খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
চট্টগ্রাম নগরের দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা সমস্যা মোকাবিলায় আরও দুটি নতুন প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রকল্প দুটির প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে মোট ৩ হাজার ৮৭১ কোটি টাকা। তবে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা ও বিস্তারিত প্রকল্প প্রস্তাবনা (ডিপিপি) চূড়ান্ত হওয়ার পর ব্যয়ের পরিমাণ আরও বৃদ্ধি পেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রকল্প দুটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পালন করবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন।
গত বুধবার নগরের টাইগারপাসে সিটি করপোরেশনের অস্থায়ী প্রধান কার্যালয়ে প্রকল্প দুটির প্রাথমিক ব্যয় ও কাজের পরিধি নিয়ে একটি উপস্থাপনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সিটি করপোরেশনের মেয়র শাহাদাত হোসেন। এছাড়া প্রকৌশলী ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরাও অংশ নেন। বর্তমানে একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান প্রকল্প দুটির প্রাক্-উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা প্রস্তুত করছে।
সিটি করপোরেশনের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, প্রকল্প দুটির প্রাথমিক কাজ শেষ হয়েছে। এখন বিশেষজ্ঞ ও প্রকৌশলীদের মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় সংযোজন-বিয়োজন করা হবে। চলতি মাসের মধ্যেই ডিপিপি চূড়ান্ত করার লক্ষ্য রয়েছে। এরপর তা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে। অনুমোদনের প্রয়োজনীয় ধাপ সম্পন্ন হলে চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় প্রকল্প দুটি অনুমোদনের সম্ভাবনা রয়েছে বলে আশা করা হচ্ছে।
চট্টগ্রাম নগরের জলাবদ্ধতা নিরসনে বর্তমানে চারটি বড় প্রকল্প বাস্তবায়নাধীন রয়েছে। গত ৮ থেকে ১০ বছর ধরে এসব প্রকল্পের কাজ চলছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, একটি চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন এবং একটি পানি উন্নয়ন বোর্ড।
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| চলমান প্রকল্প সংখ্যা | ৪টি |
| মোট প্রকল্প ব্যয় | ১৪,৩৮৯ কোটি টাকা |
| মার্চ পর্যন্ত ব্যয় | ১০,৪০৮ কোটি টাকা |
| নতুন প্রকল্প সংখ্যা | ২টি |
| নতুন প্রকল্পের প্রাথমিক ব্যয় | ৩,৮৭১ কোটি টাকা |
প্রথম প্রকল্পের আওতায় সিডিএর চলমান জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত ৩৬টি খালের রক্ষণাবেক্ষণ, পুনঃখনন, বর্জ্য অপসারণ এবং দীর্ঘমেয়াদি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম পরিচালিত হবে। পাঁচ বছর মেয়াদি এ প্রকল্পের প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩২২ কোটি ৩০ লাখ টাকা।
এই ৩৬টি খালের মোট দৈর্ঘ্য ১১০ দশমিক ৩৩ কিলোমিটার। খালগুলোর বর্তমান গড় গভীরতা শূন্য দশমিক ৮ মিটার থেকে আড়াই মিটার পর্যন্ত। প্রকল্পের আওতায় প্রায় ১৬ লাখ ঘনমিটার পলি অপসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। প্রথম বছরেই ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তবে সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবু সাদাত মোহাম্মদ তৈয়ব জানিয়েছেন, প্রাথমিক ব্যয় পুনর্বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে। তাঁর মতে, বিভিন্ন খাতে ব্যয়ের পরিমাণ বাস্তব প্রয়োজনের তুলনায় কম ধরা হয়েছে। ফলে প্রকল্পটির মোট ব্যয় এক হাজার থেকে দেড় হাজার কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে।
দ্বিতীয় প্রকল্পের আওতায় সিডিএর চলমান প্রকল্পের বাইরে থাকা ২১টি খালের উন্নয়ন ও সংস্কারকাজ করা হবে। এসব খালের মোট দৈর্ঘ্য ৩৪ দশমিক ৭৫ কিলোমিটার। এ প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৩ হাজার ৫৪৯ কোটি টাকা।
প্রকল্পে খালের দুই পাশে প্রতিরোধ দেয়াল নির্মাণের পাশাপাশি জমি অধিগ্রহণ, জোয়ার প্রতিরোধক ফটক ও পাম্প স্টেশন স্থাপন, বিভিন্ন সেবা সংস্থার পাইপলাইন স্থানান্তর, পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা, জিআইএস কার্যক্রম এবং সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
| ব্যয়ের খাত | প্রস্তাবিত ব্যয় |
|---|---|
| খাল উন্নয়ন ও সংস্কার | ২,৫৭৮ কোটি টাকা |
| জমি অধিগ্রহণ | ৫৮ কোটি টাকা |
| টাইডাল রেগুলেটর ও পাম্প স্টেশন | ৫৭ কোটি টাকা |
| পাইপলাইন স্থানান্তর ও সড়ক | ৩৭ কোটি টাকা |
| পরিবেশ ব্যবস্থাপনা ও জিআইএস | ৫৩ কোটি টাকা |
| সৌন্দর্যবর্ধন | ৭৭ কোটি টাকা |
জলাবদ্ধতা বিষয়ে দীর্ঘদিন কাজ করা প্রকৌশলী দেলোয়ার মজুমদার ও শাহরিয়ার খালেদের মতে, নগরে এই ২১টি খালের বাইরেও আরও খাল রয়েছে। কার্যকর জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য সেসব খালকেও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার আওতায় আনা প্রয়োজন।
মেয়র শাহাদাত হোসেন বলেছেন, চলমান কাজের কিছু সুফল পাওয়ায় চলতি বর্ষায় নগরবাসী তুলনামূলক স্বস্তি পেতে পারেন। তবে জলাবদ্ধতা সমস্যার স্থায়ী সমাধানের জন্য খাল সচল রাখা, দখলমুক্ত করা এবং নিয়মিত পরিষ্কার রাখা জরুরি। তিনি আরও বলেন, শুধু খাল খনন বা সীমিত কয়েকটি প্রকল্পের মাধ্যমে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। খাল, নালা, ড্রেন, স্লুইসগেট, খাল দখল এবং খালের প্রস্থ সংকুচিত হওয়ার মতো বিষয়গুলোকে সমন্বিতভাবে বিবেচনায় নিয়ে পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে।
মেয়র আরও জানান, বর্তমানে প্রস্তাবিত ২১টি খালের তালিকা পুনর্বিবেচনা করা হবে। যেসব খাল এখনো তালিকাভুক্ত হয়নি, সেগুলোও অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে যাচাই-বাছাই করা হবে। তাঁর মতে, এই সংখ্যা ৪০ থেকে ৫০টি খাল পর্যন্ত হতে পারে। প্রকল্প চূড়ান্ত হওয়ার আগে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে পর্যালোচনা করা হবে।