খবরওয়ালা অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ২০ মার্চ ২০২৫
নতুন বাজেটের মূল উদ্দেশ্য সমতাভিত্তিক ও কল্যাণধর্মী। সার্বিকভাবে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতা ও ভাতার পরিমাণ বাড়ানো হবে। এমনভাবে বাস্তবসম্মত বাজেট প্রণয়ন করা হবে, যাতে পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার অগ্রাহ্য করাতে না পারে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে কথার ফুলঝুরি থাকবে না বলে জানিয়েছেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
বুধবার (১৯ মার্চ) অর্থ বিভাগের মাল্টিপারপাস হলরুমে আগামী বাজেট বিষয়ে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সম্পাদক ও জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, বাজেটে বিলিয়ন ডলারের মনুমেন্টাল প্রকল্প নিয়ে সময়মতো বাস্তবায়ন না হলে প্রকৃতপক্ষে উপকারে আসে না। প্রকল্প গ্রহণের ক্ষেত্রে কর্মসৃজনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বাজেটের মূল উদ্দেশ্য হবে সমতাভিত্তিক ও কল্যাণমুখী দেশের দিকে যাওয়া। কিন্তু বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের সংক্ষিপ্ত সময়ে পুরোপুরি এ কাজ করা যাবে না। এ সময়ের মধ্যেই অর্থনীতিতে কিছু সংস্কার আনা হবে। বাজেটে সেগুলো বাস্তবায়ন করার চেষ্টা থাকবে। বাজেটে এর ভিত্তি স্থাপন করা হবে। মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কোনো উদ্যোগ নেওয়া তাদের ম্যান্ডেট নয়। এগুলো নির্বাচনী রাজনৈতিক সরকার করবে। বাজেটে কিছু দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে। বর্তমান সরকার একটা পদচিহ্ন রেখে যেতে চায়। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও প্রযুক্তি খাতে বাড়তি নজর থাকবে। একই সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণে উদ্যোগ থাকবে।
সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কিছুটা গতানুগতিকতার বাইরে গিয়ে বাস্তবভিত্তিক বাজেট দেওয়া হবে। তবে সীমিত সম্পদ হওয়ায় একেবারে ফ্রেমওয়ার্কের বাইরেও যাওয়া যাবে না। বাজেট হবে বাস্তবায়নযোগ্য। এমনভাবে বাজেট প্রণয়ন করা হবে, যা পরবর্তী রাজনৈতিক সরকার ফেলে দিতে পারবে না। কারণ মানুষ আগের চেয়ে এখন অনেক বেশি সচেতন ও সোচ্চার।
স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে উত্তরণ কৌশল নেওয়া হয়েছে। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের পারফরম্যান্স ভালো। এতে আমাদের গৌরবটা একটু বাড়বে। হয়তো কিছু প্রস্তুতি লাগবে। তবে উত্তরণ করব না বলে বসে থাকব না।’
অর্থ সচিব ড. মো. খায়েরুজ্জামান মজুমদার বলেন, আগামী বাজেটে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে সংকোচন মুদ্রানীতি এবং সরকারি ব্যয় সাশ্রয়ী পদক্ষেপ নেওয়ায় মূল্যস্ফীতি কিছু কমেছে। সরকার আশা করছে, আগামী জুন শেষে পয়েন্ট টু পয়েন্ট মূল্যস্ফীতি ৮ শতাংশে নেমে আসবে।
মতবিনিময় সভায় আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকসহ বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়ার শীর্ষ নির্বাহীরা উপস্থিত ছিলেন।
খবরওয়ালা/এমইউ