খবরওয়ালা স্পোর্টস ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ৮ মার্চ ২০২৫
সিনিয়র-জুনিয়র যেই হোক না কেনো বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের মাঠ থেকে বিদায় নেওয়ার ঘটনা খুব একটা নেই বললেই চলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পোস্ট দিয়েই নিজেদের ক্রিকেটীয় সরঞ্জাম তুলে রাখতেই যেন অভ্যস্ত তারা। তামিম, মাশরাফির পর সর্বশেষ একই পথে হাঁটলেন বাংলাদেশ ক্রিকেটে মি. ডিপেন্ডেবল খ্যাত মুশফিকুর রহিমও। তবে তাদের দেখানো পথে হাঁটতে নারাজ আরেক সিনিয়র ক্রিকেটার মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। নিজের দীর্ঘ বর্ণিল ক্রিকেট ক্যারিয়ারকে মাঠ থেকেই বিদায় বলতে চান সাইল্যান্ট কিলার খ্যাত এই অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান। বিসিবিও চায় তার অবসরকে স্মরণীয় করে রাখতে।

বিসিবি সূত্রে জানা গেছে, মাহমুদউল্লাহ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট থেকে বিদায় নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কোন প্রক্রিয়ায় বিদায় নিলে ভালো হয়, সেটা নিয়ে ভাবছেন তিনি। কারণ তার বিদায় মানে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে চিরতরে ‘বাই’ বলে দেওয়া। তাই বিসিবিও চায় মাহমুদউল্লাহর বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে। তাকে মাঠ থেকে বিদায় দেওয়ার পরিকল্পনা ক্রিকেট বোর্ডের।
এবারের ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে চোটের কারনে খেলতে পারছেন না রিয়াদ। তবে মোহামেডানের ম্যাচের দিন মাঠে থাকেন তিনি। এ বছর দেশের মাটিতে ওয়ানডে সিরিজ খেলে বিদায় নিতে চাইলে জুলাই-আগস্ট পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে রিয়াদকে। পাকিস্তান বা শ্রীলঙ্কা সফরেও ক্যারিয়ার শেষ করতে পারেন তিনি।তবে টিম ম্যানেজমেন্ট সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
২০২৩ বিশ্বকাপেই মূলত নিজের সামর্থ্যের শেষ প্রদর্শনী করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ। ব্যাট হাতে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করেছিলেন তিনি, দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে মুম্বাইয়ে দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিও উপহার দেন। এরপর আফগানিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে টানা ভালো খেলেও জায়গা ধরে রাখা কঠিন হয়ে ওঠে। বিসিবির ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় যে তিনি নেই, সেটাও স্পষ্ট হয়ে যায়।
দুই বছর আগেই মাহমুদউল্লাহ বলেছিলেন, অন্তত দুই বছর খেলতে চান। সেই সময় শেষ হয়েছে। জাতীয় দলে বড় কিছু করে দেখাতে না পারলেও বিপিএলে দুইবার শিরোপা জিতেছেন। এখন মূল অপেক্ষা তার বিদায়ের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আর বোর্ডের পরিকল্পনার। বিসিবি সভাপতি ফারুক আহমেদ দেশে ফিরলেই সবকিছু চূড়ান্ত হবে।
ক্রিকেটপ্রেমীদের অপেক্ষা, মাহমুদউল্লাহর জন্য সত্যিকারের এক রাজকীয় বিদায়ের!
খবরওয়ালা/এসআর