দেশে হামের উপসর্গজনিত শিশু মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকায় জনস্বাস্থ্য পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় এ রোগের উপসর্গে আরও চারটি শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। একই সময়ে নতুন করে এক হাজারের বেশি শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত হামবিষয়ক প্রতিবেদনে জানানো হয়, শনিবার সকাল আটটা থেকে রোববার সকাল আটটা পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এই চারটি মৃত্যু ঘটে। মৃত শিশুরা ঢাকা, সিলেট, ময়মনসিংহ ও খুলনা বিভাগের বাসিন্দা। প্রতিটি বিভাগ থেকে একজন করে শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে নিশ্চিত হামে সরাসরি মৃত্যুর ঘটনা না ঘটলেও উপসর্গজনিত মৃত্যু অব্যাহত রয়েছে, যা চিকিৎসা ব্যবস্থার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট পাঁচ শত ষাট জন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নিশ্চিত হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে বাহান্ন জনে। সব মিলিয়ে হামের কারণে মোট মৃত্যুর সংখ্যা ছয় শত বাহান্ন জনে পৌঁছেছে, যা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্পষ্ট করে তুলছে।
শুধু মৃত্যুই নয়, আক্রান্তের সংখ্যাও উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে। সর্বশেষ চব্বিশ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও এক হাজার বাহান্ন জন শিশুর শরীরে হামের উপসর্গ শনাক্ত হয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে পঁচাশি হাজার নয় শত একান্ন জনে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের দ্রুত বিস্তার ইঙ্গিত দিচ্ছে যে সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে এখনো কার্যকর বাধা তৈরি করা সম্ভব হয়নি।
এ ছাড়া নিশ্চিত হামের নতুন রোগী হিসেবে গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও পঁচাত্তর জন শনাক্ত হয়েছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত দেশে নিশ্চিত হামে আক্রান্তের সংখ্যা দশ হাজার তিন শত তেইশ জনে দাঁড়িয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে বিপুল সংখ্যক শিশু বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে বা চিকিৎসা শেষে পর্যবেক্ষণে আছে।
চিকিৎসা পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট সত্তর হাজার পাঁচ শত ঊনআশি জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ছেষট্টি হাজার আট শত একচল্লিশ জন চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তবে এখনও কয়েক হাজার রোগী চিকিৎসাধীন থাকায় স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর চাপ অব্যাহত রয়েছে।
সাম্প্রতিক চব্বিশ ঘণ্টার প্রধান পরিসংখ্যান নিচে উপস্থাপন করা হলো—
| সূচক |
সংখ্যা |
| নতুন উপসর্গ শনাক্ত |
১,০৫২ জন |
| নিশ্চিত হামে নতুন রোগী |
৭৫ জন |
| উপসর্গে নতুন মৃত্যু |
৪ জন |
| মোট উপসর্গে মৃত্যু |
৫৬০ জন |
| নিশ্চিত হামে মৃত্যু |
৯২ জন |
| মোট মৃত্যুসংখ্যা |
৬৫২ জন |
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ, যা সময়মতো প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না নিলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এর জটিলতা ও মৃত্যুঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি। তাই টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা, দ্রুত শনাক্তকরণ ব্যবস্থা কার্যকর করা এবং আক্রান্ত এলাকাগুলোতে জরুরি স্বাস্থ্যসেবা বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
বর্তমান পরিস্থিতিতে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং অভিভাবকদের সতর্কতা অবলম্বনকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো প্রতিরোধ ও চিকিৎসা নিশ্চিত করা গেলে এই রোগের বিস্তার উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব।