খবরওয়ালা ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৫
খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক: রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধের অবসান ঘটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানোর অর্থ ইউক্রেনের ‘আত্মসমর্পণ’ করা নয় বলে ট্রাম্পকে সতর্ক করে দিয়েছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ।
সোমবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে হোয়াইট হাউসে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে দুই নেতার যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন মাখোঁ।
তবে মাখোঁ এ–ও বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তাঁর আলোচনা আন্ত-আটলান্টিক জোটে ভাঙনের আশঙ্কার মধ্যেই সামনে এগোনোর পথ দেখিয়েছে।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ বলেছেন, ইউক্রেনে যেকোনো শান্তিচুক্তির সঙ্গে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা থাকতে হবে। এই শান্তি ইউক্রেনের আত্মসমর্পণে হওয়া উচিত নয়, এটি এমন কোনো যুদ্ধবিরতি হওয়া উচিত নয়, যেখানে কোনো নিশ্চয়তা থাকবে না।
ইউক্রেনের নিরাপত্তার নিশ্চয়তা না দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ব্যয় ও দায়িত্ব শুধু যুক্তরাষ্ট্র নয়, ইউরোপীয় দেশগুলোকেও বহন করতে হবে।
জবাবে মাখোঁ বলেন, ইউরোপ নিরাপত্তার দায়িত্ব ‘অধিকতর ন্যায্যভাবে ভাগ করে নেওয়ার’ প্রয়োজনীয়তা বোঝে এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার আক্রমণের তৃতীয় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে হওয়া আলোচনা একটি অগ্রগতির পথ দেখিয়েছে।
আন্তরিকভাবে বৈঠক শেষ করলেও ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করার বিষয়ে দুই নেতার মধ্যে কিছু স্পষ্ট মতপার্থক্য প্রকাশ পেয়েছে। যে কোনো শান্তিচুক্তিতে নিরাপত্তার নিশ্চয়তা অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না এবং পরবর্তী সম্ভাব্য পদক্ষেপ কী হতে পারে—এসব বিষয়ে তাদের মধ্যে ভিন্নতা দেখা গেছে।
ট্রাম্প বলেন, তিনি যত দ্রুত সম্ভব যুদ্ধবিরতি চান এবং একবার তা চূড়ান্ত হলে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে রাশিয়া সফর করবেন।
অন্যদিকে, মাখোঁ আরও সুসংগঠিত একটি পরিকল্পনার পক্ষে মত দেন, যেখানে প্রথমে একটি সাময়িক যুদ্ধবিরতি হবে, তারপর দীর্ঘ মেয়াদে ইউক্রেনের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বিস্তৃত শান্তিচুক্তি করা হবে।
মাখোঁ বলেন, ‘আমরা দ্রুত শান্তি চাই, কিন্তু এমন কোনো চুক্তি চাই না, যা দুর্বল।’
তবে, যে কোনো শান্তিচুক্তির আওতায় ইউক্রেনে ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী মোতায়েনের কথায় দুই নেতাই একমত প্রকাশ করেন।
ইউরোপীয় শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রসঙ্গে মাখোঁ বলেন, ‘তারা সম্মুখসারিতে থাকবে না। তারা কোনো সংঘাতের অংশ হবে না। তারা সেখানে থাকবে শুধু শান্তি নিশ্চিত করার জন্য।’
এ বিষয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আপত্তি করবেন না বলে জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি তাঁকে বিশেষভাবে এ প্রশ্নটি করেছি। তাঁর এতে কোনো সমস্যা নেই।’
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে পুতিনের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার জন্য ট্রাম্পের প্রচেষ্টার প্রশংসা করেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট মাখোঁ। তিনি বলেন, ‘এটি করার যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে।’
রাশিয়ার ইউক্রেন আক্রমণের তৃতীয় বার্ষিকীতে মাখোঁ ও ট্রাম্পের এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো।
খবরওয়ালা/জেআর