রাতুল হরিৎ
প্রকাশ: রবিবার, ৩০ মার্চ ২০২৫
মনের সিন্ধুতে জাগে বালুচর
এক ফোঁটা জলের জন্য
বেজান দৌড়াচ্ছি
বুক ফেটে যাচ্ছে তৃষ্ণায়
নদীর কাছে
এক আঁজলা জল চাইলাম
নদী বলল—
আমার ঘাটলাগুলো শুকিয়ে মরছে
যাও অন্য কোথাও
দিগ্বিদিক দৌড়াচ্ছি
ক্লান্ত শরীরে ছটফট করছি
জল-টইটম্বুর কত নদী
কোনো নদীই দিল না
এক ফোঁটা তৃষ্ণার জল
হঠাৎ ধু ধু বালুচর বলে—
হাত পাতো
বুকের অতল খুঁড়ে খুঁড়ে
তোমার জন্য নিয়ে এসেছি
বিন্দু বিন্দু জল।
চোখের ডাক্তার খুঁজছি
আজকাল পিঁপড়েটাকে হাতির মতো দেখায়
হাতিটা পিঁপড়ের মতো
পিঁপড়েরা হাতির মতো দাবড়ে বেড়ায় বনবাদাড়ে
আর হাতিগুলো মাথা কুটে মরে পিঁপড়ের ঘরে।
কিছু নেড়িকুত্তারও জেদ চেপে যায় মানুষ হবে বলে
একটু একটু হচ্ছেও
বিকাশে নয় বিকারে
ওরা ঘেউ ঘেউ ছেড়ে মঞ্চ কাঁপায়
হুক্কাহুয়া বলে
একদা লাভ লোভের বিপর্যয় আসে
শেষ পর্যন্ত অমানুষের অবয়বে ওরা থেমে যায়।
মানুষের মতো ওরা আসলে অমানুষ।
ঘটনাটা সত্য— অন্তর্জাত বিবর্তন এখানে এসে থেমে যায়
চোখ চর্চার মুদ্রিত রূপ গ্রন্থ অথবা
চোখেও আজকাল উইপোকার উৎপাত
এদিকে দৃষ্টি বিভ্রম—
আমার চোখ দেখানো দরকার
ভালো একজন চোখের চিকিৎসক
কোথায় পাওয়া যায়?
মুহূর্ত
তারুণ্যের দাপটে টের পাইনি বুদ্ধি-বিবেচনার অস্তিত্ব
এমন অনেকেরই হয়েছে
সুমিষ্ট ইক্ষুদণ্ড ভেবে লৌহদণ্ড চিবিয়েছে
চতুর যারা আখের গুছিয়ে নিয়েছে
আমরা বোকারা তো বুঝতেই পারিনি এত দিন
আমরা চলছিলাম স্বপ্নের উন্মাদনায়
বন্দুকের মুখে মৃত্যুর ঠিকানায়
আহা, দ্বিধাহীন মুহূর্তগুলো
এখন কামড়ে ধরেছে ইতিহাস
চারদিকে হিস হিস শ্বাপদের
বিষাক্ত নিশ্বাস।
মুহূর্তেই মুহূর্ত চলে যায়—
এ এক মহাজাগতিক সত্য
তবু কিছু মুহূর্তের মূর্ছনা
মুছা যায় না কখনো।
বৃন্তচ্যুত হবার আগে ফুল, পরেও তা
শুধু শাব্দিক ক্ষোভ-বিক্ষোভে
যা বলি— তা যতটা না শব্দে
তার থেকে বেশি শব্দোত্তর অনুভবে।
রূপক মুড়িয়ে ধরি সময়ের যন্ত্রণা
একটা পৃথিবী একটা ঘর
ইজমের কারাগার ভেঙে দেখি
জীবন অনেক সুন্দর।