয়ে আইসিসি বোর্ড সভায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বর্তমান বৈশ্বিক ক্রিকেট কাঠামোর মধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যৎ সফরসূচির (এফটিপি) সাথে ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগগুলোকে কীভাবে আরও সুশৃঙ্খলভাবে সমন্বয় করা যায়, তা সঠিকভাবে মূল্যায়নের জন্য আহমেদাবাদের সভায় একটি বিশেষ উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি, আগামী আইসিসি টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের বৈশ্বিক বাছাইপর্বের সামগ্রিক রূপরেখাও এই সভায় চূড়ান্ত করা হয়।