সাবেক সংসদ সদস্য ও জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী মমতাজ বেগম তিনটি পৃথক মামলায় হাইকোর্ট থেকে জামিন পেয়েছেন। সোমবার হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ শুনানি শেষে তার জামিন মঞ্জুর করেন বলে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবী।
আইনজীবীর বরাতে জানা যায়, দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া ও শুনানির পর আদালত তার জামিন আবেদন গ্রহণ করেন। এর ফলে সংশ্লিষ্ট তিন মামলায় তিনি আপাতত জামিনে মুক্ত থাকার সুযোগ পেলেন। তবে মামলাগুলোর বিস্তারিত অভিযোগ বা পরবর্তী শুনানির তারিখ সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
মমতাজ বেগম গত বছরের ১২ মে রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার স্টার কাবাবের পেছনে একটি বাসা থেকে রাত পৌনে বারোটার দিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে গ্রেফতার হন। এরপর থেকে তিনি একাধিক মামলার আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিলেন।
রাজনৈতিক অঙ্গনেও মমতাজ বেগম দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় ছিলেন। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মানিকগঞ্জ-২ আসন থেকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। তবে ওই নির্বাচনে তিনি বিজয়ী হতে পারেননি। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা দেওয়ান জাহিদ আহমেদ (টুলু)-এর কাছে পরাজিত হন তিনি।
তার রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক পরিচয় দুই ক্ষেত্রেই তিনি পরিচিত মুখ। একদিকে তিনি জনপ্রিয় লোকসংগীতশিল্পী হিসেবে দীর্ঘ সময় ধরে শ্রোতামহলে পরিচিত, অন্যদিকে সংসদ সদস্য হিসেবে রাজনৈতিক দায়িত্বও পালন করেছেন।
আইনজীবীরা জানিয়েছেন, হাইকোর্টের এই জামিন আদেশের মাধ্যমে মামলাগুলোর পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া নিম্ন আদালতে চলবে। সেখানে নির্ধারিত সময়ে শুনানি ও অন্যান্য কার্যক্রম সম্পন্ন হবে।
নিচে ঘটনাটির গুরুত্বপূর্ণ দিকগুলো সংক্ষেপে উপস্থাপন করা হলো—
বিষয়
বিবরণ
সময়/তারিখ
মন্তব্য
গ্রেফতার
রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকার একটি বাসা থেকে গ্রেফতার
১২ মে (গত বছর) রাত
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান
মামলার সংখ্যা
তিনটি পৃথক মামলা
চলমান
বিস্তারিত অভিযোগ প্রকাশিত হয়নি
জামিন প্রদান
হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ
সোমবার
আইনজীবী বিষয়টি নিশ্চিত করেন
রাজনৈতিক পরিচয়
সাবেক সংসদ সদস্য
সাম্প্রতিক নির্বাচন পর্যন্ত
আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা
নির্বাচনী ফলাফল
মানিকগঞ্জ-২ আসনে পরাজিত
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন
স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছে পরাজিত
এই জামিনের মাধ্যমে মমতাজ বেগম সাময়িকভাবে আইনি জটিলতা থেকে মুক্ত হলেও মামলাগুলোর চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এখনো বাকি রয়েছে। ফলে আগামী দিনগুলোতে আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমই নির্ধারণ করবে তার আইনি অবস্থান।