খবরওয়ালা আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: 23শে চৈত্র ১৪৩১ | ৬ই এপ্রিল ২০২৫ | 1149 Dhu al-Hijjah 5
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে উত্তেজনা বৃদ্ধি পাওয়ার মধ্যে ইসরায়েলে দ্বিতীয় ‘থাড’ (অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা) পাঠিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। সৌদি আল-হাদাত চ্যানেলের বরাতে টাইমস অব ইসরায়েল রবিবার (৬ এপ্রিল) এই খবর জানায়। ধারণা করা হচ্ছে, থাড শনিবার (৫ এপ্রিল) সরবরাহ করা হয়েছে।
ফ্লাইট ট্র্যাকিং ওয়েবসাইটগুলো জানায়, মার্কিন বিমান বাহিনীর বৃহত্তম পরিবহণ বিমান, একটি সি-ফাইভএম সুপার গ্যালাক্সি, দক্ষিণ ইসরায়েলের নেভাটিম বিমানঘাঁটিতে অবতরণ করে এবং প্রায় আট ঘণ্টা সেখানে অবস্থান করে, এরপর আবার উড্ডয়ন করে।
থাড বা টার্মিনাল হাই অল্টিটিউড এরিয়া ডিফেন্স সিস্টেম, একটি উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র-বিরোধী ব্যবস্থা। ইসরায়েলে মোতায়েন করা থাড সিস্টেমটি ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীদের ইসরায়েলে নিক্ষেপ করা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়েছে। গত বছর প্রথম থাড ব্যাটারি ইসরায়েলে পাঠানো হয় এবং সিস্টেমটি পরিচালনার জন্য প্রায় ১০০ মার্কিন সেনা মোতায়েন করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ব্যাটারিটি প্যাট্রিয়ট সিস্টেমের পরিপূরক হিসেবে কাজ করে, তবে বিস্তৃত এলাকা রক্ষা করতে পারে, যার পরিসর ১৫০-২০০ কিলোমিটার (৯৩-১২৪ মাইল) পর্যন্ত হতে পারে।
‘থাড’ কী?
‘থাড’ একটি অত্যাধুনিক ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, যা স্বল্প, মাঝারি এবং মধ্যবর্তী-পাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র আটকাতে সক্ষম। এটি একমাত্র মার্কিন সিস্টেম যা বায়ুমণ্ডলের ভিতরে ও বাইরে উভয় জায়গায় লক্ষ্যবস্তু আক্রমণ করতে সক্ষম।
‘থাড’ কীভাবে কাজ করে?
ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের পর, তার ‘টার্মিনাল ফেজ’ বা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার পূর্বের চূড়ান্ত পর্যায়ে সেগুলোকে আটকাতে সক্ষম হয় ‘থাড’। এটি বায়ুমণ্ডলের ভিতরে এবং বাইরে (এন্ডোএটমস্ফিয়ারিক এবং এক্সোএটমস্ফিয়ারিক) উভয় ক্ষেত্রে ক্ষেপণাস্ত্রকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এটি স্বল্প, মাঝারি এবং মধ্যবর্তী পাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র আটকে রাখতে সক্ষম এবং বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির সঙ্গে সহজেই মানিয়ে নিতে পারে।
‘থাড’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য:
‘থাড’-এ কোনো বিস্ফোরক ওয়ারহেড নেই। এটি গতিশক্তি ব্যবহার করে লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করে। অর্থাৎ, এটি কোনো ওয়ারহেড বিস্ফোরণ না ঘটিয়েই নিজের শক্তি দিয়ে আগত ক্ষেপণাস্ত্রকে আঘাত করে।
সূত্র: টাইমস অব ইসরায়েল
খবরওয়ালা/আরডি