নারায়ণগঞ্জে গ্যাস বিস্ফোরণে শিশুসহ পাঁচজন গুরুতরভাবে দগ্ধ হলো
খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬
নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলায় গ্যাসের লিকেজ থেকে সৃষ্ট বিস্ফোরণে শিশুসহ পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন। বৃহস্পতিবার সকালে উপজেলার মদনপুর এলাকার চাঁনপুর গ্রামে একটি আবাসিক বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের পর দগ্ধদের দ্রুত উদ্ধার করে ঢাকার জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়। তাদের মধ্যে একই পরিবারের চারজন সদস্য রয়েছেন।
স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, ওই বাসায় সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিকেজ হয়ে দীর্ঘ সময় ধরে ঘরের ভেতরে জমে ছিল। সকালে রান্নার জন্য চুলা জ্বালানোর সময় জমে থাকা গ্যাসের সংস্পর্শে আগুন লাগলে আকস্মিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলেই পাঁচজন গুরুতর দগ্ধ হন। পরে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠানোর ব্যবস্থা করেন।
বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা গোলাম মোস্তফা আশরাফ উদ্দিন জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে সিলিন্ডার লিকেজ থেকেই ঘরের ভেতরে গ্যাস জমে ছিল এবং চুলা জ্বালানোর সময় বিস্ফোরণ ঘটে। এতে একই পরিবারের চারজনসহ মোট পাঁচজন দগ্ধ হয়েছেন।
জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের জরুরি বিভাগের আবাসিক চিকিৎসক শাওন বিন রহমান দগ্ধদের অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য দেন। তিনি জানান, রোগীদের মধ্যে সুলতানার শরীরের প্রায় নব্বই শতাংশ, সিয়ামের সাতাত্তর শতাংশ, মিমের একচল্লিশ শতাংশ, মান্নানের ত্রিশ শতাংশ এবং হযরত আলীর আট শতাংশ দগ্ধ হয়েছে। তাদের মধ্যে চারজনকে হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং একজনকে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দগ্ধ ব্যক্তিদের তালিকা
নাম
বয়স
দগ্ধের মাত্রা
পারিবারিক সম্পর্ক/অবস্থা
মান্নান
৫০
৩০ শতাংশ
একই পরিবারের সদস্য
সুলতানা
৩৫
৯০ শতাংশ
একই পরিবারের সদস্য
সিয়াম
১৯
৭৭ শতাংশ
একই পরিবারের সদস্য
মিম
১৩
৪১ শতাংশ
একই পরিবারের সদস্য
হযরত আলী
৮
৮ শতাংশ
শিশু, পর্যবেক্ষণে
দুর্ঘটনার পর পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে। স্থানীয়রা জানান, বিস্ফোরণের শব্দে আশপাশের মানুষ দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসে এবং আহতদের উদ্ধার কাজে সহায়তা করে। বাসাটিতে আগুন ও বিস্ফোরণের ফলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণও হয়েছে, তবে তার বিস্তারিত তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
বর্তমানে দগ্ধদের জাতীয় বার্ন ইনস্টিটিউটে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। চিকিৎসা সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গুরুতর দগ্ধদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।