খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ২০ জুন ২০২৬
গ্রাহকদের আস্থা পুনরুদ্ধার এবং সামগ্রিক ব্যাংকিং কার্যক্রমে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে একটি বিশেষ সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে দেশের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় বেসরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ‘ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি’। শনিবার (২০ জুন) ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে এই জরুরি বিজ্ঞপ্তিটি আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন ধরনের অপপ্রচার এবং তারল্য সংকটকে কেন্দ্র করে গ্রাহকদের মাঝে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, তা নিরসন করে ব্যাংকের স্বাভাবিক গতি ফিরিয়ে আনাই এই বিজ্ঞপ্তির মূল লক্ষ্য বলে ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের সময়োপযোগী তারল্য সহায়তার ফলে ব্যাংকটির আর্থিক কার্যক্রম ইতিমধ্যেই স্বাভাবিক হতে শুরু করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি অত্যন্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছে যে, দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তথা বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশেষ তারল্য সহায়তার (Liquidity Support) ফলে ব্যাংকের আর্থিক কার্যক্রম অত্যন্ত দ্রুততার সাথে এবং ধীরে ধীরে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসছে। বর্তমানে ব্যাংকের সকল শাখায় গ্রাহকদের দৈনন্দিন লেনদেন ও অর্থ উত্তোলন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্যমতে, সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া নানা গুজব এবং আংশিক তারল্য সংকটের কারণে সাধারণ গ্রাহকদের মধ্যে কিছুটা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছিল। এর ফলে অনেক গ্রাহক আতঙ্কিত হয়ে একসঙ্গে বিপুল পরিমাণ আমানত উত্তোলনে আগ্রহী হন, যা সাময়িকভাবে ব্যাংকিং কার্যক্রমে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করে। তবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সরাসরি আর্থিক সহায়তা এবং ইসলামী ব্যাংকের বর্তমান দক্ষ ব্যবস্থাপনার নানামুখী ইতিবাচক পদক্ষেপের কারণে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য ও দৃশ্যমান উন্নতি সাধিত হয়েছে।
ইসলামী ব্যাংক তাদের এই বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে আরও সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, ব্যাংকের স্বাভাবিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের বাধা সৃষ্টি করা, গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা, বিশৃঙ্খলা তৈরি করা কিংবা ব্যাংকিং খাতে ইচ্ছাকৃতভাবে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করা দেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী অত্যন্ত গুরুতর এবং দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হবে।
ব্যাংক কর্তৃপক্ষ স্পষ্টভাবে জানিয়েছে যে, দেশের বিদ্যমান ‘ব্যাংক কোম্পানি আইন’ অনুযায়ী এই ধরনের ক্ষতিকর ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ও প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী যদি ব্যাংকের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করতে কিংবা গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করতে কোনো প্রকার অপচেষ্টা চালায়, তবে তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির মুখোমুখি করা হবে বলে ব্যাংকটি দৃঢ়ভাবে সতর্ক করেছে।
ব্যাংক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসি দেশের ব্যাংকিং খাতের একটি অন্যতম বৃহৎ প্রতিষ্ঠান, যার সাথে কোটি কোটি গ্রাহকের আর্থিক নিরাপত্তা ও আমানত জড়িত। একটি নির্দিষ্ট মহলের ছড়ানো ভিত্তিহীন গুজবের কারণে সাধারণ আমানতকারীদের মনে যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল, তা কাটিয়ে উঠতে ব্যাংকটি এখন পুরোপুরি সক্ষম।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত তদারকি এবং সহযোগিতার ফলে ইসলামী ব্যাংকের আর্থিক ভিত্তি এখন পূর্বের চেয়ে অনেক বেশি সুসংহত। ব্যাংক ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ গ্রাহকদের কোনো ধরনের গুজবে কান না দেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে। একই সাথে, ব্যাংকের উপর পূর্ণ আস্থা রেখে স্বাভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম সচল রাখতে এবং দেশের অর্থনীতিকে গতিশীল করতে সকল সম্মানিত গ্রাহক ও স্টেকহোল্ডারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানানো হয়েছে এই বিজ্ঞপ্তিতে। বর্তমানে ব্যাংকটির সকল বুথ, অনলাইন ব্যাংকিং এবং শাখাগুলোতে লেনদেনের কোনো সংকট নেই বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।