বুধবার, ২৯ই এপ্রিল ২০২৬, ১৬শে বৈশাখ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ই এপ্রিল ২০২৬, ১৬শে বৈশাখ ১৪৩৩
ব্রেকিং নিউজ :
টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা টানা বৃষ্টিতে দেশের চার নদীর পানি বিপৎসীমা ছাড়াল, পাঁচ জেলায় বন্যা সতর্কতা সুবর্ণচরে মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু: বজ্রপাত নয়, আত্মহত্যা বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ আওয়ামী লীগের নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে জাতিসংঘে ১৭৩ আইনজীবীর আবেদন যাত্রী সেজে কাস্টমস কর্মকর্তাকে হত্যা, গ্রেপ্তার ৫ ইরান চাইলে আলোচনা করতে পারে: দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক নিয়ে ট্রাম্পের নতুন বার্তা শাহবাগে সাংবাদিক আহত ঘটনায় তদন্তে ছাত্রদল কমিটি বগুড়ায় বিএনপি নেত্রীর প্রক্সি পরীক্ষায় অংশ নিতে গিয়ে কলেজছাত্রী আটক হরমুজে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করাতে ওমান উপকূলে জাহাজে ইরানি বাহিনীর হামলা ভোলায় নদীপথে চার হাজার দুইশ লিটার পেট্রোল জব্দ কুষ্টিয়া-৩ আসনের এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

ঈদ সংখ্যা ২০২৫

গল্প

মৃত্যুমিতা

হাসান মাহবুব

প্রকাশ: সোমবার, ৩১ মার্চ ২০২৫

মৃত্যুমিতা
ছবি: খবরওয়ালা গ্রাফিক্স

তার সাথে আমার দেখা হয়েছিল বছরখানেক আগে। আমি রাস্তা পার হচ্ছিলাম, হঠাৎ করে সিগন্যাল অমান্য করে একটা ট্রাক দ্রুতবেগে আমার দিকে চলে আসতে লাগল। সামনে বা পেছনে কোথাও যাবার সুযোগ নেই । এই তাহলে মৃত্যু! আমি নড়াচড়া করার শক্তি হারিয়ে ফেলেছি, মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে তাকিয়ে আছি যন্ত্রদানবের দিকে,  ঠিক সেই সময় ট্রাকটি প্রচণ্ড রকম ব্রেক করে থেমে যায় আমার থেকে এক চুল দূরে। চেতনা হারানোর পূর্বে আমি একটা বিষণ্ণ মুখকে দেখি। তার বয়স অনুমান করা দুঃসাধ্য। এই গরমেও একটা লাল মাফলার পরা। খোঁচা খোঁচা দাড়ি। খাড়া নাক আর তার শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গের মধ্যে সবচেয়ে দ্রষ্টব্য হলো জ্বলজ্বল করতে থাকা দুটো চোখ। সে আমার কাছে এসে ফিসফিস করে বলল, ‘এই বেলা খুব বেঁচে গেলে, মেয়ে! তবে তোমার সাথে আমার দেখা হবেই একদিন না একদিন। তৈরি থেকো।’

সেই প্রথম আমার মৃত্যুর সাথে দেখা। এত দিন জেনে এসেছি মৃত্যু একটা বিমূর্ত ব্যাপার, কিন্তু আমার এ ধারণা ভুল ছিল। আমি তাকে কায়ারূপে দেখেছি। মৃত্যুর সাথে আমার সখ্য নতুন নয়। অভিমানী এক বালিকা আমি, সামান্য কারণে গাল ফুলিয়ে কাঁদতে কাঁদতে চোখ ফুলিয়ে মৃত্যুকে ডেকেছি কতবার! কিন্তু তখন মৃত্যু আমাকে তার নিজ চেহারায় দেখা দেয়নি। অবশেষে সেদিন দেখা দিয়ে গেল সে! আমি তার প্রেমে পড়ে গেলাম। তার মাঝে রয়েছে একটা নাছোড় ভাব, সে কাউকে পরোয়া করে না। তার আশ্চর্য শীতল দুই চোখে তাকালে হু হু করে ওঠে বুক। সৃষ্টির আদি লগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত যারা মারা গেছে, তাদের আত্মারা তার মুঠোর ভেতর থেকে এক কোরাস গাইতে থাকে। তার খাড়া নাকের ঔদ্ধত্য আর তীক্ষ্ণ কানের বিচক্ষণতায় নৃশংস সুরে অর্কেস্ট্রা বাজে। আমি মোহগ্রস্ত হয়ে পড়ি। অদ্ভুত এ সুর। ভয়ংকর এ সুর। সবাই এই সুরের মর্মার্থ অনুধাবন করতে পারে না। কিন্তু আমি পারলাম। বেশির ভাগ মানুষই জীবনের শেষ মুহূর্তে বেঁচে থাকার আকুল অন্বেষায় আরও একটু সময় চায় আকুল হয়ে। মৃত্যু তাদের কাছে এক বিমূর্ত আতঙ্কলিপি। আমি সেই সৌভাগ্যবানদের একজন, যে মৃত্যুর নিষ্ঠুর সৌন্দর্যকে অবলোকন করতে পেরেছি। এ জন্য আমি সেই ভয়ংকর গতিতে ছুটে আসা ট্রাকটিকে মনে মনে ধন্যবাদ জানাই।

সেই দিনের পর থেকে আমার কেবল উন্মনা আর উদাস উদাস লাগে। কবে আবার দেখা পাব মৃত্যুর? কবে তাকে জড়িয়ে ধরব? কবে তাকে চুম্বন করব? কবে তার হিমশীতল হাতটা নিজের হাতে ধরে ঠান্ডা ঠান্ডা অনুভবে তিরতির করে কাঁপতে থাকব? এভাবে তার কথা ভাবতে ভাবতে আমি এতটাই মরিয়া হয়ে গিয়েছিলাম যে আবারও আত্মহত্যার চেষ্টা করি আমি। ব্লেড দিয়ে হাতের শিরা কেটে দিই। কিন্তু এরপর অনেক রক্ত ঝরল, প্রাণবায়ু প্রায় বের হয়ে যাবার উপক্রম হলো, কিন্তু তার দেখা আর পেলাম না। পরবর্তী সময়ে এটা নিয়ে আমি অনেক ভেবেছি। ভেবে ভেবে এই উত্তর পেয়েছি যে নিজেকে ধ্বংস করে দেওয়া বা আত্মহত্যার চেষ্টা করলে সে দেখা দেয় না। ইচ্ছা করলেই তাকে ডেকে আনা যায় না, এমন অহম তার। তবে কেউ যদি নিজের অনিচ্ছায় মারা যেতে থাকে এবং সে যদি মৃত্যুকে ভালোবাসা দিয়ে বরণ করার জন্য প্রস্তুত থাকে, তবে সে দেখা দিলেও দিতে পারে। এসব ভাবি আর হতাশায় নুয়ে পড়ি ক্রমশ। কবে তার দেখা পাব? শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত নিই তাকে চিঠি লেখার। সে হবে আমার পত্রমিতা। মৃত্যুকে পত্রমিতা করার চিন্তা কে কবে করেছে! কিন্তু আমার এ ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। একদিন এক ঘোরলাগা রাত্তিরে তাকে আমি প্রথম পত্রটি লিখি :

প্রিয় মৃত্যুমিতা,

কেমন আছ তুমি? আমাদের এই অশ্লীল, অসাড় এবং ফুর্তিবাজ জীবন থেকে মুক্তি পেতে খুব ইচ্ছা করে আমার। তোমার শীতল চোখের ভেতর আমি যে অমোঘ আহ্বান দেখেছি, তা নাকচ করার সামর্থ্য আমার নেই। কিন্তু তোমার কাছে যাবার উপায়টাও ভীষণ বিটকেলে। কবে না কবে আমার অসুখ হবে, অথবা দুর্ঘটনায় পতিত হব, তা কে জানে! আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে দেখেছি, তাতে তোমার সায় নেই। কেন যে এত দূরত্ব তৈরি করে রাখো! তুমিহীনা আমার প্রতিটি পল কাটছে অপেক্ষার অসহনীয় যন্ত্রণায়। কবে দেখা দেবে আমায়? আমি জানি পৃথিবীতে তোমার খুব ব্যস্ত দিন যায় সব সময়ই। যুদ্ধ, দুর্ঘটনা, অসুখ, আত্মহত্যা—কত রকমভাবেই না মানুষ মারা যাচ্ছে! বর্ধিত হচ্ছে তোমার রাজপ্রাসাদ। সেই প্রাসাদের রানি হয়ে থাকতে চাই আমি। আমাকে অবহেলা কোরো না, প্লিজ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দেখা দাও। আমাদের এখানে সবাই তোমাকে ঘৃণা করে, ভয় পায়। প্রেমে ব্যর্থতা, কর্মহীনতা, অভাব, ক্ষুধার তাড়নায় অনেকে তোমাকে কামনা করে। সুখের অসুখে ভোগা ঐশ্বর্যমণ্ডিত জীবন উপভোগ করা মানুষেরাও নানা রকম মানসিক জটিলতায় আক্রান্ত হয়ে তোমাকে কাছে পেতে চায়। তুমি রোজদিনের নিয়ম করে অফিস করা কেরানিদের মতো তাদের কাছে গিয়ে তোমার কর্ম সম্পন্ন করো। কিন্তু তাদের কাউকে তুমি ভালোবাসো না বা তারা কেউ তোমাকে আমার মতো আপন করে দেখে না। সেদিনের সেই সর্বনাশা গোধূলির আলোয় তোমার চোখে আমি আমার সর্বনাশ দেখেছি। এখন পার্থিব বা জীবন্ত সবকিছুই আমার কাছে বিরক্ত লাগে। আমাকে নিয়ে যাও এখান থেকে, তা না করলে অন্তত একবার হলেও দেখা দাও! একপলকের দেখার সুখে আমি কাটিয়ে দিতে পারব বাকি জীবনটা।

ইতি

মৃন্ময়ী

চিঠি তো লেখা হলো, এখন পোস্ট করা যায় কোথায়? অনেক ভেবেচিন্তে আমাদের বাসার পাশের একটা শিউলিগাছে রেখে এলাম চিঠিটা সকালবেলা। এর পরের কয়েক দিন আমার কাটল কিশোরীসুলভ চপলতায়। মেয়েরা প্রথমবার প্রেমে পড়লে যেমন আচরণ করে, ঠিক তেমনই ছিল তা। অধৈর্য, অস্থির, চিন্তাক্লিষ্ট, হাওয়াই মনোভাব! যে কেউ আমাকে দেখলেই আচরণের পার্থক্যটা বুঝতে পারত এবং জিজ্ঞেস করত, ‘কী হয়েছে, মৃন্ময়ী? এত খুশি কেন? প্রেমে পড়েছ নাকি?’ আমিও কিছুটা রাঙা হয়ে তাদের প্রশ্নগুলোকে চাতুর্যের সাথে পাশ কাটিয়ে চলে যেতাম। এরপর হঠাৎ একদিন…মৃত্যুমিতার কাছে চিঠি পাঠানোর মাত্র তিন দিন পরই আমি তার জবাব পেলাম। রাতের বেলা বিছানা গোছগাছ করে যখন শোবার প্রস্তুতি নিচ্ছি, তখন বালিশটা সরাতেই একটা খাম বেরিয়ে পড়ল। কালচে খয়েরি রঙের একটা খাম, তার ভেতরে একটা চিঠি। আমার আর তর সইছে না পড়ার…

প্রিয় মৃন্ময়ী,

তোমার চিঠি পড়লাম। সত্যি কথা বলতে কি, সেদিন তোমার সেই ভীত হরিণীর মতো চাহনি আমার মধ্যে একটা সম্পূর্ণ অন্য রকম অনুভূতির জন্ম দিয়েছে। আমি খুব করে চাচ্ছিলাম ট্রাকটা তোমাকে চাপা দিক, যেন আমি তোমাকে আমার রাজ্যে নিয়ে আসতে পারি। আমি কখনো ভাবিনি এই সব আমাকে বিন্দুমাত্র স্পর্শ করবে। আমি তো আর রক্তে-মাংসে গড়া মানুষ নই! যদিও তুমি সেদিন আমাকে একটা অবয়বে দেখেছ। আমার নির্দিষ্ট কোনো চেহারা নেই। তোমার দেখাটাই তোমার কাছে ঠিক। আমি কখন কার কাছে কীভাবে আবির্ভূত হই, তার কোনো ঠিকঠিকানা নেই। হাজার লক্ষ কোটি বছর ধরে আমার এই পথচলায় মানবিকবোধে আপ্লুত হইনি কোনো দিন। হওয়ার কথাও ছিল না। কিন্তু বিধাতার খেয়ালি আচরণে সেটাও সম্ভব হলো! হ্যাঁ, মৃন্ময়ী, আমি তোমাকে ভালোবেসে ফেলেছি। আমি মৃত্যু, আমার কোনো অনুভূতি থাকতে নেই। আমি বসনিয়া, ফিলিস্তিন, সুদানে গিয়ে শিশু, নারী, যুবা—সবার প্রাণ সংহার করেছি, গ্রাম থেকে গ্রামে কলেরা মহামারি ছড়িয়ে পড়লে সেখানে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছি, ভূমধ্যসাগরে জাহাজডুবির পর ডুবন্ত মানুষের ছটফটানি বন্ধ করে দিয়েছি নিমেষেই। তারা এখন কোন কবরস্থানে কঙ্কাল হয়ে শুয়ে আছে কে জানে! কিন্তু সেদিন যে কী হয়ে গেল! তুমি ছিলে একটু বেখেয়াল, তোমার দিকে ছুটে আসছিল দানব ট্রাক। আমি মনেপ্রাণে চাইছিলাম ট্রাকটা তোমাকে ধাক্কা দিক। তারপর তুমি মারা গেলে আমি তোমাকে নিয়ে যাব আমার প্রাসাদে। সেখানে হাড্ডি, চামড়া, মাংসের সংগ্রহ আছে, নেই কোনো সদ্য মৃত তরুণীর অভিমানব্যাকুল মুখ। তোমাকে দিয়ে আমি সেই ইচ্ছা পূরণ করতে চাইছিলাম। জানি, প্রকৃতি এমন হতে দেবে না। কিন্তু আমিও নাছোড়বান্দা। আমার কাছে তোমাকে নিয়ে আসবই। আমি জানি তুমিও সেটাই চাও। তবে দয়া করে আত্মহত্যা কোরো না। ঈশ্বরের কাছে এসব ফন্দিফিকির চলে না। সে ঠিক বুঝে ফেলবে আর তোমাকে আমার থেকে অনেক দূরে নিয়ে রাখবে। আমাদের মাঝে অসংখ্য প্রতিকূলতা, আবার দেখা হতে চাইলে আমাদের খুব সাবধান থাকতে হবে। ভালো থেকো। 

ইতি,

তোমার মৃত্যুমিতা

চিঠি পেয়ে প্রথমে যতটা আনন্দিত হয়েছিলাম, শেষ করার পর ঠিক ততটাই বিষণ্ণতা গ্রাস করল আমাকে। এত বাধা আমাদের মিলনে! তবে আমিও হাল ছাড়ছি না। পার্থিব প্রেমে আমার অরুচি ধরে গেছে অনেক আগেই। খুব কাছ থেকে দেখেছি প্রেমের আবরণে লোভ, কাম, অবিশ্বস্ততা। দেখেছি ভিড়ের মাঝে সুযোগসন্ধানী যুবক, পাড়ার মাস্তান ছেলেদের লোভী চোখ, কামুক টিউটর, পারভার্ট আঙ্কেল, প্রবঞ্চক প্রেমিক। জীবনকে আমার অনেকভাবে দেখা হয়ে গেছে। তাতে কলুষতা প্রকট। মৃত্যুর মাঝে যে আশ্বস্ততা আছে, তা আর কোথাও নেই। এখন সময় শুধু অপেক্ষার। কবে আমার অসুখ করবে, কবে একটা দুর্ঘটনা ঘটবে, যা মৃত্যুকে নিশ্চিত করবে, অপেক্ষার প্রহর আর ফুরায় না। এই অপেক্ষার সময়টা চিঠি লিখে কাটিয়ে দেওয়াই ভালো। আমি আবার তাকে চিঠি লিখতে বসলাম :

প্রিয় মৃত্যুমিতা,

আমার সারাক্ষণ কাটে তোমার ভাবনায়। আমার শুধু ইচ্ছা করে সেই দিনটায় ফিরে যেতে, যেদিন আমি অল্পের জন্য ট্রাক দুর্ঘটনা থেকে বেঁচে যাই। বেঁচে থাকার মতো কুৎসিত ব্যাপার আর কিছু নেই। সেদিন আমাদের ডিপার্টমেন্টের একটা ছেলে ইনিয়ে-বিনিয়ে নানা কথা বলে আমাকে প্রপোজ করল। জবাবে আমি বললাম, ‘সরি, আমি এনগেজড।’ ডিপার্টমেন্টের সবাই জানত আমি সিঙ্গেল, তাই আমার এনগেজড হবার ঘটনা দ্রুত চাউর হতে লাগল। সবার মধ্যে কী দুর্দম উৎসাহ আমার জুড়ি কে সেটা জানার জন্য! তাদের আমি কী বলি বলো তো? তোমার ব্যাপারটা বললে তারা আমাকে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে জ্বালিয়ে একদম যা-তা একটা অবস্থা করে ফেলবে। তাই আমি মৌনব্রত পালন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। ভালো করেছি না, বলো? আজকাল খবরের কাগজে মৃত্যুসংবাদগুলো খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে পড়ি। বিশেষত তরুণী মেয়েদের মৃত্যুগুলো। তুমি আবার অন্য কারোর ভেতর মজে যাবে না তো? সে রকম হলে কিন্তু খুব খারাপ হবে বলে দিচ্ছি! এই দেখো না! আমার কথার ভেতরে কেমন একটা অধিকারবোধের সুর টের পাওয়া যাচ্ছে না? তা অধিকার একটু যদি তোমার ওপর না ফলাই তো কার সাথে ফলাব, বলো তো? জীবনটা কেন যে এত দীর্ঘ! পালানোর সকল পথ রুদ্ধ হয়ে আসছে। ক্রুদ্ধ যন্ত্রণায় কাটে আমার দিন। এর পরের বার তোমার সাথে দেখা হলে তোমার মাথার চুল এলোমেলো করে দেব আমি। তোমার হাত ধরব শক্ত করে। খামচে ধরব কাঁধ। তোমার সবল কাঁধে সওয়ার হয়ে আমরা উড়ে যাব আমাদের স্বপ্নশহরে…

ভালো থেকো, চুমু নিয়ো

মৃন্ময়ী

আজ কলেজ থেকে ফেরার পথে কিছু বখাটে ছেলে আমার পিছু নিয়েছিল। তারা অশ্রাব্য সব খিস্তি করছিল আমায় দেখে। আমি দ্রুতপায়ে হাঁটতে লাগলাম। কিন্তু তাদের সাথে পেরে ওঠা সম্ভব ছিল না আমার পক্ষে। রাস্তাটি ছিল বেশ নির্জন। তারা আমাকে রাস্তার শেষ প্রান্তে গিয়ে ঘিরে ধরল। আমার শরীরে হাত দিল…

কী খবর, মৃন্ময়ী, একা একা কই যাও? আমাদেরও সাথে নাও!

আমরা তোমাকে অনেক সুখ দেব, চলো না সেই পোড়োবাড়িটায়! আমাদের যন্ত্রগুলো কিন্তু সেই রকম লম্বা আর মোটা, চলো চলো!

লজ্জায়, অপমানে সেই মুহূর্তে আমার মনে হচ্ছিল মরে যাই। আমি তখন কাতর হয়ে কার কথা মনে করছিলাম, বলো তো? বাবা-মা নয়, ভাই-বোন নয়, উপকারী প্রতিবেশী কিংবা উপযাচক হয়ে এগিয়ে আসা একদল অপরিচিত মানুষ নয়, হ্যাঁ, আমি তোমার কথা ভাবছিলাম। শুধু তোমাকেই ভাবছিলাম। তুমি কেন আসছ না ঘাতক বাস-ট্রাক হয়ে চাপা দিতে, অথবা নির্মাণাধীন ভবন থেকে ইট-সুরকি হয়ে পড়ে আমার মৃত্যু নিশ্চিত করতে? ওরা আমাকে হেনস্তা করছিল, ওরা আমার শ্লীলতাহানি করছিল, আর আমি কায়মনে তোমাকে ভাবছিলাম। কেন আসছ না তুমি? আমাকে ওরা এইভাবে অসম্মানিত করছে আর তুমি চেয়ে চেয়ে দেখছ? প্লিজ, আসো, প্লিজ! হঠাৎ দূর থেকে একটা পুলিশের গাড়ি এখানে চলে আসছে দেখে ওরা কেটে পড়ল। আমি বেঁচে গেলাম। কিন্তু এই বেঁচে থাকা তো আমি চাইনি। ওরা কেন আমাকে লোহার রড দিয়ে পিটিয়ে পিটিয়ে মেরে ফেলল না? ওরা কেন আমার গলায় ছুরি ঢুকিয়ে দিয়ে একটা সুন্দর রক্তপ্রপাত তৈরি করল না? কেন তোমার কাছে যেতে এত অপেক্ষা আর প্রতিবন্ধকতা? কেন!

তিন দিন হয়ে গেল, চিঠির কোনো উত্তর দিলে না। ভালো লাগছে না কিছু।

পাঁচ দিন হয়ে গেল তোমার চিঠি নেই। আমি রীতিমতো উদ্বিগ্ন হয়ে উঠছি।

সাত দিন হয়ে গেল কোনো খবর নেই তোমার। আমার নাওয়া-খাওয়া বন্ধ। অসুস্থ হয়ে যাচ্ছি। বাড়ির সবাই আমাকে বড় বড় ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাচ্ছে। তাদের দেওয়া কত্ত রকম টেস্ট! সবকিছুই নাকি ঠিক আছে। এসব দেখে এই এত দুর্বল শরীরেও আমার হাসি পায়। কী বোকা ওরা সবাই! ওরা যদি জানত আমার অসুস্থ হবার আসল কারণ, তাহলে যে কী করত, আমি তা-ই ভাবছি!

দুই সপ্তাহ হয়ে গেল তোমার চিঠি নেই। আমার শরীর খুব খারাপের দিকে। আমার নাকে নল বসিয়ে ওরা খাইয়ে দিচ্ছে আমায়। সব রকম চিকিৎসাই বিফলে যাচ্ছে। এই কদিনে আমি জেনেছি, মন যদি সিদ্ধান্ত নেয় যে সে মারা যাবে, তখন কোনো ওষুধ-পথ্যেই কাজ হয় না। হঠাৎ করে আমি তোমার এই অবহেলার আসল কারণ বের করে ফেললাম! এটা তোমার এক সূক্ষ্ম চাল! তুমি জানতে, যদি আমায় চিঠি না দাও, তবে আমার এই পরিণতি হবে, আমি ধীরে ধীরে এগিয়ে যাব মৃত্যুর দিকে। তারপর তোমার আমার দেখা হবে, আর কোনো বাধা থাকবে না।

তিন সপ্তাহ কেটে গেল। হাসপাতালের বেডে প্রায় মিশে গিয়ে শুয়ে আছি আমি। হঠাৎ বালিশের নিচে একটা ছোট্ট চিরকুট আবিষ্কার করলাম। ‘সে’ লিখেছে।

মৃন্ময়ী,

ওরে বোকা, গাধী মেয়ে, তোর সাথে আমার সম্পর্ক শেষ। মৃত্যু আর সাপকে কখনো বিশ্বাস করবি না। অনেক হয়েছে, আর না। যেদিন ট্রাকের নিচে চাপা পড়ে তুই মরতে নিয়েছিলি, সেদিন আমার আমি একটু ফ্লার্ট করেছিলাম আরকি তোর সাথে। একটা চিঠিও দিয়েছিলাম তোকে বিভ্রান্ত করতে, একটু পরীক্ষা করে দেখতে। তোর মতন ভাবনাবিলাসী কিম্ভূত মেয়ে, যারা কিছু হলেই আত্মহত্যা করার চেষ্টা করে, তারা আমার কাছে অবর্ণনীয় রকম হাস্যকর এক বস্তু। মৃত্যুকে নিয়ে রোমান্টিসিজমে ভোগা, না? সবকিছু থাকা সত্ত্বেও জীবনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে যারা আয়েশি মৃত্যুবিলাসিতায় ভোগে, তাদের জন্য বিন্দুমাত্র অনুকম্পা নেই আমার। তুই মরতে চেয়েছিলি, না? মৃত্যুকে দেখতে চেয়েছিলি না? তবে তা-ই হোক! তাকা তোর বিছানার পাশে।

ইতি,

মৃত্যু।

অকল্পনীয় রকম নিষ্ঠুর এবং অবজ্ঞা করা লেখাটা পড়ে আমি বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকলাম কিছুক্ষণ। বিছানার পাশে তাকিয়ে দেখি, একজন বুড়ো থুত্থুরে, শকুনচোখা, নোংরা একজন লোক আমার দিকে তাকিয়ে আছে ক্রূর হাসি হেসে। হঠাৎ করে আমার ভীষণ খারাপ লাগতে থাকে। নিশ্বাস নিতে পারছি না আমি, হৃৎপিণ্ডটা বাচ্চা খরগোশের মতো লাফাচ্ছে, আমি বুঝতে পারছি এটাই মৃত্যু। আমি বুঝতে পারছি আর বেশিক্ষণ আমার দম নেই। একটু নিশ্বাসের জন্য আমি হাঁচড়-পাঁচড় করতে থাকি। আশপাশে তাকিয়ে কোনো প্রিয় মুখের খোঁজ করতে থাকি, যে আমাকে রক্ষা করবে মরণের হাত থেকে। কিন্তু ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গেছে। ভয়ংকর চেহারার বৃদ্ধের রূপে আসা মৃত্যু আমার দিকে তাকিয়ে হা হা করে হাসে। হাসতেই থাকে।