বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের নবনিযুক্ত স্পিন কোচ মোহাম্মদ রফিক দায়িত্ব গ্রহণের পর নিজের কাজের পরিধি নিয়ে স্পষ্ট ধারণা দিয়েছেন। তিনি জানিয়েছেন, শুধু স্পিন বোলিং নয়—প্রয়োজনে ব্যাটিং, ফিল্ডিং এবং উচ্চ ক্যাচ অনুশীলনেও তিনি ক্রিকেটারদের পাশে থাকবেন। তাঁর মতে, আধুনিক ক্রিকেটে একজন কোচকে নির্দিষ্ট একটি বিভাগে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না; বরং সমন্বিতভাবে খেলোয়াড়দের দক্ষতা উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।
দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের ক্রিকেটে অভিজ্ঞ এই সাবেক ক্রিকেটার মনে করেন, খেলোয়াড়দের সামগ্রিক উন্নয়নই দলের সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, কোচিং দায়িত্বে থাকলেও তিনি প্রতিটি বিভাগেই নজর রাখবেন এবং প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ দেবেন।
তিনি বলেন, প্রয়োজনে ব্যাটিং কোচের সঙ্গে সমন্বয় করে খেলোয়াড়দের ব্যাটিং টেকনিক নিয়েও কাজ করবেন। তাঁর ভাষায়, খেলোয়াড়রা যেকোনো সমস্যায় পড়লে তিনি তা সমাধানে সহায়তা করতে প্রস্তুত থাকবেন।
রফিক আরও জানান, জাতীয় দলের সহকারী কোচ মোহাম্মদ আশরাফুলের সঙ্গে তাঁর খেলোয়াড়ি জীবন থেকেই সুসম্পর্ক রয়েছে। সেই সম্পর্ক এখন কোচিং পর্যায়েও কাজে আসবে বলে তিনি আশাবাদী। তাঁর মতে, কে কোন বিভাগ দেখছেন—এটি বড় বিষয় নয়; বরং দলের সবার সম্মিলিত উন্নতিই আসল লক্ষ্য।
তিনি উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেন, বাঁহাতি ব্যাটার সৌম্য সরকারের মতো খেলোয়াড়রা প্রায়ই ব্যক্তিগত টেকনিক্যাল পরামর্শ নিতে আসেন, এবং তিনি সেসব বিষয়ে সহায়তা করেন। এই ধরনের পারস্পরিক সহযোগিতা দলীয় উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে বলেও তিনি মনে করেন।
তবে দায়িত্বটি যে সহজ নয়, সেটিও স্বীকার করেছেন রফিক। তাঁর মতে, জাতীয় দলের কোচিং পজিশন সবসময়ই চ্যালেঞ্জিং। খেলোয়াড়দের প্রত্যাশা, পারফরম্যান্সের চাপ এবং সময়মতো উন্নতি ঘটানো—সব মিলিয়ে কাজটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন।
তিনি বলেন, তাঁর ওপর যে আস্থা রাখা হয়েছে, সেটির যথাযথ প্রতিদান দিতে তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। খেলোয়াড়দের সর্বোচ্চ প্রস্তুত করা এবং তাদের দক্ষতা উন্নত করাই তাঁর প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে তিনি মনে করেন, কোচিং একটি চলমান শেখার প্রক্রিয়া, যেখানে কোচ এবং খেলোয়াড় উভয়েই একে অপরের কাছ থেকে শিখে থাকে।
রফিকের কোচিং পরিকল্পনার সারসংক্ষেপ
| বিভাগ |
ভূমিকা |
মন্তব্য |
| স্পিন বোলিং |
মূল দায়িত্ব পালন |
টেকনিক, কৌশল ও ম্যাচ প্রস্তুতি |
| ব্যাটিং |
প্রয়োজন অনুযায়ী পরামর্শ |
ব্যাটিং কোচের সঙ্গে সমন্বয় |
| ফিল্ডিং |
দক্ষতা উন্নয়ন |
বিশেষ করে ক্যাচিং ও অবস্থান নির্ধারণ |
| উচ্চ ক্যাচ অনুশীলন |
রিঅ্যাকশন ও ফোকাস বৃদ্ধি |
গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ পরিস্থিতি অনুশীলন |
| খেলোয়াড় উন্নয়ন |
ব্যক্তিগত পর্যবেক্ষণ |
টেকনিক্যাল সমস্যা সমাধান ও গাইডলাইন |
সব মিলিয়ে মোহাম্মদ রফিকের এই বহুমুখী দৃষ্টিভঙ্গি জাতীয় দলের কোচিং কাঠামোতে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাঁর অভিজ্ঞতা ও বাস্তবমুখী দৃষ্টিভঙ্গি তরুণ ক্রিকেটারদের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।