খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ৫ জুন ২০২৬
হবিগঞ্জ সদর উপজেলায় এক নারী শ্রমিকের মুখমণ্ডলে এসিড নিক্ষেপ করার অত্যন্ত ন্যাক্কারজনক অভিযোগ উঠেছে তাঁর প্রাক্তন স্বামীর বিরুদ্ধে। এই নৃশংস হামলার ঘটনায় ওই নারীর মুখমণ্ডল মারাত্মকভাবে ঝলসে গেছে। বর্তমানে তাঁর শারীরিক অবস্থা অত্যন্ত আশঙ্কাজনক হওয়ায় এবং উন্নত ও জরুরি চিকিৎসার প্রয়োজনে তাঁকে রাজধানী ঢাকার জাতীয় দগ্ধ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে স্থানান্তর করা হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) রাত ৯টার দিকে হবিগঞ্জ সদর উপজেলার বড় বহুলা এলাকায় এই বর্বরোচিত ঘটনাটি ঘটে। হামলার শিকার ওই নারী শ্রমিকের নাম রুবিনা আক্তার (২৮)। তিনি বড় বহুলা এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি সুপরিচিত খাদ্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ‘প্রাণ’ কোম্পানির একজন নিয়মিত শ্রমিক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
হবিগঞ্জ সদর থানা পুলিশ এবং স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ঘটনার সাথে জড়িত ব্যক্তিবর্গের বিবরণ নিচে ছকের মাধ্যমে তুলে ধরা হলো:
| ক্রমিক নং | সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি | বিবরণ ও ঘটনার পূর্ব ইতিহাস |
| ১ | রুবিনা আক্তার (২৮) | ভুক্তভোগী নারী, বড় বহুলা এলাকার বাসিন্দা ও স্থানীয় একটি কারখানার শ্রমিক। |
| ২ | উজ্জল মিয়া | অভিযুক্ত ব্যক্তি, আনন্দপুর গ্রামের মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে এবং ভুক্তভোগীর প্রাক্তন স্বামী। |
পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, আনন্দপুর গ্রামের বাসিন্দা মৃত আব্দুল বারিকের ছেলে উজ্জল মিয়ার সাথে বেশ কিছুকাল পূর্বে রুবিনা আক্তারের পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়েছিল। তবে বিয়ের পর থেকেই তাঁদের দাম্পত্য জীবনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে পারিবারিক কলহ লেগেই থাকত। এই ধারাবাহিক কলহের জের ধরে আনুমানিক ছয় মাস পূর্বে আইনগতভাবে তাঁদের মধ্যে বিবাহবিচ্ছেদ বা তালাক সম্পন্ন হয়। বিবাহবিচ্ছেদের পর থেকেই প্রাক্তন স্বামী উজ্জল মিয়া রুবিনার ওপর ক্ষুব্ধ ছিলেন এবং বিভিন্ন সময় রাস্তাঘাটে চলাফেরার পথে তাঁকে উত্যক্ত ও হেনস্তা করে আসছিলেন।
ঘটনার দিন অর্থাৎ বৃহস্পতিবার রাতে কারখানা থেকে নিজের কর্মঘণ্টা শেষ করে প্রতিদিনের মতো পায়ে হেঁটে বাড়ি ফিরছিলেন রুবিনা আক্তার। তিনি বড় বহুলা এলাকায় নিজ বাড়ির কাছাকাছি একটি নির্জন স্থানে পৌঁছালে, সেখানে আগে থেকে ওৎ পেতে থাকা তাঁর সাবেক স্বামী উজ্জল মিয়া আকস্মিকভাবে তাঁর ওপর চড়াও হয় এবং তাঁর মুখমণ্ডল লক্ষ্য করে ক্ষতিকারক এসিড বা এসিড জাতীয় তীব্র দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপ করে। দাহ্য পদার্থের তীব্র যন্ত্রণায় রুবিনা আক্তার চিৎকার শুরু করলে তাঁর আর্তনাদ শুনে আশপাশের বাড়ির লোকজন এবং পথচারীরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। মানুষের উপস্থিতি টের পেয়ে অভিযুক্ত উজ্জল মিয়া তাৎক্ষণিকভাবে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা রক্তাক্ত ও গুরুতর আহত অবস্থায় রুবিনা আক্তারকে উদ্ধার করে কালক্ষেপণ না করে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁর প্রাথমিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে জানান যে, দাহ্য পদার্থের কারণে তাঁর মুখমণ্ডলের এক পাশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটলে উন্নত ও বিশেষায়িত চিকিৎসার জন্য কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে জরুরি ভিত্তিতে ঢাকার জাতীয় দগ্ধ ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে প্রেরণের নির্দেশ দেন। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী রাতেই তাঁকে ঢাকায় স্থানান্তরিত করা হয়।
এই নৃশংস ঘটনার পর স্থানীয় এলাকাবাসী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষের সৃষ্টি হয়েছে। অপরাধীকে দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। ঘটনার সত্যতা এবং আইনগত পদক্ষেপের বিষয়টি নিশ্চিত করে হবিগঞ্জ সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. শহিদুল হক মুন্সী জানান যে, কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার পথে এক নারীর মুখের এক পাশে এসিড বা এসিড জাতীয় অত্যন্ত তীব্র দাহ্য পদার্থ নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, “আমরা পুরো বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি। এই অপরাধের সাথে জড়িত প্রধান অভিযুক্ত ব্যক্তিকে ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্টভাবে সনাক্ত করা হয়েছে। তাঁকে গ্রেফতার করার জন্য পুলিশের বিশেষ অভিযান ও প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে।”