খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের খয়েরবাড়িয়া গ্রামে বৃহস্পতিবার দুপুরে পূর্ববিরোধের জেরে সংঘর্ষে আবদুল গফুর (৭০) নামে এক বৃদ্ধ নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় উভয় পক্ষের অন্তত পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং পুলিশ চারজনকে আটক করেছে। ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সংঘর্ষের শুরু ঘটেছে বুধবার। নিহত আবদুল গফুরের ছেলে আলম এবং একই গ্রামের আবু তালেবের ছেলে ময়েন উদ্দিন (৪৫)-এর মধ্যে টাকা ধার নেওয়া-দেওয়া নিয়ে বাকবিতণ্ডা হয়। আলম অভিযোগ করেন, ময়েন পূর্বে ধার নেওয়া টাকা পরিশোধ করেননি এবং আবারও টাকা চাইলে তা না দেওয়ায় ঝগড়া তীব্র হয়ে ওঠে।
এরপর বৃহস্পতিবার দুপুরে ময়েন উদ্দিন তার সহকর্মী ও পরিবার নিয়ে আলমের বাড়িতে যান। একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও লাঠিসোঁটা ব্যবহার করে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে নিহত আবদুল গফুর ছাড়াও কয়েকজন গুরুতর আহত হন। আহতদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন মানিক হোসেন (৪৩) এবং ময়ূরী খাতুন (৩৪)। আহতদের দ্রুত সাঁথিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স-এ নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক আবদুল গফুরকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত মানিক হোসেনকে পরবর্তীতে পাবনা সদর হাসপাতাল-এ স্থানান্তর করা হয়।
পুলিশ ঘটনার সঙ্গে জড়িত হিসেবে ময়েন উদ্দিন, তাঁর স্ত্রী রেশমা খাতুন (৩৪), মানিক হোসেন এবং সজিব হোসেন (২৫)-কে আটক করেছে। সাঁথিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা রফিকুল ইসলাম জানান, “টাকাপয়সা সংক্রান্ত বিরোধের জেরে সংঘর্ষে আবদুল গফুর নিহত হয়েছেন। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার বিষয়ে মামলা প্রক্রিয়াধীন।”
নিহতের ছেলে আলম দাবি করেন, “পাওনা টাকা নিয়ে বিরোধের জের ধরেই তাঁদের বাড়িতে হামলা চালানো হয়। মারধরের কারণে আমার বাবার মৃত্যু হয়েছে। আমি সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাই।”
| নাম | বয়স | অবস্থান/ঘটনার পরিণতি |
|---|---|---|
| আবদুল গফুর | ৭০ | নিহত |
| মানিক হোসেন | ৪৩ | গুরুতর আহত, পাবনা সদর হাসপাতালে স্থানান্তর |
| ময়েন উদ্দিন | ৪৫ | আহত, পুলিশে আটক |
| ময়ূরী খাতুন | ৩৪ | আহত |
| রেশমা খাতুন | ৩৪ | পুলিশে আটক |
| সজিব হোসেন | ২৫ | পুলিশে আটক |
স্থানীয়রা জানান, এই ধরনের পূর্ববিরোধ প্রায়শই টাকার লেনদেন ও জমির সমস্যা থেকে শুরু হয়। সাঁথিয়া থানা এবং স্থানীয় প্রশাসন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে তৎপর রয়েছে। এলাকাবাসী শান্তি বজায় রাখতে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সচেতন থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
সংঘর্ষ ও নিহতের ঘটনায় নন্দনপুর গ্রামের মানুষ শোকাহত ও আতঙ্কিত। তারা আশা করছেন, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।