খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
ফুটবল বিশ্বকাপের ‘জি’ গ্রুপে এক অভাবনীয় ও চমকপ্রদ ইতিহাস সৃষ্টি করেছে আফ্রিকা মহাদেশের প্রতিনিধি মিশর। গ্রুপ পর্বের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচে নিউজিল্যান্ডকে ৩-১ গোলের ব্যবধানে পরাজিত করে নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে এক গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় রচনা করল মোহামেদ সালাহর দল। বিশ্বমঞ্চে এটিই মিশরের ইতিহাসের সর্বপ্রথম জয়। এই স্মরণীয় ও ঐতিহাসিক জয়ের ফলে তারা শক্তিশালী বেলজিয়ামকে পয়েন্ট তালিকায় পেছনে ফেলে নিজেদের গ্রুপের শীর্ষস্থানে আরোহণ করেছে।
ম্যাচের শুরুটা মিশরের জন্য মোটেও আশাব্যঞ্জক বা অনুকূল ছিল না। খেলার মাত্র ১৫ মিনিটে একটি নিখুঁত কর্নার থেকে চমৎকারভাবে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন নিউজিল্যান্ডের ফুটবলার ফিন সারম্যান। এই গোলের মাধ্যমে নিউজিল্যান্ড ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায়। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে মিশর সমতা ফেরানোর চেষ্টা করলেও নিউজিল্যান্ড তাদের রক্ষণভাগ সুরক্ষিত রাখে এবং এই ১-০ ব্যবধানের লিড বা অগ্রগতি নিয়েই বিরতিতে যায় কিউইরা। প্রথমার্ধ শেষে নিউজিল্যান্ডও এক ঐতিহাসিক জয়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে ছিল, কারণ বিশ্বকাপের ইতিহাসে এর আগে তারা কখনো কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।
দ্বিতীয়ার্ধের খেলা শুরু হতেই ম্যাচের সমস্ত সমীকরণ ও দৃশ্যপট বদলে দেয় মিশর। আক্রমণের ধার বাড়িয়ে ম্যাচের শুরুতেই মিশরের পক্ষে প্রথম সমতা ফেরান মোস্তাফা জিকো। নিউজিল্যান্ডের গোলরক্ষক ম্যাক্স ক্রকম্বে প্রথম দফায় শটটি ঠেকিয়ে দিলেও বলটি তাঁর হাতে লেগে শেষ পর্যন্ত গোললাইন অতিক্রম করে জালে জড়িয়ে যায়। এর ফলে ম্যাচে ১-১ গোলের সমতা ফিরে আসে।
ম্যাচে সমতা আসার পর শুরু হয় মিশরের তারকা ফুটবলার মোহামেদ সালাহর জাদু। ম্যাচের শুরু থেকেই নিউজিল্যান্ডের দুজন রক্ষণভাগের খেলোয়াড় বা ডিফেন্ডার সালাহকে কড়া পাহারায় আটকে রেখেছিলেন এবং তাঁর পাস দেওয়ার পথগুলোও সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। তবে ম্যাচের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে এই তারকা ফুটবলার নিজের চেনা ছন্দে ফিরে আসেন। সতীর্থ মোস্তাফা জিকোর বাড়িয়ে দেওয়া বল বা মাইনাস বক্সের ভেতর পেয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়িয়ে দেন সালাহ। এই দর্শনীয় গোলের মাধ্যমে মিশর ম্যাচে ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায়।
দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর নিউজিল্যান্ড ম্যাচ বাঁচাতে মরিয়া হয়ে ওঠে। একটি গোল পরিশোধের জন্য তারা হন্যে হয়ে মুহুর্মুহু আক্রমণ চালাতে থাকে। তবে মিশরের ইস্পাতকঠিন রক্ষণভাগ অত্যন্ত সুসংহতভাবে নিউজিল্যান্ডের সেই সমস্ত আক্রমণ প্রতিহত করে দেয়।
ম্যাচের শেষ দিকে কৌশলগত কারণে মিশরের পক্ষে বদলি খেলোয়াড় হিসেবে মাঠে নামেন মাহমুদ হাসান ত্রেজেগে। মাঠে নামার মাত্র দুই মিনিটের মধ্যে নিজের পায়ের তৃতীয় ছোঁয়াতেই এক দুর্দান্ত গোল করেন তিনি। ত্রেজেগের এই গোলের ফলে নিউজিল্যান্ডের ম্যাচ ফেরার সমস্ত আশা শেষ হয়ে যায় এবং ম্যাচের চূড়ান্ত ফলাফল নির্ধারিত হয় ৩-১ ব্যবধানে।
| সময় (মিনিট) | গোলদাতা খেলোয়াড় | দলের নাম | গোলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ |
| ১৫ মিনিট | ফিন সারম্যান | নিউজিল্যান্ড | কর্নার থেকে চমৎকার হেডের সাহায্যে গোল। |
| দ্বিতীয়ার্ধ | মোস্তাফা জিকো | মিশর | গোলরক্ষকের হাতে লেগে বল জালে জড়ায়। |
| দ্বিতীয়ার্ধ | মোহামেদ সালাহ | মিশর | জিকোর মাইনাস থেকে ডিফেন্ডার ও গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে গোল। |
| শেষ দিকে | মাহমুদ হাসান ত্রেজেগে | মিশর | বদলি হিসেবে নেমে মাত্র দুই মিনিটে তৃতীয় ছোঁয়ায় গোল। |
এই জয়ের মধ্য দিয়ে দীর্ঘ ৯২ বছরের এক আক্ষেপ ও অপেক্ষার অবসান ঘটাল মিশর। এর আগে ১৯৩৪ সালের বিশ্বকাপে হাঙ্গেরির বিপক্ষে এক ম্যাচে জোড়া গোল করার কীর্তি স্থাপন করেছিল দলটি, তবে সেই ম্যাচে তারা জয়লাভ করতে পারেনি। ১৯৩৪ সালের পর বিশ্বকাপে তারা বারবার অংশ নিলেও আর কখনো কোনো একক ম্যাচে দুটি গোল করতে সক্ষম হয়নি মিশর। আজ সালাহ, জিকো এবং ত্রেজেগের কল্যাণে দীর্ঘ ৯২ বছর পর সেই কীর্তি পুনরায় গড়ার পাশাপাশি বিশ্বকাপের মঞ্চে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম জয়টি তুলে নিল পিরামিডের দেশটি।