খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ৮ জুন ২০২৬
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের পক্ষে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড এককভাবে নিজের করে নিয়েছেন লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জের ডানহাতি ব্যাটসম্যান হাবিবুর রহমান। ঢাকা প্রিমিয়ার ডিভিশন ক্রিকেট লিগে (ডিপিএল) সিটি ক্লাবের বিপক্ষে রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৪৫ বলে শতক পূর্ণ করেন তিনি। এর মাধ্যমে ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের ধারাবাহিকতা বজায় রাখলেন এই তরুণ ক্রিকেটার।
এর আগে বাংলাদেশের ঘরোয়া ৫০ ওভারের ক্রিকেটে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডটি যৌথভাবে হাবিবুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেনের দখলে ছিল। ২০২৩ সালের বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগে (বিসিএল) হাবিবুর ৪৯ বলে একটি সেঞ্চুরি করেছিলেন। অন্যদিকে, চলমান ঢাকা প্রিমিয়ার লিগেই আবাহনী লিমিটেডের হয়ে এই সিটি ক্লাবের বিপক্ষেই ৪৯ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। ইউল্যাব মাঠে অনুষ্ঠিত রোববারের ম্যাচে সিটি ক্লাবের মুখোমুখি হয়ে পূর্বের রেকর্ড ভেঙে মাত্র ৪৫ বলে ম্যাজিক ফিগার স্পর্শ করেন হাবিবুর।
ম্যাচে হাবিবুরের শুরুটা অবশ্য চিরচেনা আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে ছিল না। ইনিংসের প্রথম ৯ বলে তিনি মাত্র ৬ রান সংগ্রহ করেন। তবে চতুর্থ ওভারের প্রথম বলে সিটি ক্লাবের বোলার নিহাদ উজ জামানকে চার মেরে বাউন্ডারির খাতা খোলেন এবং ঠিক পরের বলেই একটি ছক্কা হাঁকান। এক ওভার পর নিহাদ পুনরায় বোলিংয়ে এলে তাঁর ওভার থেকে ২২ রান আদায় করে নেন হাবিবুর। এর ফলে ২৬ বলে তাঁর অর্ধশতক (ফিফটি) পূর্ণ হয়।
অর্ধশতক ছোঁয়ার পর হাবিবুর আরও বেশি বিধ্বংসী রূপ ধারণ করেন। প্রথম পঞ্চাশ রান করতে ২৬ বল নিলেও, পরবর্তী পঞ্চাশ রান তুলতে তিনি খরচ করেন মাত্র ১৯ বল। অর্থাৎ, ৪৫ বলে পৌঁছে যান তিন অঙ্কের ঘরে। আউট হওয়ার আগে তিনি ৫৮ বলে ১৩০ রানের একটি লড়াকু ও আগ্রাসী ইনিংস খেলেন। আব্দুল্লাহ আল মামুনের বলে ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরার আগে তাঁর ব্যাট থেকে আসে ১৩টি ছক্কা ও ৮টি চার।
লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের ইতিহাসে এক ম্যাচে কোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের পক্ষে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা মারার রেকর্ড। এই তালিকায় শীর্ষস্থানটি সৌম্য সরকারের, যিনি ২০১৯ সালের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে এক ম্যাচে ১৯টি ছক্কা হাঁকিয়েছিলেন।
হাবিবুর রহমান কেবল লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটেই নয়, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও বাংলাদেশিদের মধ্যে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ডের অধিকারী। গত বছর রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে হংকং চায়নার বিপক্ষে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি, যা সব ধরনের স্বীকৃত ক্রিকেট সংস্করণ মিলিয়ে যেকোনো বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানের জন্য দ্রুততম সেঞ্চুরি। এছাড়া ডিপিএলের চলতি মৌসুমেই মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে মাত্র ১৫ বলে ফিফটি করার গৌরব অর্জন করেন তিনি, যেখানে জাতীয় দলের বোলার নাহিদ রানার এক ওভারে ২৬ রান এবং তাসকিন আহমেদের এক ওভারে ২৫ রান নেওয়ার কৃতিত্ব দেখান তিনি।
নিচে হাবিবুর রহমানের ক্যারিয়ারের দ্রুততম ও উল্লেখযোগ্য ইনিংস এবং লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটের প্রাসঙ্গিক রেকর্ডগুলোর একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হলো:
| রেকর্ডের বিবরণ | খেলোয়াড়ের নাম | বল সংখ্যা | প্রতিপক্ষ / টুর্নামেন্ট | অতিরিক্ত তথ্য |
| লিস্ট ‘এ’ দ্রুততম সেঞ্চুরি (নতুন) | হাবিবুর রহমান | ৪৫ বল | সিটি ক্লাব (ডিপিএল) | ৫৮ বলে ১৩০ রান (১৩ ছক্কা, ৮ চার) |
| লিস্ট ‘এ’ পূর্ববর্তী দ্রুততম সেঞ্চুরি | হাবিবুর রহমান ও মোসাদ্দেক হোসেন | ৪৯ বল | বিসিএল (২০২৩) / সিটি ক্লাব (চলতি ডিপিএল) | যৌথ রেকর্ড ছিল |
| টি-টোয়েন্টি/সর্বজনীন দ্রুততম সেঞ্চুরি | হাবিবুর রহমান | ৩৫ বল | হংকং চায়না (রাইজিং স্টারস এশিয়া কাপ) | বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে খেলেন |
| লিস্ট ‘এ’ দ্রুততম ফিফটি (যৌথ) | হাবিবুর রহমান | ১৫ বল | মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব (ডিপিএল) | নাহিদ রানার ওভারে ২৬ ও তাসকিনের ওভারে ২৫ রান |
| এক ম্যাচে সর্বোচ্চ ছক্কা (লিস্ট ‘এ’) | সৌম্য সরকার | ১৯টি ছক্কা | ডিপিএল (২০১৯) | বাংলাদেশে সর্বোচ্চ |
| এক ম্যাচে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ছক্কা (লিস্ট ‘এ’) | হাবিবুর রহমান | ১৩টি ছক্কা | সিটি ক্লাব (ডিপিএল) | বর্তমান ম্যাচে অর্জিত |
হাবিবুর রহমানের এই বিধ্বংসী সেঞ্চুরির ওপর ভর করে লিজেন্ডস অব রূপগঞ্জ বড় সংগ্রহের পথে এগিয়ে যায় এবং ঘরোয়া ক্রিকেটের ইতিহাসে দ্রুততম সেঞ্চুরির তালিকায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা হয়।