খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: 5শে ফাল্গুন ১৪৩১ | ১৭ই ফেব্রুয়ারি ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
নিজস্ব সংবাদদাতা: কুষ্টিয়ায় ট্রলি চাপায় স্কুল ছাত্রের মৃত্যুর সংবাদ সংগ্রহকালে দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ফটো সংবাদিক ইমরান হোসেনর উপর সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। সেই সাথে তার কাছে থাকা প্যানাসনিক পিভি-১০০ মডেলের ভিডিও ক্যামেরা ও মাইক্রোফোন নিয়েছে হামলাকারীরা। এই ঘটনায় চিত্র সাংবাদিক ইমরান হোসেন বাদী হয়ে কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত এজাহার জমা দিয়েছে।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়,ফটো সাংবাদিক ইমরান হোসেন গতকাল সকাল সাড়ে ৯টার সময় কুষ্টিয়া পৌরসভাস্থ ফুলতলা প্রতীতি বিদ্যালয়ের সামনে সড়ক দূর্ঘটনায় স্কুল ছাত্র ও তার দাদী মৃত্যুর ঘটনার সংবাদ সংগ্রহ করতে যায় এবং “দৈনিক খবরওয়ালা” পত্রিকার অফিসিয়াল ফেসবুক পেজে লাইভ চলাকালে কুষ্টিয়া পৌরসভার কাস্টম মোড় হাশেম ডাক্তারের গলির চিহিৃত সন্ত্রাসী ও মাদকসেবী রকি (৩২) এবং আরিফুল (৩৩) সহ আরো ১০/১২ জন তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র দিয়ে হামলা করে এবং নাক, পিঠ ও মাথা কেটে রক্তাক্ত জখমের করে। যার একটি ভিডিও ফুটেজ ইতিমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। এছাড়াও ইমরান হোসেনের থাকা অফিসের প্যানাসনিক পিভি-১০০ মডেলের ভিডিও ক্যামেরা এবং ক্যামেরার বয়া (মাইক্রোফোন) ছিনিয়ে নেয়। এরপর বাংলা টিভির ক্যামেরা পার্সন আলিম সহ অনান্য সাংবাদিকরা আমাকে উদ্ধার করে।
এর পর আহত ইমরান হোসেন “দৈনিক খবরওয়ালা” পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুন্সী শাহীন আহমেদকে মোবাইল ফোনে ঘটনাটি জনালে তিনি ইমরান হোসেনকে কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসা করান।
ছিনিয়ে নেওয়া ক্যামেরা ও মাইক্রোফোনের আনুমাকি বাজার মূল্য ১,৯২,০০০/= (এক লক্ষ বিরানব্বই হাজার) টাকা বলে লিখিত এজাহারে জানানো হয়।
এই বিষয়ে দৈনিক খবরওয়ালা পত্রিকার ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক মুন্সী শাহীন আহমেদ বলেন, ঘটনার পর কুষ্টিয়া মডেল থানায় এজাহার জমা দেওয়া হয়েছে। তবে কোন এক অদৃশ্য কারণে এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। আসামীদের বাঁচাতে মামলা নিতে বিলম্ব করা হচ্ছে বলে আমার মনে হয়। আগামীকাল (আজ) সকাল ১১ টায় কুষ্টিয়া মডেল থানা ঘেরাও কর্মসূচী রয়েছে। আসামী দ্রুত গ্রেফতার না করা হলে আমরা আরও কঠোর কর্মসূচী দিবো।
পৌরসভার কাস্টমমোড় এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রকি এবং আরিফুল এলাকার চিহিৃত সন্ত্রাসী এবং মাদক সেবন ও ব্যবসার সাথে দীর্ঘ দিন ধরে জড়িত। এর আগেও তাদের গাঁজা সেবনের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখা গেছে।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা যায়, রকি এবং আরিফুল বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে কুষ্টিয়া পৌরসভার ১৯ নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর দখল বাজ ও চাঁদাবাজ মীর রেজাউল ইসলাম মেছো বাবুর সহযোগি হিসাবে কাজ করতেন। মেছো বাবু মূলত কুষ্টিয়া শহর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও কুষ্টিয়া সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আতাউর রহমান আতার সব থেকে ঘনিষ্ঠ এবং বিশ্বস্ত ব্যক্তি।
গত বছরের ৫ আগস্ট সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতে পালিয়ে গেলে সাবেক কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম মেছো বাবুও এলাকা থেকে পালিয়ে আত্নগোপন করেন। উল্লেখ্য, কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম মেছো বাবুর বিরুদ্ধে জুলাই-আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হামলা, হত্যা চেষ্টা সহ হত্যা মামলার একাধিক আসামী।
এদিকে কাউন্সিলর মীর রেজাউল ইসলাম মেছো বাবু পালিয়ে যাওয়ার পর তার দুই সহযোগী রকি এবং আরিফুল স্থানীয় বিএনপি নেতার সাথে চলাফেরা শুরু করে এবং এলাকায় আগের মতই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সহ মাদক সেবন ও মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ও দৈনিক যুগান্তরের কুষ্টিয়া প্রতিনিধি আবু মনি যুবায়ের রিপন বলেন, প্রকাশ্য দিবালোকে সংবাদ সংগ্রহকালে সাংবাদিকের উপর হামলার তিব্র নিন্দা জানাই। সেই সাথে আসামীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি। প্রশাসন যদি দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ না করে, তাহলে আমরা থানা ঘেরাওসহ কর্মসূচী দিতে বাধ্য থাকবো।
কুষ্টিয়া প্রেসক্লাবের সভাপতি আল মামুন সাগর বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলা বা নির্যাতন করে কোন সরকার পার পাই নাই। দ্রুত আসামীদের গ্রেফতার না করলে আমরা রাস্তায় নামতে বাধ্য হব।
ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে কুষ্টিয়া মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শিহাবুর রহমান শিহাব বলেন, আমরা লিখিত এজাহার পেয়েছি। আসামীদের গ্রেফতারে অভিযান চলমান আছে।
জানতে চাইলে কুষ্টিয়া জেলা পুলিশের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান বলেন, আমি মামলা নেওয়ার জন্য বলে দিয়েছি। ঠিক আছে বিষয়টা আমি দেখতেছি।
ঘটনার প্রতিবাদে আজ সোমবার ( ১৭ ফেব্রুয়ারি) কুষ্টিয়া পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে।
খবরওয়ালা/ এমএজেড